প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৭:০০:৪৪
সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) আসনের সদর উপজেলার মুন্সিকান্দি গ্রামে দুপক্ষের অস্ত্রসহ সংঘর্ষের চিত্র দেখা গেছে। পরে একটি ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
স্থানীয় সূত্র ও দুই পক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার বেলা ১২টার দিকে ওই আসনের বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন আহমেদের ফুটবল প্রতীকের সমর্থক জেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান মল্লিকের লোকজন মুন্সীকান্দি এলাকায় ভোট চাইতে গেলে বাগবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর সেখানে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষের অন্তত ১২ জন আহতের খবর পাওয়া যায়।
মূলত আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ–বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতনের লোকজন এই হামলায় চালায় বলে অভিযোগ তোলেন অন্যপক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি ও বেহেরকান্দি এলাকায় বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষের সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটে গত শনিবার। ঘটনার দুদিন পার হলে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
তবে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এই ঘটনায় অস্ত্রধারী ওই চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি গ্রামের দিদার দেওয়ানের ছেলে ফাহিম দেওয়ান, তোতা দেওয়ানের ছেলে একরাম দেওয়ান, মোতা সরকারের ছেলে একরামুল সরকার ও নাজির সরকারের ছেলে জিহাদ সরকার। এরা সবাই সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আলী ও মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আওলাদ হোসেন মোল্লার সমর্থক। তারা সবাই ওই আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
ঘটনায় জড়িত থাকার ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আলী ও মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আওলাদ হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এলাকায় খোঁজ নেওয়া হলে ঘটনার পর থেকে ‘কেউ এলাকায়’ নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন বলেন, মোল্লাকান্দির ঘটনা এলাকার আধিপত্যের ঘটনা নিয়ে ঘটেছে। এখানে নির্বাচনের কোন ঘটনা জড়িত না। বিএনপি ও নির্বাচনী পরিবেশকে বিতর্কিত করতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটাকে নির্বাচনকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব বলে প্রচার করছে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফুটবল প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন আহমেদের সাক্ষাত ও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য বলেন সাইদুর রহমান ফকির দাবি করেন, সংঘর্ষের দিন ফুটবল প্রতীকের জনসংযোগে অস্ত্র নিয়ে হামলা করে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন। মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন দখল ও নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য উজির আলীর লোকজন এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাইলে পুলিশ প্রশাসনকে তাদের নির্বাচনের আগেই গ্রেপ্তার করতে হবে।
সদর থানার ওসি মো. মমিনুল হক সোমবার বিকেলে জানান, যেহেতু ঘটনাটি নির্বাচনের সময়কালে ঘটেছে, তাই বিষয়টি জেলা রিটার্নিং অফিসার তদন্ত করে দেখছেন। তদন্তের পরে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশ মতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশ ইতোমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে চারজনকে শনাক্ত করেছে। এই সব কিছু এভিডেন্স নিয়ে কাজ চলছে, পুলিশ বসে নেই।
প্রজন্মনিউজ২৪
ভিডিওসহ ভাইরাল তবু ধরাছোঁয়ার বাইরে বিএনপির‘বিদ্রোহী’ও বিএনপি সমর্থিত অস্ত্রধারীরা
নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে জাপার রিট
হাতপাখায় ভোট দিলে দুনিয়াতে শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি মিলবে: রেজাউল করীম
তারেক রহমানই হবেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী: নুর
ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর শেষ নির্বাচনী গণমিছিল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ
জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতকে ভোট দিতে চায় ৪৬ শতাংশ নারী, বিএনপিকে ৪২ শতাংশ
রাষ্ট্র পুনর্গঠনে প্রস্তুত বিএনপি: তারেক রহমান
ভারতের বিপক্ষে খেলতে পাকিস্তানের ৩ শর্ত
একাত্তর ও মুক্তিযুদ্ধ না থাকলে জিয়াউর রহমান থাকে না, বিএনপিও থাকে না