প্রকাশিত: ০২ অগাস্ট, ২০২৬ ০৪:৩১:০৪ || পরিবর্তিত: ০২ অগাস্ট, ২০২৬ ০৪:৩১:০৪
প্রজন্ম ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই সরকার চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ঘরে গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, শুরু হয়েছে জ্বালানি সংকট। ব্যাংকে টাকা নেই এবং পুরো দেশজুড়ে চলছে দলীয় সন্ত্রাস।
রোববার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘জান দেব, জুলাই দেব না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ভারতে মোদি যেভাবে কথা বলেন, বাংলাদেশেও আমরা সেই কথার প্রতিধ্বনি শুনছি। অনেকে বলেন, দেশে নাকি আবার ফ্যাসিবাদ আসা শুরু করেছে; আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ মাসে কীভাবে তা সম্ভব? আসলে ফ্যাসিবাদ নতুন করে আসেনি, ফ্যাসিবাদ আগে থেকেই রয়েছে এবং তারেক রহমান এখন সেটির ওপর বসেছেন। আগে এই ফ্যাসিবাদের চেয়ারে ছিলেন শেখ হাসিনা। কথা ছিল ফ্যাসিবাদের চেহারা ও চেয়ার—দুটোই বাদ যাবে এবং ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক হবে। কিন্তু তারেক রহমান সেই পথে না হেঁটে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের জন্য প্রস্তুত নয়। ইনশাআল্লাহ আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াব এবং লড়াই করব। এর পরিণতি দুটি হতে পারে—হয় জেলে যাব, না হয় কবরে যাব। কিন্তু কারও সঙ্গে আপস (নেগোশিয়েট) হবে না, কারও কাছে মাথা নত করব না। এটি আজাদীর বাংলাদেশ, এটি ওসমান হাদীর বাংলাদেশ।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা এক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করেছিলাম। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। ব্যর্থতার সেই জায়গা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করতে চাই। তবে সেই পথেই আমরা ফের হোঁচট খেয়েছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আপনারা জানেন, বিএনপির একটি নির্বাচনী টিমে সামসুল আলম নামে এক ব্যক্তি ছিলেন। তাকে এখন অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মূলত পাঁচ বছর পর যে নির্বাচন হবে, সেটির জন্য এখন থেকেই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে—যাতে তিনি সচিব পদে থেকে নগ্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আরেকটি ডামি নির্বাচন পরিচালনা করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র চায় না; তারা এখন ‘আয়তন্ত্র’ চায় এবং একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে থাকতে চায়। দ্বিতীয়ত, আমরা শুরু থেকেই এই সংসদে সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা করেনি। পাঁচ মাস পর এখন তারা চিন্তা করছে—আগামী যে নির্বাচন হবে, সেখানে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির একটি ভূমিকা থাকে। আবার আমাদের ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত হলে সেখানেও রাষ্ট্রপতির ভোটিং ক্ষমতা থাকে। ফলে নিজেদের সেই ভোটিং ক্ষমতা নিশ্চিত করতেই তারা একজন দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করছে। কিন্তু বঙ্গভবন বা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটি দলীয় হওয়া উচিত নয়। সরকার যদি এভাবে দলীয় রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিতে থাকে, তবে রাষ্ট্রপতির মতো সম্মানজনক পদটিকে কলঙ্কিত করা হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে আমরা একসময় দাবি তুলব—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ভোটের মাধ্যমে হতে হবে এবং কোনো দলীয় ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে বসতে পারবেন না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, জুলাই সনদ বিএনপিকে বাস্তবায়ন করতেই হবে। বিএনপি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে যতই বলুক যে এটা বাস্তবায়ন করবে না, আমরা তাদের সে পথ দেব না। তারা একটি সংশোধনী কমিটি বানিয়েছে; তবে বিরোধী দলকে ধন্যবাদ যে তারা সেখানে অংশ নেয়নি। বিরোধী দল এ বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু জুলাই সনদ সংশোধন করা হয়নি এবং তারা নতুন করে সংশোধনী কমিটি গঠন করেছে, তাই আমাদের এই লড়াই এখন রাজপথে নেমে এসেছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজপথে আমরা সংসদের সামনে উপস্থিত হব। আর যেদিন উপস্থিত হব, সেদিনই বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
এনসিপির মামলায় জামিন পেলেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা কর্মীরা
সরকারের আশ্বাসে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা
ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি : জামায়াত আমির
প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই সরকার চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী
পুলিশ কোনো বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের বাংলাদেশ সফর শেষ, সম্পর্ক শক্তিশালী করার অঙ্গীকার
নতুন রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় এখন তিন নাম
ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতার সাক্ষী ‘আয়নাঘরের’ দেয়াল : চিফ প্রসিকিউটর