চীনা বাদামের ভাল ফলন ও দামে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২০ ০৬:২২:১৬

অধিক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার চীনা বাদাম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে দিনাজপুরের খানসামায়।

ভাল ফলন ও দাম পাওয়ায় চীনা বাদাম চাষ করে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। তবে কয়েক সপ্তাহ প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাদাম প্রক্রিয়াজাত করে ঘরে নিতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন চাষিরা। এদিকে, চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, সংরক্ষণাগার ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা চালু করতে পারলে ব্যাপকহারে দিনাজপুর অঞ্চলে চিনা বাদামের চাষ হবে বলে জানায় বাদাম চাষি ও স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় খানসামা উপজেলায় চলতি বছর খরিপ মৌসুমে চাষকৃত চীনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি বছর ৩ হেক্টর জমিতে দেশি ও হাইব্রীড জাতের চীনা বাদাম চাষ হয়েছে।  আঙ্গারপাড়া ইউপির সুবর্ণখুলী গ্রামে দেখা যায়, গাছের গোড়ায় শেকড়সহ আধা শুকনা বাদাম ডালি আর বস্তায় ঘরে তুলছেন ক’জন চাষি। আবার কেউ বাদামসহ গাছ তুলে জমিতে শুকাতে দিচ্ছেন।

ওই গ্রামের ঝগুরুপাড়ার বাদাম চাষি আব্দুল মান্নান জানান, এক যুগ আগে তিনি পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বীজ এনে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে বাদাম চাষ করেন। সে বছর তিনি নিজ জমিতে চিনা বাদামের ফলন ও ফসলের প্রশংসা শুনে বাণিজ্যিকভাবে বাদাম চাষ শুরু করেন। এখন এলাকার অনেকেই চিনা বাদাম চাষ করছেন।

তিনি এবার ২৫ শতক জমিতে চিনা বাদাম চাষ করেছেন। বীজ ক্রয়, হালচাষ, বপন, সার, নিড়ানী, সেচ ও উত্তোলন খরচ হয়েছে অন্তত ৭ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে ৬ মণ। বর্তমান বাজার মূল্যে কাঁচা বাদাম ৫০ টাকা কেজি দরে ১২ হাজার টাকা এবং শুকনা হলে ১৮-২০ হাজার টাকা হতে পারে। একই এলাকার বাদাম চাষী মনিরুজ্জামান বলেন, আমি নতুন চাষি। মাত্র দু’বার বাদাম চাষ করেছি। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ভাবছি প্রতিবছর বাদাম চাষ করব।

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আফজাল হোসেন জানান, চীনা বাদামের উৎপত্তি মূলত আমেরিকায়। চিনা বাদাম মানব শরীরের জন্য ব্যাপক উপকারী এবং অর্থকরি ফসল। এটি লেগাম গোত্রের একটি প্রজাতি। উঁচু জমিতে সারাবছর চীনা বাদাম চাষ করা যায়।

তিনি আরও জানান, বেলে দো-আঁশ ও এঁটেল-দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হয়। খানসামায় এ ধরণের অনেক জমি আছে। এ বছর আবহাওয়া ভালো ছিলো। যারা চাষ করেছেন তাদের ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে ভালো বাজার দাম পেয়ে চাষিরাও খুশি হয়েছেন। ভাল দাম ও ফলন পাওয়ায় আগামীতে আরো বেশি পরিমাণে বাদাম চাষ হবে এ  অঞ্চলে আশা রাখি।

প্রজন্মনিউজ২৪/ফরিদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ