প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০৫:৫৬:০৮
দৈনিক নয়া দিগন্ত অনলাইন পাঠকদের পাঠানো খাদ্য, শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ সাহায্য পেয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা ছোটভাকলা ইউনিয়নের স্বামী পরিত্যাক্ত হতদরিদ্র সেই মা ও তার সন্তান খুবই খুশি। গত ৩১ জানুয়ারি ‘হতদরিদ্র মা ও তার সন্তানের শীত কাটছে শাড়ির আঁচল জড়িয়ে’ শিরোনামে নয়াদিগন্তের অনলাইনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি পড়ে নয়াদিগন্তের পাঠকরা তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। ঢাকা মিরপুর থেকে রফিক নামের একপাঠক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঐ নারীকে সাহায্য পাঠিয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুর পক্ষ থেকে মিরপুর কলেজ ছাত্রদলের সম্পাদক আড়িয়ান জামান ও তার সহপাঠীরা সাহায্য নিয়ে ঐ মহিলার বোনের বাড়িতে পৌঁছান।
ছাত্রদল নেত্রীবৃন্দ ঐ মহিলা ও তার সন্তানের জন্য চাল, ডাল, লবণ, তেল, জুতা-স্যান্ডেল, শাড়ি, গরম কাপড় ও নগদ টাকা মহিলার হাতে তুলে দেন। সাহায্য পেয়ে আবেগে তিনি কেঁদে ফেলেন। এ সময় একহৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
সাহায্য প্রদান কালে কুমিল্লা দেবীদার ছাত্রদল নেতা কাউছার ভূঁইয়া, অহিদুজ্জামান অপু, রাজবাড়ী সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা হাসান, মাহফুজ আহম্মেদ সহ একাধিক নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আ: ছালাম, ইসলাম খানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রীবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
স্বামী পরিত্যাক্ত হতদরিদ্র ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে আমার কোন বসত ঘর নাই। ছেলে দুইডা নিয়ে পরের বাড়ি থাকি। আপনারা আমার মাথা গোজার একটু ব্যবস্থা করে দিবেন।' ছাত্রদল নেত্রীবৃন্দ ফাতেমার ছেলে দুটির লেখা-পড়ার দায়িত্ব ও বসত ঘর তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
জানা গেছে, বছর দশেক আগে কুষ্টিয়া জেলার ছলেমান মণ্ডলের সাথে পিতৃহারা হতদরিদ্র ঘরের সন্তান ফাতেমার বিয়ে হয়। ছয় বছর আগে ছোট ছেলে সাগরকে ৩ মাসের পেটে রেখে ছলেমান উধাও হয়। আর ফিরে আসেনি। তারপর থেকে ঐ মহিলা ও তার দুই সন্তানের কপালে দুঃখ নেমে আসে।
গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধার পর গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় একটি স্টুডিওতে ছবি তুলতে এলে এই সংবাদদাতার সাথে ফাতেমার কথা হয়। চারদিকে সবাই মাঘের প্রচণ্ড শীতে জড়োসড়ো। এমন অবস্থার মধ্যে শরীরে পাতলা শাড়ির আঁচলটি শিশু সন্তানের শরীরে পেঁচিয়ে জুবুথুবু হয়ে স্টুডিওতে ঢুকলেন ঐ হতদরিদ্র মা।
সকালে ছোট ছেলের স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে তার ছবি লাগবে। মা ও ছেলের দু'জনেরই পা খালি। শরীরে নামমাত্র পাতলা কাপড় ছাড়া কোনো শীত বস্ত্র নেই মা-ছেলে কারোরই।
এ সময় তিনি জানান, উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল এলাকায় রেল লাইনের পাশে বোনের বাড়িতে কোনমতে তাদের মাথা গোঁজার ঠাই রয়েছে। নিজের কোন জায়গা জমি বা বাড়ি-ঘর নেই।
স্বামী ছলেমান মণ্ডল প্রায় ছয় বছর আগে ছোট ছেলে সাগরকে তিন মাসের পেটে রেখে তাকে ত্যাগ করে চলে গেছে। বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে তাও জানেন না। এক সময় তার স্বামীর সংসারে মোটামুটি ভালই দিন কাটছিল। হঠাৎ কী অপরাধে সংসার ছেড়ে তিনি কোথায় গেলেন জানি না। বড় ছেলে আকাশ ও ছোট সাগরকে নিয়ে এক অথৈই সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন তিনি।
গরম কোনো কাপড়-চোপর নেই জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ‘বাড়িতে দুই’তিন খানা কাঁথা আছে। ওই গুলোই বিছিয়ে ও গায়ে জড়িয়ে কোনমতে রাত কাটাই। বাইরে গায়ে দেওয়ার তেমন কিছু নেই। জুতা সেন্ডেল পাবো কোথায়, প্রায়ই দ্ইু-এক বেলা না খেয়ে থাকি। মাইনসের (মানুষের) বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কি আর সব কিছু মেলে? শরীলে কত অসুখ-বিসুখ কিন্তু টাকার অভাবে ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না।’
মহিলা আরো জানান, ‘বড় ছেলেটা গোয়ালন্দ প্রপার হাই স্কুলে এবার ভর্তি হইছে। ছোটডা বাড়ির কাছে চর বালিয়াকান্দী প্রাইমারি স্কুলে ওয়ানে পড়ে। ছেলে দুইডার কষ্ট দেখলে বুক ফাইটা কান্দন আসে। ওরা যখন ক্ষিদার জ্বালায় কান্দে, তহন তা সইতে না পেরে মনে কয় গলায় দড়ি দিয়া মরি। কিন্তু ওগের কথা ভাইবা মরবারও পারিনা। এলাকার মেম্বর-চেয়ারম্যান ও নেতাগোরে কাছে কত গেছি, কেউ পাত্তা দেয় না।
প্রজন্মনিউজ২৪/কেএমএল
পবিপ্রবি শিক্ষকদের ওপর হামলা করে পদ হারালেন বিএনপি নেতাসহ ৫ জন
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ওআইসির সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
পলকের হাড় ভাঙা বা সরে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি
সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ মৎস্যমন্ত্রীর
ইউনূসকে বিয়ের নিমন্ত্রণ ও বিভিন্ন চিত্রকর্ম দিলেন ডাকসু ভিপি
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে, পাক প্রতিনিধি দলের বৈঠক
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ
একদিনে হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু
ভারত সংখ্যালঘুদের আপন করলে আরও বেশি শ্রদ্ধা করবো : ধর্মমন্ত্রী
গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় শনাক্ত করা যাবে না: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়