প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬ ০৪:৪২:০২
প্রজন্ম ডেস্ক: সম্প্রতি সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে পদায়িত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কার্যত বাতিল করার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক চেতনার পরিপন্থি বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (২০ মে) বিকেলে একটি বিবৃতিতে দলটি প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছে। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যাবলিকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে মুক্ত করে সাংবিধানিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। বিচার বিভাগকে যদি তার নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে সংবিধানে ঘোষিত স্বাধীন বিচার বিভাগের ধারণা কাগুজে ঘোষণায় পরিণত হবে।
আরও বলা হয়, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের অধীন প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ রাখা ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর। আদালত যদি স্বাধীন না থাকে, তবে নাগরিকের শেষ আশ্রয়স্থল দুর্বল হয়ে পড়ে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—যে কোনো সরকার যদি বিচার বিভাগের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়, তবে তা গণতন্ত্র, সংবিধান ও জুলাই গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। বিএনপি নিজেদের ৩১ দফার ওয়াদার বরখেলাপ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করলে কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এনসিপি মনে করে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ছিল বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ। সেটিকে বিলুপ্ত বা অকার্যকর করার পরিবর্তে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।
স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না জানিয়ে বলা হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না; এবং রাষ্ট্রের কোনো সংস্কারই অর্থবহ হতে পারে না।
এনসিপি জনগণের অধিকার, সংবিধান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের পক্ষে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা রাজনৈতিক, আইনগত ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব।
‘নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে দেশে ফেরার কথা বলছে হাসিনা’
আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের দাফন দিল্লিতে হয়ে গেছে : সারজিস আলম
শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে জুলাই জাদুঘর : সংস্কৃতিমন্ত্রী
দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে যেতে পারে: পরওয়ার
‘তিস্তা ও করিডোর’ নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে জামায়াত আমীরের সাক্ষাৎ
ইরান- যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, সমঝোতা ভেস্তে যাবার শঙ্কা