তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে: ভিপি সাদিক কায়েম

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৪৮:০৮

সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে: ভিপি সাদিক কায়েম

প্রজন্ম ডেস্ক:সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলেই সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্বক বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

এসময় তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসের মধ্যে ৩ বার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হয়ে জনগণ চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন আমরা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু তখনও সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকুর ব্যর্থতায় সরকার বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এখনও আবার তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, জনগণ এখন আর বলেন না, বিদ্যুৎ যায় আর আসে; জনগণ বলে টুকু যায় আর আসে। 

এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিরোধীদলের সাথে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুবা জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে পরে দেখা যাবে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটছে। তখন কিন্তু গদি রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন। 

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার রাতের অন্ধকারে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে! ৭ মাসে ৩ বার তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার জনগণের ঘাড়ে ভোগান্তির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। সর্বস্তরে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি চলছে। পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে মানুষ উদ্বিগ্ন। 

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা সংসদের টু-থার্ড আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণবিরোধী সরকারে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।     

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের ৭ মাসে ৩ বার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে প্রতি সেক্টর জড়িত হওয়ায় তেল দাম বৃদ্ধি হলে এর প্রভাব সব সেক্টরে পড়ে থাকে। কিন্তু সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে দুর্নীতিবাজদের স্বার্থে দফায় দফায় তেলের দাম বৃদ্ধি করছে।  

ডাকসু ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। 

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণ করে; রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না। ক্ষমতা হতে হবে জনতার জন্য। নতুবা জনতা যথাসময়ে যথাযথ জবাব দেবে।

সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে জনগণের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ভোগান্তি দলীয় প্রশাসক দিয়ে নিরসন সম্ভব নয়। এসব ভোগান্তি নিরসনের জন্য অবিলম্বে স্থানীয় সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়ে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। 

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার কথা বলে তেলের দাম বৃদ্ধি করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা। সরকার পে-স্কেল দেওয়ার আগেই তেলের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট থেকে হাজার-হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে নিয়েছে। 

পে-স্কেলে ২৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে সামান্য সুবিধা দেওয়ার নামে সরকার ১৮ কোটি জনগণের পকেট কেটে কোটি-কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলসহ সর্বক্ষেত্রে লু্টপাট চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বাইরে তখন মধ্যপ্রাচ্যের কথা বলে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি নয় বরং এই সিদ্ধান্ত সরকারকেও বিপাকে ফেলবে। গণবিরোধী এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান। 

সমাবেশ শেষে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতাদের অংশগ্রহণে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

‘যাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়েছি, তাদের কাছে মাফ চাই’ বলা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় জামায়াতের ওপর চাপিয়ে রিজভীর বক্তব্যের প্রতিবাদ

এবার বাড়ল বাস ভাড়া

সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে: ভিপি সাদিক কায়েম

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের

দূরপাল্লায় ৮, সিটিতে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির

জ্বালানির দাম কমানো ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনের দাবিতে ঢাকাসহ সব মহানগরীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

তেলের দাম বাড়ানোতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা 

দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারপ্রধানের সফরে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হতো: রিজভী

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ