গত ৪০ দিনে গাজার যেসব আর্তনাদ, যা দেখেনি বিশ্ব

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১৮:১২ || পরিবর্তিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১৮:১২

গত ৪০ দিনে গাজার যেসব আর্তনাদ, যা দেখেনি বিশ্ব

দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বুধবার (৮ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে বিশ্ববাসীর নজর যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার দিকে, তখন ৪০ দিনে ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, এই ৪০ দিনে গাজায় চালানো দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর তিনটি প্রধান অমানবিকতার চিত্র সেভাবে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেনি।

১. ৪০ দিনের মধ্যে ৩৬ দিনই বোমাবর্ষণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলা যেন প্রতিদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। 

গত ৪০ দিনের মধ্যে ৩৬ দিনই গাজায় বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৪ দিন গাজায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে, গাজায় অন্তত ১০৭ জন নিহত এবং ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। 

কথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর গত ছয়(৬) মাসে ইসরাইল কয়েক হাজার বার সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এ সময়ে অন্তত ৭৩৮ জন গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। 

সামগ্রিকভাবে গাজার মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ এখন হতাহতের তালিকায়। নিহতের মোট সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। 

এমনকি বুধবার (৮ এপ্রিল) যখন বিশ্ববাসী ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা শুনছিল, ঠিক তখনই গাজায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত হন আল-জাজিরার সংবাদকর্মী মোহাম্মদ উইশাহ। 

২. চিকিৎসা ব্যবস্থার বিপর্যয়: মাত্র ৮ শতাংশ রোগী স্থানান্তর 

গাজার স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা এখন মৃতপ্রায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইল গাজার সমস্ত সীমান্ত পথ বন্ধ করে দেওয়ায় মুমূর্ষু রোগীদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ২০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিদিন ৫০ জন রোগীর চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। 

গাজা মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, বিগত ৪০ দিনে ৭ হাজার ৮০০ জন জরুরি রোগীর মধ্যে মাত্র ৬২৫ জনকে (মাত্র ৮%) বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইসরাইল। 

এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে ৪ হাজার শিশুসহ প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন সংকটাপন্ন রোগী মৃত্যুর প্রহর গুনছেন, যাদের জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। 

৩. খাদ্য ও ওষুধে কৃত্রিম সংকট, ২০ শতাংশ ত্রাণ সরবরাহ

এই সময়টায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে গাজায় কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। 

চুক্তিতে নির্ধারিত ২৩ হাজার ৪০০টি ট্রাকের বিপরীতে গত ৪০ দিনে মাত্র ৪ হাজার ৯৯৯টি ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। অর্থাৎ প্রতিশ্রুত ত্রাণের মাত্র ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ সেখানে পৌঁছেছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্লোবাল হাঙ্গার মনিটর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার ৭৭ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

সূত্র: আলজাজিরা 

প্রজন্মনিউজ২৪

এ সম্পর্কিত খবর

হাতিয়ায় ৮ লাখ টাকার তেল জব্দ, আটক ৪

বাজিতপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ট্রাক, চাপা পড়ে নিহত যুবক

মিরপুরে প্রশাসক ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে বিএনপি আ. লীগের পথেই হাটলো

’কবি চিতাবাঘ’ নাটক দেখতে বেইলি রোডে প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে তিনজন নিহত

বিতর্কিত মুনিরিয়া তাবলিগের বিরুদ্ধে জুলাই যোদ্ধার বাসায় লুটপাটের অভিযোগ

ঘেড়াঘাটে মাইক্রোবাস-ট্রাক সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ১০

অভয়নগরে গণভোটের রায় অমান্যের প্রতিবাদে জামাতের লিফলেট বিতরণ

ফেসবুক কে নিরাপদ করতে সরকারের কাছে ৫ দাবি টিক্যাবের

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ