প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৬ ০৭:৪৮:৩৩
খুলনা সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, আমাকে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এ জন্য মহান রাব্বুল আলামিনকে কৃতজ্ঞতা ও তার প্রতি কৃপা এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি- এর মধ্যদিয়ে খুলনার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সিটি করপোরেশনকে শতভাগ সততা এবং নিষ্ঠার সাথে পরিচালনা করা আমার মূল দায়িত্ব।
খুলনা সিটি করপোরেশনের সকল নাগরিকদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদান এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সবসময় নিরলসভাবে কাজ করা, বাধাহীনভাবে খুলনা সিটি করপোরেশনের সকল মানুষকে সেবা দেওয়া, সবপক্ষকে সেবা দেওয়ায় হবে আমার নেতৃত্বে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব। এই পরিচ্ছন্ন সবুজ শহর, পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, চাঁদামুক্ত, মাদকমুক্ত, মশকহীন, নিরাপদ খুলনা গড়াই থাকবে আমাদের লক্ষ্য। যেটি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগকালে আমাদের বলেছেন। আমরা তার এই নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য কাজ করব।
রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৩টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসকের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এবং বিদায়ী প্রশাসক মো. মোখতার আহমেদ এর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে খুলনার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিটি করপোরেশনের নানা বিষয় সাংবাদিকরা পত্রিকায় তুলে ধরেছেন উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমি সেগুলো রেকর্ড করেছি। প্রত্যেকটি বিষয়ই সিটি করপোরেশনের সকলকে নিয়ে কাজ করব। সিটি করপোরেশন হবে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। আমি অবৈধ পয়সা আয় করতে চাই না, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও যেন আমার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে অবৈধ অর্থ লেনদেন না করে।
তিনি আরও বলেন, সকল উন্নয়নমূলক কাজ হবে সঠিকভাবে এবং যেভাবে করলে টেকসই উন্নয়ন হয় সেভাবেই ইনশাল্লাহ করব। এ জন্য কোনো কমিশন বাণিজ্য খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক করবে না। সৎ জীবন-যাপন করব। আমি এই কাজটি মহান রাব্বুল আলামিনকে সাক্ষী রেখে করতে চাই। নাগরিকদের নিয়েই খুলনা সিটি করপোরেশনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করব। সরকার একটি কমিটি করে দিয়েছেন, সেই কমিটি আমার নেতৃত্বে এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সদস্য সচিব হিসেবে সেই কমিটি কাজ করবে।
নতুন এ প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের পাশে থেকে জনগণের সমস্যাটা জানার চেষ্টা এবং সেই বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে পরিকল্পনা প্রেরণ করা। খুলনাকে নতুন করে সাজানোর তার ইচ্ছা আছে। সেই ইচ্ছাপূণের জন্য আমাদেরকে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে আমি জনগণের সহযোগিতা চাই।
সকলকে আশ্বস্ত করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কারোর প্রতি বিরাগভাজন এবং প্রতিহিংসা আমার ওপর কখনও কাজ করবে না এবং সকলেই আমার কাছ থেকে নাগরিক সেবা পাবেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রাণের শহর খুলনা। সিটি করপোরেশনের দোয়ার খোলা থাকবে নাগরিকদের জন্য প্রশাসককে পরামর্শ দেওয়া দিতে। খুলনা শহরের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকটা ভঙ্গুর। এই শহরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, যারা দীর্ঘ সময় জনভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। এই কাজগুলো দ্রুত শেষ করে জনভোগান্তি দূর করতে হবে আমাকে। কঠোরভাবে সেই নিয়মানুবর্তিতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মধ্যদিয়ে সব কাজ সময়মতো দ্রুত গতিতে কাজ শেষ করব ইনশাল্লাহ।
ঠিকাদারদের কাজের বিল নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজ শেষ হবে মানসম্মত এবং কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বিল নেবেন। কোনো সিন্ডিকেট এই প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক কথা আমাদের বলেছেন। তারমধ্যে একটি হচ্ছে- শহরে ঝুলন্ত তারগুলোকে সরিয়ে ফেলতে হবে। ক্যাবল নেটওয়ার্কের তার মানুষকে যাতনা দেয়। পাইপলাইনের মাধ্যমে হয় উপরে তার হবে, না হলে ড্রেনের পাশ দিয়ে আমাদের পরিচালনা করতে হবে। খুলনা শহরকে গ্রিন সিটি করার জন্য তিনি বিশেষভাবে বলেছেন। সবুজে সবুজে শহরটাকে সাজাতে হবে। নগরবাসীকে সকল প্রাঙ্গণে আগামী বর্ষায় বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান। মশক ধোঁয়া দিয়ে নয়, মশার উৎপাদনস্থল ড্রেনকে পরিষ্কার করব।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সিটি করপোরেশনের সীমিত সামর্থ্য ক্লিনারদের সাথে ভোর ৬টার পর থেকে ড্রেন পরিষ্কার কাজে তদারকি করব ইনশাল্লাহ। আমি ঘুমাব কম, কাজ করব বেশি। আমি দেখতে চাই আমার কর্মচারীরা কতখানি সঠিকভাবে কাজ করে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোর থেকে আমার সাথে রাস্তায় থাকতে হবে, কাজ করতে হবে। আমরা পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে চাই এবং এটি স্বপ্ন না বাস্তবায়ন করতে চাই। প্রশাসক থাকবে রাস্তায়, আপনিও থাকবেন রাস্তায় এবং জনগণের মাঝে।
উন্মুক্ত আবর্জনা ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্মুক্ত আবর্জনা থাকবে না। এটি প্যাকেট করতে হবে। রিসাইকেলিং করে সারে রূপ দিতে হবে এবং তার জন্য তিনি অর্থ আনবেন বলে জানিয়েছেন। শহরের যত আবর্জনার স্তূপ, সেগুলোকে প্যাকেট করে ঢেকে রাখতে হবে। খোলা রেখে মানুষের বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে এমন কাজ আমরা করব না ইনশাল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী আরও একটি কথা বলেছেন, মানুষকে বলবেন, নাগরিক দায়িত্বটা যেন পালন করে। সকলের দায়িত্ব আছে। এই কাজগুলোর মধ্যে কিছু কিছু কাজ নাগরিকদের। সেই কাজটি তারা করবেন।
কেসিসির প্রশাসক বলেন, আমি এর আগে এমপি ছিলাম, তখন যে মেয়র ছিলেন যিনি, তাকে বলেছিলাম আমি এমপি হয়ে সিটি করপোরেশনে আসব। কিন্তু পাঁচ বছরে সিটি করপোরেশনে আসতে পারিনি। আমাকে কখনোই আসতে দেওয়া হয়নি। সিটি করপোরেশন নিয়ে আমাদের নগরবাসীর অনেক অভিযোগ রয়েছে, সেই অভিযোগ আমরা শুনতে চাই, দূর করার জন্য আমরা কাজ করতে চাই। জবাবদিহিতার মধ্যদিয়ে স্বচ্ছ একটি সিটি করপোরেশন আমরা উপহার দিতে চাই। এই শহরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আছেন, তারা আমাকে অনেক কিছু বলেছেন। তাদের অনেক অভাব আছে। তার মধ্যে হচ্ছে তাদের নিরাপত্তার অভাব। আমরা নিরাপত্তা দিতে চাই, আমাদের কোলের মধ্যে রাখতে চাই।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি ১২ তারিখ সন্ধ্যার পরে নগরবাসীর চোখে পানি দেখেছি, তারা কেঁদেছে আমার জন্য। এই চোখের পানি প্রধানমন্ত্রী মুছে দিয়েছেন। এজন্য তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন, খুলনাবাসীকে সম্মানিত করেছেন। আমরা রাজনৈতিক বিভেদ ভুলতে চাই, ভাই ভাই মিলে সরকারি দল, বিরোধী দল আমরা সব দলকে নিয়ে সিটি করপোরেশনে কাজ করতে চাই।
ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা বাসদের
ইরানে খামেনির ভূমিকায় নেতৃত্ব পরিষদ, নতুন সদস্য হলেন আলিরেজা আরাফি
অবৈধ পয়সা আয় করতে চাই না, কর্মকর্তারাও যেন না করে : মঞ্জু
ইরানে হামলা : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে নিয়ে যা বলল উত্তর কোরিয়া
খামেনির নৃশংস হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন : পুতিন
ইরানের ৩১ প্রদেশের ২০টিতেই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
যমুনা ছাড়লেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
গাইবান্ধায় উপবৃত্তির প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার