সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বনাম অসামাজিকতা

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০৬:৫৩:১৬

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বনাম অসামাজিকতা

রেহেনুমা সেহেলী কবিরঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে পুরো বিশ্ব আজ আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। কল্পনাতীত বিষয়গুলোও হয়ে উঠেছে সহজেই কল্পনীয়। কিন্তু এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কতটা সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটিয়েছে, কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় সেটিই ভাবনার বিষয়। বলা হয়ে থাকে,"বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ আর কেড়ে নিয়ে আবেগ।" 

আসলেই তাই। প্রকৃত প্রেম,ভালোবাসা,মানবিকতা আজ লুপ্তপ্রায়। পারস্পরিক কুশলাদির বিনিময় ও আজ কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাই,হেলো ইত্যাদি বাংলিশ শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি একনিষ্ঠ মনোযোগ যেনো একপ্রকার ডিজিটাল আসক্তিতে পরিণত হয়েছে।

হাতে থাকা স্মার্ট ফোনটাই যেনো পুরো দুনিয়ায় পরিণত হয়েছে আমাদের। এতে করে সংক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে আমাদের সৃজনশীল চিন্তা ভাবনার জগত। পরিতাপের বিষয় এই যে আজকাল রাস্তাঘাটে কেউ বিপদে পড়লে আমরা বিপদাপন্ন ব্যক্তিকে সহায়তা করার আগে কীভাবে সেটাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তৃত করা যায় সেই বিষয়ে উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়ি।

আমাদের মানবিকতা আজ বিপর্যস্ত। আমরা আত্নপ্রসার নয় বরং আত্মপ্রচারেই সুখ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত। ঘুরতে বের হয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করার চেয়েও ছবি তুলে সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শন করাটাই যেনো আসল কর্মে পরিণত হয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কল্যাণে দান সদকার মতো ধর্মভিত্তিক সামাজিক কর্মকান্ডগুলোও আজ লোকদেখানো ব্যাপারের তালিকাভুক্ত হয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেইসবুক,হোয়াটসঅ্যাপ,ইন্সট্রাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি আমাদের ভার্চুয়ালি সম্পর্ক বিস্তৃতির নামে প্রকৃতপক্ষে বন্ধুত্বের পরিধিটাকে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর করে তুলেছে। বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রাংশ নির্ভর খেলাধুলা বাদ দিয়ে খোলা আকাশের নিচে,সবুজ মাঠে খেলাধুলা করার প্রবণতা আজকালকার শিশু-কিশোরদের মধ্যে খুব কমই পরিলক্ষিত হয়।

অথচ এই খেলার মাঠ ও এককালের ভ্রাতৃত্ব আর সামাজিকতা শেখার এক উল্লেখযোগ্য মাধ্যম বলে গণ্য হতো। প্রযুক্তি আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ব্যবহারসমূহ যেনো আমাদেরকে এক একটা যন্ত্রমানবে পরিণত করেছে। আর এভাবেই সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি নৈতিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মের।

আমাদের সামাজিকতা আজ কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেই সীমাবদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে যে,যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে খুব বেশি আসক্ত এবং বেশিরভাগ সময়ই এতে নিমগ্ন থাকে তারা তাদের চারপাশটাকে খুবই স্বল্প পরিসরে কল্পনা করে যা তাদের সামাজিকতার উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে। ফলে তাদের চিন্তা,আবেগ,মিথস্ক্রিয়া এবং আচরণ একটা সীমিত পরিসরের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে।

ফলে মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বার্থপরতা, পরশ্রীকাতরতা প্রাত্যহিক আচরণের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। দিনের শুরু থেকে শেষ অবধি আমাদের মূল্যবান সময়ের বেশিরভাগটাই ব্যয় হচ্ছে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে। এছাড়াও ছদ্মনাম ও ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অসামাজিক অনাচার ও পরিলক্ষিত হচ্ছে হরহামেশাই।

সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো যেনো আজ সামাজিকতার তকমা নিয়ে অসামাজিক অনাচারের  মত্ত হয়ে আছে। এই অবস্থার উত্তোরণ আবশ্যক। সর্বোপরি সৃষ্টির সেরা জীবরুপে খ্যাত মানবের মাঝে পরিপূর্ণরুপে বিকশিত হোক বাস্তবমুখী চিন্তা,মানবতা আর সামাজিকতা। সামাজিকতার আদলে জয় হোক মানবিকতার।

এ সম্পর্কিত খবর

ইভ্যালির গ্রাহকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে-টিক্যাব

সুবর্ণচরে বিদ্যুৎপৃষ্টে ১০ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রের মৃত্যু!

ইভ্যালির রাসেল-নাসরিন দম্পতি আটক

ঝিনাইদহ জেলায় সরকারী প্রাথমিকের ৯ শিক্ষকের খোঁজ নেই !

নীলফামারী টু কক্সবাজার চালু হচ্ছে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট

ফের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে আইনি নোটিশ

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ ফাঁসের তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ

আফগান সমস্যার সমাধান জাতিসংঘ করতে পারবে এমনটা উদ্ভট কল্পনা : জাতিসংঘ মহাসচিব

জিএসপি প্লাস সুবিধা ইইউর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়

রাশিয়া নির্বাচন দেখতে  গেলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ