সোনার শহর এল ডোরাডো

প্রকাশিত: ২৬ অগাস্ট, ২০১৭ ০৩:৫৫:৫৪

সোনার শহর এল ডোরাডো

বাংলাদেশে পার্বত্য এলাকায় একটি স্বর্ণ মন্দিরের কথা মোটামুটি আমরা সবাই জানি, কিন্তু স্বর্ণের শহর? আর এর কথা উঠলেই চোখের সামনে প্রথমেই ভেসে উঠে সেই স্বপ্নের শহর ‘এল ডোরাডো’, যেখানে ছড়িয়ে রয়েছে স্বর্ণের যত গুপ্ত ভাণ্ডার। কিংবদন্তি এই শহরকে ঘিরে রয়েছে কতোই না উপাখ্যান আর নানা কল্পকাহিনী।
স্প্যানিশ ভাষায় এল ডোরাডো মানে ‘যেটি স্বর্ণ’। এটি এসেছে এল অমব্রে দোরাদো (El Hombre Dorado) বা ‘স্বর্ণ মানুষ’ থেকে। অনেক দিন আগে দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়ায় এক আদিবাসী গোষ্ঠী ছিল মুইসকা।

মুইসকা ঐতিহ্য অনুসারে, নতুন রাজা নির্বাচন করার পর মাথা থেকে পা পর্যন্ত স্বর্ণের গুঁড়ো মাখিয়ে তাকে গুয়াতাভিতার পবিত্র স্নান করানো হয়। এদের বলা হতো এল ডোরাডো। পরে এটি কীভাবে যেন হয়ে যায় এক হারিয়ে যাওয়া শহরের নাম, যেটি নাকি সম্পূর্ণটাই স্বর্ণ দিয়ে তৈরি। গুয়ানার লেক পারিমের কাছে কল্পনার শহরটির ঠিকানা।
এল ডোরাডো হলো সেই মিথ নগরী, যা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি বলে মনে করতো স্প্যানিশদের মতো অনেকেই। ষোড়শ শতকে এ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো হুয়ান রড্রিগজ ফ্রেইলের লেখা ‘দ্য কনকোয়েস্ট অ্যান্ড ডিসকভারি অব দ্য নিউ কিংডম অব গ্রানাডা’।
মার্কিন লেখক এডগার অ্যালান পো বলেছিলেন, ‘এল ডোরাডো যেতে চাও, তবে চাঁদের পাহাড় পেরিয়ে, ছায়ার উপত্যকা ছাড়িয়ে, হেঁটে যাও, শুধু হেঁটে যাও’। এল ডোরাডো থেকে যায় পৃথিবীর একটি রূপকের নাম হয়ে, যার মানে যেখানে খুব তাড়াতাড়ি ধনসম্পত্তি লাভ করা যায়। কেউ কোন ব্যর্থ অভিযানে বেরুলেও সেটিকে ‘এল ডোরাডো খোঁজ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তবে এল ডোরাডো অভিযান ব্যর্থ হয়নি একেবারে। ১৫৪১ সালে সোনার শহরের খোঁজে অভিযাত্রী ফ্রান্সিসকো দে ওরেয়ানা আর গনসারো পিসারো অভিযানে বেরিয়েছিলেন। আমাজন নদীর পাশ দিয়ে যেতে যেতে পুরো দৈর্ঘ্যটাই জানা হয়ে যায় ওরেয়ানার।
২০০১ সালে রোমের এক পাঠাগারে হঠাৎ এক ধুলোমাখা নথি আবিষ্কৃত হয়। তাতে এল ডোরাডো শহরের কথা লেখা রয়েছে। আন্দ্রিয়া লোপেজ নামের এক ধর্মযাজক ১৭ শতকের সেই নথি লিপিবদ্ধ করেছেন বলে জানা যায়। লিপি থেকে জানা যায়, সেই শহরের অমিত ধনসম্পত্তির কথা।

এল ডোরাডোর সন্ধান পেতে গত ১০০ বছরে নানা দেশের সংগঠিত অভিযানই হয়েছে অন্তত ১৪টি। এই অভিযানে ইনকা সভ্যতার অনেক নিদর্শন পাওয়া গেলেও দেখা মেলেনি সেই স্বর্ণ শহরের। ১৯৭১ সালে গহীন জঙ্গলে এমনিভাবে হারিয়ে গেছেন ফরাসি এবং মার্কিন একদল অভিযাত্রী।
ব্রিটিশ মিউজিয়ামের প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ রেইনফরেস্ট আর পার্বত্য অঞ্চলের কোনো এলাকায় এ স্বর্ণ নগরীর খোঁজ পাওয়া যেতে পারে।
মাচুপিচু আবিষ্কার যখন হয়েছে, তাহলে একদিন স্বপ্নের স্বর্ণ শহর এল ডোরাডো আবিষ্কার হবে সে আশায় বুক বেঁধেছেন অনেক অভিযাত্রী।

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ