দফায় দফায় সংঘর্ষে দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাবি ক্যাম্পাস

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৪৮:০১

দফায় দফায় সংঘর্ষে দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাবি ক্যাম্পাস

রাবি সংবাদদাতা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) কার্যালয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিবের ওপর সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়, রাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকা ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত নারীঘটিত একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর করা অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে রোববার রাতে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত আনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় প্রক্টরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে দপ্তর থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।

পরদিন (সোমবার) অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল কর্মী মহসিন আলমকে বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি নেওয়ার জন্য প্রক্টর দপ্তরে তলব করা হয়। এ সময় আনাস আবারও সেখানে উপস্থিত হন এবং প্রক্টরের সঙ্গে পুনরায় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাকে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আনাসকে আটক করতে পুলিশ প্রক্টর দপ্তরে আসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে প্রক্টর পুলিশকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন বলে প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

রাকসু নেতাদের অভিযোগ, প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট পর আনাস ৬-৭ জন সহযোগীকে নিয়ে রাকসু ভবনে এসে অতর্কিত হামলা চালান। সে সময় রাকসু কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিবসহ মাত্র তিনজন উপস্থিত ছিলেন। হামলায় আম্মার ও নাজমুস সাকিব আহত হন। এতে নাজমুস সাকিব রক্তাক্ত হন বলেও অভিযোগ করা হয়।

হামলার পর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আনাস ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গ্রন্থাগারের রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে সেখানে প্রবেশ করে তাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে আহত এক সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এসব ঘটনার পর অভিযুক্তদের 'সেইফ এক্সিট' দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন রাকসু, হল সংসদ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন।

হামলায় আহত রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব বলেন, "প্রক্টর অফিস থেকে বের হওয়ার ৪-৫ মিনিটের মধ্যেই তারা রাকসু ভবনে আসে। ওদের একজন আম্মারকে জিজ্ঞেস করে, 'তুই ওর গায়ে হাত দিছিস কেন?' আম্মার জবাবে বলেন, 'আপনি কী কোনো অথোরিটির নাকি যে আপনার কাছে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে?' এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা হামলা চালায়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। ছাত্রলীগের আনাস ও তার সঙ্গে থাকা ৭-৮ জন এ হামলায় অংশ নেয়।"

তিনি আরও বলেন, "আনাস প্রক্টর অফিস থেকে বের হয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ রাকসু ভবনে এসে জিয়া হলের জিএস আরিফকে খুঁজতে থাকে। আমি বলি, আরিফ জিয়া হলে থাকবে, রাকসু ভবনে কেন খুঁজতে আসছেন। এরপর আনাসসহ কয়েকজন রাকসু জিএসের কক্ষে গিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে আনাসের সঙ্গে থাকা ছাত্রদলের কয়েকজন মিলে আম্মারের ওপর হামলা করে রাকসু ভবন থেকে বেরিয়ে লাইব্রেরির দিকে চলে যায়। এরপর প্রক্টর স্যার ওদের সেইফ এক্সিট দিয়েছেন।"

রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, "তারা কোনো ধরনের কথা না বলেই আমাদের ওপর হামলা চালায়। তখন রাকসু কার্যালয়ে আমরা মাত্র তিনজন ছিলাম। হামলায় আমাদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।"

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে রাকসু, হল সংসদ ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, "আমরা খুব দ্রুত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করব। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকের মধ্যেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, "ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এ সম্পর্কিত খবর

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে সিংড়ায় ছাত্রদলের কর্মসূচি

সিংড়ায় ভেঙে যাওয়া সড়ক সংস্কার করলেন বিএনপি-ছাত্রদল নেতারা

দফায় দফায় সংঘর্ষে দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাবি ক্যাম্পাস

চরফ্যাসনে পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক : বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশ

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক : তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ফটিকছড়ি উত্তরে চলছে দ্বিতীয় দিনের হরতাল

চরফ্যাশনে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তের দাবি আরসিপি'র

চাঁদপুরের মতলবে জামায়াতের ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ