আইপিএইচ স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৪ ০৩:২৬:৩২

আইপিএইচ স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

ঢাকা প্রতিনিধি: রাজধানীর মহাখালীতে ইন্সটিটিউট অব পাবলিক হেলথ্ (আইপিএইচ) স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধির এক সদস্য মোঃ মিজান ওরফে অটো শামীমের একের পর এক বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উক্ত স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তার কর্মকান্ডে স্কুল কর্তৃপক্ষও বিব্রত। 

স্কুলের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মোঃ মিজানের ফেসবুকে করা একাধিক পোস্টে দেখা যায়, তিনি যেই স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি সেই স্কুলের নামের বানানেই একাধিক ভুল লিখেছেন। এনিয়ে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

তিনি তার ফেসবুক একাউন্টে আইপিএইচ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক রুমে শিক্ষকদের সাথে আলোচনার একটি মূহুর্তের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন - শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের সাথে মিটিং। এই পোস্টেও স্কুলের নামের বানানসহ এক লাইনের লেখায় একাধিক ভুল বানান লিখেছেন। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। একজন কমেন্ট করেছেন, যার নিজের মধ্যে শিক্ষা নেই, সে করবে শিক্ষার মান উন্নয়ন?

মোঃ মিজান আইপিএইচ স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিজেকে মস্ত বড় বিচারক হিসেবে উপস্থাপন করতে মরিয়া। তিনি নিজেকে অনেক বড় জনপ্রতিনিধি মনে করতে শুরু করেছেন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিচার শালিস করে বেড়ান। সেই বিচার শালিসের ভিডিও আবার নিজের ফেসবুক একাউন্টে শেয়ার করেন। স্থানীয়রা মনে করেন, অযোগ্য ব্যক্তিকে বড় জায়গায় বসালে যা হয় আরকি! 

তার ফেসবুক একাউন্টে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের ভিতরে ১১-১২ বছরের দুই শিশুর বিচার করছেন। তাদের অপরাধ তারা ইভটিজিং করেছে। ভিডিওতে দেখা যায় মিজান দুই শিশুকে বেত দিয়ে আঘাত করছে। পরে কানে ধরে উঠবস করিয়ে ছেড়ে দেন। 

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দুই শিশু মূলত পথশিশু। নিজেকে মস্তবড় বিচারক হিসেবে উপস্থাপন করতে তাদের রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে ভিডিও বানিয়ে ছেড়েছে মিজান। 

মিজানের এসব কর্মকাণ্ডে বিব্রত স্কুল কর্তৃপক্ষ। অনেক শিক্ষক তার এসব কর্মকাণ্ডে প্রতিবাদ করতে চাইলেও ভয়ে করতে পারেন না। কারন মিজান একজন পেশাদার সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে কথা বলে অনেকেই হয়েছেন এলাকাছাড়া।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ মিজান ওরফে অটো শামীম ২০নং ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি অটোরিকশা চালাতেন। শ্রমিক লীগ নেতা হওয়ার পর মহাখালী সাততলা বস্তির চাঁদাবাজির দখল নিয়ে পুরোনো পেশা বদল করেন। এবং রিকশা থেকেও চাঁদা তোলা শুরু করেন। 

গত ২ মার্চ, রাতে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সাততলা বস্তিতে দু'গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে সরাসরি অংশ নেয় মিজান ওরফে অটো শামীম। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-ও হয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় বনানী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। স্কুলের একজন অভিভাবক প্রতিনিধির‌ এভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের সন্তানরা কি শিখবে?

এর আগে নতুন কমিটিতে পদ না দেওয়ার জেরে নিজ সংগঠনের নেতা বনানী থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করেছিল মিজান। এই ঘটনায় বনানী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন নাসির উদ্দিন। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের হস্তক্ষেপে বিচার শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা হয়। বিচারে নাসিরকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেন মিজান। 

তারও আগে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করে মিজান। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় বনানী থানায় মামলা না নিলে আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই সাংবাদিক। পরে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।‌ 


প্রজন্মনিউজ২৪/এফএইচ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ