প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০২৬ ০২:৩৬:০০
প্রজন্ম ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রজন্ম ডেস্ক: করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন, কিন্তু এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
একইসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি। ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। তিনি প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক।
এই সংকটকালীন অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আজকের এই নজিরবিহীন প্রেক্ষাপটে আমরা প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু করছি।
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার ফ্যাসিবাদের তৈরি পুরোনো পথে হাঁটছে’
সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের ওপর হামলা
হাদি হত্যা মামলা : পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পিছিয়েছে
ধানমন্ডি ৩২-এ ভাঙচুর : ড. ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে