মা শুধুই মা

প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২০ ০৮:২৪:৩৩ || পরিবর্তিত: ১০ মে, ২০২০ ০৮:২৪:৩৩

মা এবং শাশুড়ি দুইটি শব্দ আমাদের কাছে খুবই প্রিয়। তবে মা এর পর শাশুড়ি। মা শব্দটি সবচেয়ে বেশি মধুর।বাস্তবে মা ডাকটা অনেক ছেলেদের কাছে সবসময় মধুর নাও হতে পারে। মা শব্দটি সন্তানের বিয়ের আগে এবং পরে কতটুকু মধুর হয়, এ সম্পর্কে আমার কিছু কথা-

যে মায়ের পেটে ১০ মাস ১০ দিন ছিলাম। মায়ের পেটে আমি যখন নড়াচড়া করছি, মা তখন কত কষ্ট করেছিল ।মা যখন দাদির ভয়ে রান্নাবান্না করে , দুপুরে জোহর নামাজ পড়ে ক্ষুধার্ত মন নিয়ে খাবারের এক লোকমা মুখে নিল। তখন আমি মায়ের পেটে লাঠি মেরেছি। মা তখন নিরবে ভাতের প্লেটে রেখে আমাকে সহ্য করেছিল।আমি যখন মায়ের পেটে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছি। তখন মায়ের সম্পূর্ন কষ্ট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছিল। মা যখন তার প্রসববেদনা সহ্য করে আমাকে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখিয়েছেন । তখন তার সমস্ত কষ্টগুলো হাসিমুখে বরণ করে নিল।সেই মায়ের সাথে একটা সময় পাগলামি করি।

যাইহোক, আমি যখন পৃথিবীর আলোর মুখ দেখলাম তখন ও মা আমার সমস্ত ভরণ-পোষণ, লালন-পালন করে আদর যত্ন করে বড় করে তুললো। মা এর বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছি। এ ঋণ কি শোধ হবে? 

মা কোলে তার কপালে কত চুমু দিয়েছি। চোখে তার দিকে চেয়ে হেসেছি।ধীরে ধীরে যখন আমি বড় হচ্ছি, মা আমাকে সকালে ঘুম থেকে ওঠে দিয়ে একটা নূরানী কায়দা হাতে দিয়ে মক্তবে পাঠিয়েছিলো। এরপর সকালে মায়ের হাতে খাবার খেয়ে আদর্শ লিপি বই, সিলট,চক নিয়ে স্কুলে গিয়েছি।মূলত নৈতিক শিক্ষাটা মায়ের কাছ থেকে শিখেছি।এভাবে আমি যখন বড় হচ্ছি, তখন মা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। আর আমাকে পরম আদর যত্ন করে বড় করে তোলে।এরপর বাবা কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়লে মায়ের স্বপ্নগুলো চুরমার হয়ে যায়। যাইহোক এ প্রসঙ্গে আসতে চাইনা।

যখন আমি পড়াশুনা করে চাকরী করে আয় রোজগার করি, তখন আমরা মায়ের যত্নে  নিয়োজিত হই।মায়ের প্লেটে এক টুকরো লেবু বা ৩ চার পিচ শষা দিই। পাঠক একটু হাসতেই পারেন! লেবু, শষা দিয়ে কি ভাত খাওয়া হয়? মোটেও এ কথা আমি বলিনি, বাস্তবে মায়ের সাস্থ্যগত দিক তার হজমশক্তি বিবেচনা করে খাওয়ার দাওয়ার প্রতি কতটুকু নজর রাখি।এর দায়দায়িত্ব বিবেচনা করে বিবেকের কাছে ছেড়ে দিলাম।

এবার আসি মায়ের আদর যত্নে বড় হওযা সন্তানের বিয়ে এবং সাংসারিক জীবনের কথা।

গ্রামের একটা প্রবাদ আছে, মাকে এভাবে খাওয়াবি, এভাবে চুম্বাবি। বউ আইলে তো মার কথা ভুইল্লা যাবি। পরম দু:খিনী মমতাময়ী মা তুমি ঠিকই বলেছো।

বউর আদরমাখা ভালবাসা পেয়ে মার কথা ভুইল্লা গেলাম।বিয়ের আগে যখন মাকে নিয়ে খেয়েছি।এখন মাকে নিয়ে একসাথে খাইনা। এখন ধীরে ধীরে বউর ভালবাসা পাওয়ার জন্য মার প্লেটের কথা মনে নাই।এখন মাছের মাথা বউকে দিই, মাংসের হাড্ডি বউকে চুইতে দেই। মায়ের কথা তখন কি মনে পড়ে?

মা তো সারাদিন সন্তানের খাবারের জন্য পাক ঘরে পড়ে থাকে। আবার কিছু দুষ্ট মেয়ে আছে, সন্তান যখন মায়ের দিকটা খেয়াল করে।তখন বউ স্বামীর কাছে ভালো থাকার জন্য মায়ের গীবত করে।

তবে বউর দোষ দেওয়া আমি পক্ষপাতী না, ছেলে কেন যানি বিয়ে করে আগের মতো মাকে খেয়াল করে না।মা তোমার ছেলে ভাল হলে সব ভালো হবে, বউমাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।

সর্বশেষ মায়ের মঙ্গল কামনা করে লেখা শেষ করছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি।মার শেষ বয়সে তার খাওয়া-দাওয়া চাহিদা অনুযায়ী তার সন্তান যেন হালাল ভাবে রোজী রোজগার করতে পারে।প্রত্যেক সন্তান যেন মায়ের অভাবগুলো মোচন করে দেয়।

ছেলেব বউয়ের প্রতি অনুরোধ, মায়ের কষ্ট হয়, এমন কাজ তুমি করোনা।

মা তোমার দীর্ঘায়ু ও সুসাস্থ কামনা করছি। সৃষ্টিকর্তা যেন তোমার পরকাল ও দুনিয়াতে শান্তি দেয়।

প্রজন্ম নিউজ /নুর/ওসমান গণি

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ