তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দায় কার ঘাড়ে চাপছে

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০৪:০১

তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দায় কার ঘাড়ে চাপছে


মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের তৃতীয় দিনের আলোচিত বিষয় তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস। রোববার (১ মার্চ) কুয়েতের আকাশে নিরুপায় হয়ে যায় বর্তমান বিশ্বের সফল ও শক্তিশালী যুদ্ধবিমান এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল। একে একে মাটিতে আছড়ে পড়ে তিনটি ফাইটার জেট। প্রথমদিকে দাবি করা হচ্ছিল যে, যুদ্ধযানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে। পরে সেই দাবি অস্বীকার করে নতুন তথ্য দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

আলজাজিরা জানায়, আজ সোমবার (২ মার্চ) ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার (১ মার্চ) কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।

এক্সে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। কুয়েত এই ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। আমরা কুয়েতি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রচেষ্টা এবং চলমান অভিযানে তাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।

এদিকে এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ বিশ্লেষণ করে মার্কিন এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সম্পর্কে যেসব তথ্য পাওয়া যায় তার অন্যতম হলো এটি অজেয়। বিশ্বের অন্যতম এই রেকর্ডধারী যুদ্ধযান আকাশপথে যুদ্ধের ইতিহাসে ১০৪টি শত্রু বিমান ভূপাতিত করলেও আগে কখনো এগুলোকে কেউ ভূপাতিত করতে পারেনি। 

গতি ও উচ্চতায়ও আছে উল্লেখযোগ্য অর্জন। এটি শব্দের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি দ্রুত উড়তে পারে এবং প্রায় ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠতে সক্ষম।
        
ইরানের দাবি হলো...!!

কুয়েতে বিধ্বস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানে হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা কুয়েতে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে সোমবার (২ মার্চ) কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সে দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে সব পাইলটই নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের সক্ষমতা কুয়েতের আছে কিনা

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন তিন যুদ্ধবিমান কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবসত ভূপাতিত করেছে। এরপরই আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে যে দেশটির আসলে সেই সক্ষমতা আছে কিনা।

বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, কুয়েতের নিজস্ব একটি সুসংগঠিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। এটি মূলত তিনটি প্রধান শাখা— স্থলসেনা, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত।

দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আছে। তবে সেগুলো কোনটিই তাদের নিজেদের তৈরি নয়। সব বাইরে থেকে কেনা। এর মধ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে, যা ইরান-ইসরাইল সংঘাতের মধ্যে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট (পেএসসি-২ ও পিএসি-৩) মিসাইল সিস্টেম।

এছাড়া কুয়েতের কাছে আছে ইতালির তৈরি স্পাডা ২০০০ এবং নরওয়ের তৈরি নাসামস-এর মতো উন্নত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

ইরানের হামলা ঠেকাতে মূলত যেটি কুয়েত তথা যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে সেটি হলো প্যাট্রিয়ট। উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে কুয়েতে যত আঘাত হেনেছে ইরান তার প্রায় সব কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে প্যাট্রিয়ট দিয়েই ঠেকানো হচ্ছে। তাই সার্বিক বিবেচনায় ইরানের দাবি উড়িয়ে দিলে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ