জীবনে যত পুরস্কার পেয়েছি,আমার কাছে এটিই শ্রেষ্ঠ: ববিতা

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৮:৩৭:৩৯

জীবনে যত পুরস্কার পেয়েছি,আমার কাছে এটিই শ্রেষ্ঠ: ববিতা


আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতার মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি উজ্জ্বল পালক। আজ এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর হাতে মর্যাদাপূর্ণ ‘একুশে পদক’ তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে দেশ-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হলেও, একুশে পদক প্রাপ্তিকে নিজের জীবনের ‘সেরা অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম আইকন ববিতা বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে একুশে পদক গ্রহণ করেন। পদক হাতে পাওয়ার পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, কী যে ভালো লাগছে! এক অন্যরকম সুখের অনুভূতি কাজ করছে মনে। অভিনয় জীবনে অনেক সম্মাননা পেয়েছি, কিন্তু আজকের এই প্রাপ্তি সব কিছুর ওপরে। বিশেষ করে ভাষার মাসে, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের মাসে এই পদক পাওয়া আমার জন্য বড় গৌরবের।

শ্রদ্ধা ও উৎসর্গ: ববিতা তাঁর এই সাফল্যের দিনে ভাষা শহীদ ও ভাষা সৈনিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসঙ্গে তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তাঁর মা-বাবার কথা ভেবে। তিনি বলেন, আজ মা-বাবা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন এবং আমাকে নিয়ে গর্ব করতেন। পদকটি পাওয়ার পর সবার আগে তাঁদের কথাই মনে পড়ছে।

অভিনয় জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে। এছাড়া সুভাষ দত্ত, খান আতা, নারায়ণ ঘোষ মিতা এবং আমজাদ হোসেনসহ সকল পরিচালকের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। তবে এই অনন্য সম্মাননাটি তিনি উৎসর্গ করেছেন কিংবদন্তি জহির রায়হানকে। ববিতার মতে, জহির রায়হানের অবদান তাঁর জীবনে বলে শেষ করা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্মৃতিচারণ: পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত ও হৃদ্যতাপূর্ণ কথোপকথন হয় ববিতার। সেই মুহূর্তের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেয়ার সময় আমি তাঁকে বলেছি, আপনার বাবার (শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান) হাত থেকে এক সময় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়েছি, আর আজ আপনার হাত থেকে একুশে পদক নিলাম। আমার কথা শুনে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।

কিশোরী ববিতার সেই পথচলা: নিজের সোনালী অতীতের কথা মনে করে ববিতা বলেন, সেই ছোট্ট কিশোরী যে কি না বেণী দুলিয়ে স্কুলে যেত, সবার ভালোবাসায় সে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে। তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রায় পরিবার, শিক্ষক, পরিচালক, প্রযোজক, সহকর্মী এবং সাংবাদিকসহ যারা পাশে ছিলেন, তাঁদের সবার প্রতি মমতামাখা ভালোবাসা জানান তিনি।

ববিতার একুশে পদক প্রাপ্তি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি যুগের প্রতি বড় স্বীকৃতি। এই প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতের শিল্পীদের মধ্যে এক নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি হলো। দিনটিকে ববিতা তাঁর জীবনের অন্যতম একটি ‘আনন্দের দিন’ হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রাখলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসতঘরে মিললো গৃহবধূর মরদেহ

টি-২০ বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগ্রেসরা

জীবনে যত পুরস্কার পেয়েছি,আমার কাছে এটিই শ্রেষ্ঠ: ববিতা

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে নব্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ

জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় বাদ সকল প্রার্থী

স্কুলছাত্রীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জামায়াতের উদ্বেগ

'আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল বিএনপি'

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনা সরকারসমর্থিত ‘মব-কালচারের’ আনুষ্ঠানিক সূচনা

গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় আলোকিত সমাজ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী থানা এলাকায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ