প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৩:১৯:৩৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।অনেকে প্রতিবেদককে ফোনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি সময়োপযোগী ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা। শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নয়, উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে পুরো নগরীর রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে এই প্রতিবেদনে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু নির্বাচন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কিনা, তা নিয়েই চলছে জল্পনা। এতদিন নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিত থাকা ইসলামী ছাত্রশিবির এবার কোমর বেঁধে নেমেছে। এখান থেকেই ছাত্রদল ও শিবিরের বহু নেতা রাজনীতির হাতেখড়ি নিয়ে আজ জাতীয় অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
অন্যদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধকে মূলমন্ত্র হিসেবে ধারণ করলেও বিএনপি ঘরানার দায়িত্বশীলরা সেটি সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিপরীতে জামায়াত তাদের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও ক্যাডারভিত্তিক চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে দাপট বাড়িয়ে চলেছে। ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এবারও তারা শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে। এমনকি প্রাক্তন ছাত্র সংগঠন ‘‘রুয়া’’কেও পরিকল্পিতভাবে নিজেদের অনুকূলে নিয়েছে। ভোটার সংখ্যা বাড়ানো থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সমন্বয়—সবখানেই তাদের দৃঢ় প্রস্তুতির পরিচয় মিলেছে। বিপরীতে বিএনপি ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা পরিকল্পনার অভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের দুর্বলতা ও বিভাজনের সুযোগ নিয়েছে জামায়াত।
রাজশাহী মহানগর বিএনপি এখনো বিভক্ত এবং নেতৃত্ব শূন্য। গত আগস্টে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হলেও মহানগর কমিটি ঘোষণায় দেরি করায় স্থানীয় পর্যায়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। ফলে বিএনপি ঘরানার শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীরা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, হাইকমান্ড স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত নয় অথবা ভুল তথ্য পাচ্ছে।
প্রফেসর এম. রফিকুল ইসলাম, যিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতা, ডাকসু-জাকসু-রাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন—বিগত সময়ে ছাত্রদলসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থাকলেও শিবির অন্য কৌশলে নিজেদের বিস্তার ঘটিয়েছে। তারা কখনো সাধারণ শিক্ষার্থী সেজে, কখনো অন্য সংগঠনের সঙ্গে মিশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানের সময় তারা মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে বিএনপির দুর্বলতা হলো তাদের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষক-ছাত্র রাজনীতিতে নজরদারি ও সমন্বয়ের অভাব। শিবির যেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা করে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে, বিএনপি সেখানে শিক্ষক-ছাত্রদের কর্মকাণ্ডে সেভাবে অংশগ্রহণ করে না। ফলে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে নানা অপপ্রচারের কারণে, যা মোকাবেলায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বিএনপি।
প্রফেসর আব্দুর রহমান সিদ্দিকী ও অন্যান্য প্রবীণ শিক্ষাবিদদের মতে, রিজভী, হারুন, পাপিয়া, শালমা, বাবলু, শাহীন-শওকত প্রমুখ নেতারা আজকের অবস্থানে এসেছেন প্রবীণ শিক্ষকদের হাত ধরে। অথচ আজ সেই কারিগররা উপেক্ষিত। তারা কোনো পদবী চান না, শুধু জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করতে চান। কিন্তু হাইকমান্ড তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে না।
ডাকসু ও জাকসুর ফলাফল দেখিয়েছে, যারা বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে সংগঠন গড়েছে, তারাই বিজয়ী হয়েছে। বিএনপির পরিকল্পনার অভাব, সম্মিলিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থতা এবং বর্জন কৌশলই তাদের বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন ‘‘রুয়া’’র ভোট বর্জন শিবিরকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের পথ করে দিয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা অঙ্গনে বিএনপি ঘরানার বিভাজন ও পরিকল্পনাহীনতার সুযোগ নিয়েছে জামায়াত। এখনো সময় আছে—যদি হাইকমান্ড সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করে, স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে এবং ছাত্রসমাজের আস্থা অর্জনের মতো পরিকল্পনা হাতে নেয়, তবে রাকসুর নির্বাচনে আবারো বিএনপি ঘরানা ফিরে আসতে পারে। নতুবা এই শূন্যতায় কান্ডারীর আসন দখল করে নেবে অন্যরা।
কেউ দুর্নীতি করলে মামলা হবে: আইনমন্ত্রী
আমাদের বেসিক প্রয়োজন গুলো নিশ্চিত করে দেন: জ্যোতি
রিজার্ভ নিয়ে বড় সুখবর দিলেন গভর্নর
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই আল-আকসায় প্রথম তারাবিহ সম্পন্ন
দায়িত্ব যেহেতু পেয়েছি, ইনশাল্লাহ অনেক চমক রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
ছায়া মন্ত্রীসভা গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন
ভাঙ্গায় হাইওয়ে এক্সপ্রেসের পাশে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার
ঝাড়ু নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করলেন জামায়াত আমির
ডুমুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ
বিএনপি জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় ডাকসুর উদ্বেগ