ফিলিস্তিন সম্পর্কে মহানবী (সাঃ)এর ভবিষ্যদ্বাণী

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৩ ১০:৩৯:১৮ || পরিবর্তিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৩ ১০:৩৯:১৮

ফিলিস্তিন সম্পর্কে মহানবী (সাঃ)এর ভবিষ্যদ্বাণী

 প্রজন্মপ্রতিনিধি:  সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র নগরী মক্কা এবং মদিনার পরে তৃতীয় পবিত্র ও ভালোবাসার স্থান শামদেশ। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে শামদেশকে কেন্দ্র করে। কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত তৎকালীন সময়ে শামদেশ বলতে- বর্তমান সময়ের সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডকে বুঝানো হতো। এ শামদেশকে কেন্দ্র করে যতগুলো তথ্য হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায়, সেই শামদেশের সীমানা অবশ্য আজকের সিরিয়া থেকে অনেক বিস্তৃত এবং বড় ছিল।
কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের সমন্বয়ে ছিল বিশ্বনবির সময়ের শামদেশ। অবশ্য সে সময়ের শামদেশের সবচেয়ে বড় অংশ বর্তমান সময়ের সিরিয়া হওয়ার কারণেই সিরিয়াকে শাম বলা হয়। শামদেশের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য: যুগে যুগে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যত নবি-রাসুল সারা দুনিয়ায় এসেছিলেন, অধিকাংশ নবি-রাসুলই এসেছেন এ শামদেশে। আবার এ শামদেশ বা অঞ্চলই হবে কেয়ামতের ময়দান। কেয়ামতের দিন সব মানুষ এখানেই সমবেত হতে থাকবে।
"বিশ্বনবির ভবিষ্যদ্বাণী"
এ শামদেশ তথা সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ফিলিস্তিন অঞ্চল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ ম বক্তব্য রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ কিছু তুলে ধরা হলো-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামের ঘোষণা, আমার উম্মাতের মধ্যে এক দল সব সময়ই হকের উপর বিজয়ী থাকবেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত মুগিরাহ ইবনে শোবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন, ‘কেয়ামত আসা পর্যন্ত আমার উম্মাতের এক দল সব সময়ই (সত্যের উপর) বিজয়ী থাকবে। আর তাঁরা হলেন বিজয়ী।’ (বুখারি)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘এ উম্মাতের কার্যকলাপ কেয়ামত অবধি কিংবা বলেছিলেন, মহান আল্লাহ্‌ তাআলার হুকুম আসা পর্যন্ত (সত্যের উপর) সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে।
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে একদল বা বিশেষ শ্রেণীর লোক থাকবে যারা সত্যের পথে লড়াই করতে থাকবে। তাদের সঙ্গে আল্লাহর সাহায্য থাকবে। আর তারা সত্যের পক্ষের সংগ্রামকে কেয়ামত না আসা পর্যন্ত অব্যাহত রাখবে। এ সংগ্রামী মানুষকে যারা ক্ষতি করতে চায়, কেউ তাদের কোনো ক্ষতিও করতে পারবে না। হাদিসে উল্লেখিত যে দলটির কথা বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য পাবেন এবং সত্যের উপর অবিচল থাকবেন, তাদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম বলেছেন-
> এ দলটি শামদেশ অঞ্চলের অবস্থানকারী হবেন। আর তা হবে ঠিক কেয়ামতের আগ মহূর্তে। তাছাড়া তাবরানির এক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে দলটি থাকবে সিরিয়া বা শামে।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় সিরিয়া ও ইয়ামেন সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে দোয়া করেছেন-‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি শামেনা ওয়া ফি ইয়মানিনা।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শাম এবং ইয়ামেনে বরকত দান করুন।’
এ দোয়া শুনে উপস্থিত ব্যক্তিরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের নজদেও বরকত দান করুন’- আপনি এ দোয়াও করুন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কথা না শোনে আবারও শাম এবং ইয়ামেনের জন্য বরকতের দোয়া করলেন। এভাবে তৃতীয়বারও লোকেরা নজদের জন্য দোয়া করতে বললেন, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম ও দ্বিতীয় বারের মতো একই দোয়া করলেন।
তারপর রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নজদ; সে স্থানে তো ফেতনা-ফাসাদ হবে; সেখানে তো হত্যা, মারামারি হবে; খুনাখুনি হবে; সেখানে ভূমিকম্প দেখা দেবে এবং সেখান থেকে শয়তানের আবির্ভাব হবে। এখানে নাজদ বলতে যে অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে, অধিকাংশ ইসলামিক স্কলার নাজদ বলতে ইরাককে বুঝিয়েছেন। কেননা নাজদ বলা হয় উঁচু অঞ্চলকে। আবার সৌদি আরবের হেজাজকেও নজদ বলা হয়। তবে কানজুল উম্মালের বর্ণনায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নজদ বলতে ইরাকের কথাই বলেছেন। মূল কথা হলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বরকত ও কল্যাণ চেয়েছেন শামবাসীর জন্য। সেহিসেবে শাম অঞ্চল বা সিরিয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রিয় ভূখণ্ড।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে হাওয়ালা রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন, ‘যখন তুমি দেখবে খেলাফত কোনো পবিত্র ভূমিতে অবতরণ করেছে বা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন তুমি মনে করবে যে, কেয়ামত খুব সন্নিকটে এসে গেছে।’ (আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদ)

এ হাদিসে উল্লেখিত পবিত্র ভূমি সম্পর্কে হাদিস বিশারদগণ বলেছেন, ‘এ পবিত্র ভূমি বলতে শাম অঞ্চল বা সিরিয়া। উল্লেখিত হাদিসের পর্যালোচনা করলেই তা প্রমাণিত হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিরিয়াকে মুসলিম বিশ্বের হৃদপিণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন বা মন্তব্য করেছেন।’ (তিরমিজি) অর্থাৎ শামের লোকেরা যখন খারাপ হয়ে যাবে। মন্দ এবং খারাপ দিক যখন সিরিয়া বা শামের লোকদেরকে আক্রমণ করবে বা খারাপে পরিণত হবে; তখন তোমরা ধরে নেবে যে, পৃথিবীর কোনো অঞ্চল বা ভূখণ্ডে মুসলমানদের মধ্যে আর কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট নেই।

অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের মতো সিরিয়া বা শাম অঞ্চলের মানুষের মধ্যে যখন পছন ধরবে তখন পুরো দেহে তথা গোটা মুসলিম বিশ্বের পছন ধরে গেছে বলে মেনে নিতে হবে। এ হাদিসেও সিরিয়া বা শামদেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একটা সময় আসবে যখন গোটা বিশ্বে বড় বড় যুদ্ধ দেখা দেবে তখন নওমুসলিমদের একটি দল আল্লাহর পক্ষে, সত্যের পক্ষে আল্লাহর দ্বীনের জন্য সংগ্রাম করতে থাকবে। ওই সময় আধুনিক যত অস্ত্র-শস্ত্র থাকতে তা নিয়েই তারা সজ্জিত থাকবে। আর সত্যের পক্ষে লড়াই করতে থাকবেন। (ইবনে মাজাহ)
সুতরাং চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে আল্লাহ তাআলার বিশেষ সাহায্য ও অনুগ্রহ পাওয়ার কথা ঘোষিত হয়েছে। আর তা আসবে সিরিয়া নামক দেশের দামেস্ক শহরে।

হজরত নাওয়াস ইবনে সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার দাজ্জাল প্রসঙ্গে দীর্ঘ ও বিশদ আলোচনা করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, কেয়ামতের আগে হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম যে আসমান থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। তিনি যে স্থানে অবতরণ করবেন মূলত সিরিয়ার দামেস্ক নাম শহরে পূর্ব অঞ্চলে উঁচু এবং সাদা মিনারায়। তিনি অবতরণ করে দুনিয়াতে আসবেন এবং সারা দুনিয়ায় তাণ্ডব চালানো দাজ্জালের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করবেন। আর সিরিয়ার ‘লুদ’ নামক স্থানে তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন।’ (মুসলিম)
একজন মুসলমানের কাছে শাম অঞ্চল যে তাৎপর্যপূর্ণ তা পরিস্কারভাবে এ হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্ট।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কেয়ামতের আগে ইয়ামেনের হাজরামাউত নামক শহরে আগুনের তাপ দেখা দেবে, আগ্নেয়গিরি দেখা দেবে। আর সে আগুন মানুষকে ধাওয়া করতে থাকবে।কেয়ামতের আগ মুহূর্তে সেই পরিস্থিতি আসলে করণীয় কী হবে? সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহাবায়ে কেরাম দিকনির্দেশনা চেয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন- ‘তোমরা শামদেশ তথা সিরিয়ায় গিয়ে আশ্রয় নেবে।’

হাদিসের অন্য বর্ণনায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন তিন (সিরিয়া, ইয়ামেন এবং ইরাকে) স্থানে এক সঙ্গে যুদ্ধ চলবে, তখন এক সাহাবি জানতে চাইলেন। হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে কোন পক্ষের হয়ে লড়াই করার নির্দেশ করবেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তুমি শামের হয়ে তথা সিরিয়ার হয়ে লড়াই করবে। যদি শামের পক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য না থাকবে তবে ইয়ামেনের পক্ষে লড়াই করবে। এ হাদিস থেকে সুস্পষ্ট যে, শামের গুরুত্ব অনেক বেশি।

কেয়ামতের আগে যে আগ্নেয়গিরি দেখা যাবে, যে আগুনের তাপ দেখা দেবে, সে আগুন মানুষকে ধাওয়া করতে থাকবে। সারা পৃথিবীর মানুষকে ধাওয়া করতে করতে থাকবে। মানুষকে ধাওয়া করতে করতে একটা সময় এক জায়গায় একত্রিত করবে। আর সেটি হলো সিরিয়া। পিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষায়- ‘আরদুল মাহশারে ওয়াল মানশার’ অর্থাৎ সিরিয়াই হবে কেয়ামতের ময়দান। কেয়ামতের সময় মানুষ সারা পৃথিবী থেকে এসে এ শাম অঞ্চলেই একত্রিত হতে থাকবে। (মুসনাদে আহামদ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর ফেরেশতারা শাম অঞ্চলের উপরে তাদের ডানা বিছিয়ে দিয়ে আছেন। অথবা ডানা বিছিয়ে রাখবেন।’

অন্য এক হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্বপ্নে বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘একবার আমি শুয়েছিলাম। দেখলাম আমার মাথার নিচ থেকে আল্লাহর কিতাবকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। আর সেটাকে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন আমি তাকিয়ে দেখতে থাকলাম, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
দেখলাম একটা আলোকরশ্মি চলে যাচ্ছে। যেতে যেতে  সেটা শাম অঞ্চল তথা সিরিয়ার ভূমি পর্যন্ত চলে গেল। আর সেটা সেখানেই অবতরণ করল। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যখন সারা পৃথিবীতে ফেতনা ফাসাদে ভরে যাবে তখন ঈমানের ঠিকানা হবে শাম বা সিরিয়া অঞ্চল আর ঈমানদারদের শেষ আশ্রয়স্থলও হবে শাম বা সিরিয়া অঞ্চল।
উল্লেখিত হাদিস থেকে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, কেয়ামতের আগ মুহূর্তে পবিত্র নগরী মক্কা-মদিনা থেকেও ঘটনাবহুলস্থানে পরিণত হবে শামদেশ তথা- কুরআন-সুন্নাহর পরিভাষায়, সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ফিলিস্তিন অঞ্চল। আর এ স্থানগুলো মর্যাদাও অনেক বেশি।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-
হাদিসে বর্ণিত সেই শামদেশে সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন চলছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কসাইখানায় পরিণহ তচ্ছে শামদেশ তথা সিরিয়া, ফিলিস্তিন। এ দেশগুলো নিরীহ নারী-পুরুষসহ শিশুদের উপর চলছে মারাত্মক নির্যাতন। এসব মানুষের রক্তকে হালাল মনে করে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এসব অঞ্চলের নারী-পুরুষ ও শিশুদের কান্না ও রোনাজারিতে ভারি হয়ে ওঠছে সেখানকার আকাশ-বাতাস। অত্যাচারীদের নির্যাতনে বয়ে চলছে রক্তের নদী। হে মুসলিম উম্মাহ
শুনতে কি পাও তাদের আর্তনাদ।
মনে করুন, আপনার এখন ফিলিস্তিন যাওয়ার একটা সুযোগ আসছে মুসলমানদের পক্ষে লড়াই করার জন্য।তো ! আপনি যেতে পারবেন, যদি:
আযানের সাথে সাথে সমস্ত দুনিয়াবী কাজ ফেলে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস আপনার থাকে।
বর্তমান কর্মস্থল (চাকরি বা ব্যবস্যা) ছেড়ে যে কোনো দ্বীনি প্রোগ্রামে সাথে সাথে যাওয়ার অভ্যাস থাকে,
আপনার পরিবার ( স্ত্রী, সন্তান, মা, বাবা, ভাই, বোন) ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজন এর চেয়ে আল্লাহ্ ও তার রাসূল (সা:) এর প্রতি বেশী ভালোবাসা থাকে।
যে কোনো গুনাহের কাজকে ঘৃন্য মনে হয়, আর তা থেকে বেঁচে থাকতে পারছেন এবং সামান্য নেকীর কাজকেও খুব ভালো লাগে বা করতে আগ্রহ হয় বা না করতে পারলে মনে অনেক খারাপ লাগে।
কারো সাথে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা শুধু ঈমান ও ইসলামের খাতিরে, দুনিয়াবি কোনো স্বার্থের জন্য না হয়।
ইসলাম থেকে কুফরের দিকে ফিরে যাওয়া জ্বলন্ত আগুনে ঝাপ দেওয়ার চেয়েও বেশী কঠিন মনে হয় এবং
দুনিয়ার তুলনায় আখেরাত আপনার কাছে বেশী প্রাধান্য পেয়ে থাকে;তাহলেই কেবল আপনার পক্ষে সম্ভব, নচেৎ নয় ।।
"হৃদয়ে ফিলিস্তিন"
-আল-আকসা মসজিদ ফিলিস্তিনে।
-বিশ্ব মুসলিমদের প্রথম কেবলা এই মসজিদ।
-অসংখ্য নবীদের জন্মস্থান এই ফিলিস্তিন।
-অনেক নবীগণ এই মসজিদের ইমাম ছিলেন।
-কুরআনে আল-আকসা মসজিদের নাম রয়েছে।
-এখান থেকেই নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) মিরাজে যান।
-এই মসজিদে নামাজ আদায়ের সওয়াব বেশী।
-এই মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েজ।
-মুসলিমরা ফিলিস্তিনের স্থানীয় বাসিন্দা।
-ইয়াহুদীরা ফিলিস্তিনের যবর দখলদার।
-এখানেই রয়েছে ইব্রাহিম এবং মূসা (আঃ) সহ অসংখ্য নবী রাসুলের কবর।
-এখানেই আল্লাহর মহানবী রাসুল (ﷺ) সকল নবী রাসুলদের এবং ফেরেস্তাদেরকে নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন। সেই জামাতের ইমাম ছিলেন মহানবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এবং -এই জামাতে মতান্তরে প্রায় চব্বিশ হাজার নবী রাসুল ছিলেন।
-এই মসজিদের নির্মাণের সাথে জড়িয়ে আছে আদম এবং সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর নাম।
-এর সাথে জড়িয়ে আছে খলিফা উমর (রাঃ) এর সেই বিখ্যাত বাইতুল মাকদিস বিজয়ের ঘটনা।
-এখানের সাথেই জড়িয়ে আছে দ্যা গ্রেট সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবীর অসংখ্য স্মৃতি।
-এই মসজিদের পাথরের গায়ে লেখা রয়েছে সম্পূর্ণ সূরা ইয়াসিন।
-এই মসজিদের জন্য জ্বীনদের দ্বারা পাথর উত্তোলন করা হয়েছে গহীন সাগরের তলদেশ থেকে। যা কিনা কোন মানুষের পক্ষে অসম্ভব!!!
-এই মসজিদে ২ রাকাআত নামাজ আদায় করার জন্য একজনের আমল নামায় ২৫ হাজার রাকাআত নামাজের সমপরিমাণ সওয়াব লিখা হবে।
-পবিত্র কুরআনে সূরা ইসরার শুরুতেই মহান আল্লাহ এই মসজিদ নিয়ে আলোচনা করছেন।
-হে আল্লাহ্ বিশ্ব মুসলিমদের প্রথম কেবলা জালেম ইজরাঈল দের দখলমুক্ত করে মাজলুম ফিলিস্তিনী মুসলিমদের কাছে ফিরিয়ে দিন এবং বিশ্ব মুসলিমদের এক হয়ে ইজরাঈলদের বিরুদ্ধে -লড়ে যেতে গায়েবী সাহায্য করুন


প্রজন্মনিউজ২৪/এসআই

এ সম্পর্কিত খবর

ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার, শাস্তির দাবি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

‘একজন সচেতন তরুণই পারে গণতান্ত্রিক ও উন্নত সমাজ গড়তে’

কূটনীতিকদের সম্মানে জামায়াতের ইফতার মাহফিল

যারা জনগণের ভোগান্তির কারণ হবেন, তাদের ছাড় নেই: গণপূর্তমন্ত্রী

তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দায় কার ঘাড়ে চাপছে

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স‌ঙ্গে সৌ‌দি-তুরস্ক ও গা‌ম্বিয়ার মন্ত্রী‌দের সাক্ষাৎ

তারেক রহমান সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি সম্পন্ন রিলাক্স

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অর্থনৈতিক সংস্কার: তারেক রহমান।

ভিসা চালু নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ