প্রকাশিত: ২৩ অগাস্ট, ২০২৬ ০৪:০১:১১
প্রজন্ম ডেস্ক: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নীতি গবেষণাকেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব। আমি প্রত্যাশা করি, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত হোক এবং তারা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাক।
তিনি বলেন, যেভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিকভাবে দেখা হচ্ছে, আমরাও বিষয়টিকে একইভাবে দেখছি। এটি মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারকে বিভিন্নভাবে বলার ও বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, রোহিঙ্গারা তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই জায়গা থেকে অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকার যেভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অ্যাড্রেস করেছে, পরবর্তী সরকারগুলো সেভাবে অ্যাড্রেস করেনি বা করতে পারেনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের আমেরিকা, চীন, ভারতকে বোঝাতে হবে। অবশ্যই তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার বিষয় আছে। তবে সবার আগে যাদের বোঝাতে হবে, তারা হলো বাংলাদেশের জনগণ।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে দল-মত নির্বিশেষে, সব মতভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে— এই ভূখণ্ড, এই বাংলাদেশ সবার আগে। যখন ভূখণ্ডের কোনো বিষয় নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাই, তখন ধরে নিতে হবে, সেই আন্তর্জাতিক মোকাবিলা হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। দেশের মানুষের ভালো ও কল্যাণের জন্য।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, সেই বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষেরই দেশের প্রতি একটি কর্তব্যবোধ রয়েছে। আমাদের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদেও বিষয়টি উল্লেখ করা আছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমরা কীভাবে এসব বিষয় মোকাবিলা করব, সেটিও আমাদের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকার কীভাবে বিষয়গুলো মোকাবিলা করবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রামরত থাকলে তাদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হবে—সেটিও আমাদের সংবিধানে বিধৃত আছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা সংকট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। অনেকে বলতে পারেন, রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তখন বিষয়টি তো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলে গেছে। আসলে তা নয়। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সম্পূর্ণ মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সুতরাং এটি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিয়ানমারের কোনো আন্তর্জাতিক বিরোধের বিষয় নয়। এটি মানবাধিকারের বিষয়। হিউম্যান রাইটস বা মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা বিষয়টিকে দেখি। মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুসারেও এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেখান থেকেই আমরা বলছি, রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় নিয়ে আসতে পারলে সেটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিষয়টি নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছেন— কীভাবে বিষয়টিকে অ্যাড্রেস করা যায়, তা নিয়ে কাজ করার জন্য।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় ইস্যু। সেই অখণ্ডতা রক্ষা করতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টিকে হয়তো আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা ডিপ্লোমেটিক, সোশ্যাল কনটেক্সটকেও কখনো বাইপাস করছি না। একই সঙ্গে আমরা মানবাধিকারের বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কোনোভাবেই না আসে।
একই সময়ে সেখানে ক্রমবর্ধমান খুন-জখমের প্রবণতা ও অপরাধের প্রবণতাকেও আমাদের অ্যাড্রেস করতে হচ্ছে। সবদিক বিবেচনা করেই আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই উদ্যোগের পেছনে আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে সোশ্যাল প্রেসার গ্রুপ কিংবা ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। যাতে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়।
আয়োজকদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে যে বিষয়গুলো ভাবছেন, সেই ভাবনাটিই যে একমাত্র সঠিক— এমনটি না ভেবে আপনাদের ভাবনাগুলো আমাদের দিন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে কমিটি রয়েছে, সেখানে সেগুলো উপস্থাপন করুন। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও কমিটি বিবেচনা করবে।
আমি নিজেও বলব, আপনাদের সোশ্যাল প্রেসার গ্রুপ হিসেবে যে সুপারিশগুলো আসছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে কীভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে স্থায়ী সমাধানের পথে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার পক্ষে নই। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিষয় নয়। বিষয়টি হলো— রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী নয়। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা মানুষ। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বলতে চাই, সংস্কৃতিগত ও নৃতাত্ত্বিকভাবে তারা ওই ভূখণ্ডের অধিবাসী এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তারা কিছু সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি ও জায়গা থেকেই আমরা বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস করার পক্ষে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম. হক, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শাকিল আহম্মেদ, রোহিঙ্গা নারী অধিকার কর্মী রাজিয়া সুলতানা প্রমুখ।
রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী
জুলাই বিপ্লব: সংবাদ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া চার নীরব যোদ্ধা
রংপুরে চারজনকে হত্যা করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দাস
জ্বালানি সংকটের সমাধান ধীরে ধীরে হবে: অর্থমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে হবে সমমর্যাদার: বিরোধীদলীয় নেতা
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের নির্দেশ
পাইকগাছায় ফ্রেন্ডশিপের দেশের প্রথম ওডিআর সেন্টার চালু
ধানমন্ডি ৩২-এ ভাঙচুর : ড. ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত
উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র : ইরান প্রেসিডেন্ট
কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম