প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬ ১১:৫০:০৫
প্রজন্ম ডেস্ক: প্রচণ্ড গরমে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ মনে হলো, খুব সাধারণ একটি হিসাবও যেন ঠিকমতো মিলছে না। কোনও সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বারবার দ্বিধায় পড়ছেন। অফিসের কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ভাবেন, এটি হয়তো শুধু ক্লান্তি। কিন্তু গবেষণা বলছে, বিষয়টি এর চেয়েও গভীর। উচ্চ তাপমাত্রা শুধু শরীরকে নয়, মানুষের মস্তিষ্ককেও প্রভাবিত করতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিন অতিরিক্ত গরমে বসবাস করলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদেও দেখা দিতে পারে।
কেন গরমে ধীর হয়ে যায় মস্তিষ্ক?
মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। প্রচণ্ড গরমে শরীর তাপ কমানোর চেষ্টা করে, ফলে রক্তপ্রবাহের একটি বড় অংশ ত্বকের দিকে চলে যায়। গবেষকদের ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ ও শক্তি সরবরাহের পরিবর্তন ঘটে, যা চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।
এর সঙ্গে যোগ হয় গরমজনিত ক্লান্তি এবং ঘুমের সমস্যা। ফলে মস্তিষ্কের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকা আর না থাকার পার্থক্য
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর একটি গবেষণা চালান গবেষক সেদেনো লরেন্ট ও তার সহকর্মীরা।
১২ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন দুটি মানসিক দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। একদল শিক্ষার্থী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনে থাকতেন, অন্যদল থাকতেন এমন ভবনে যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল না।
ফলাফলে দেখা যায়, যেসব শিক্ষার্থী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ছিলেন না, তারা গাণিতিক পরীক্ষায় প্রতি মিনিটে কম সঠিক উত্তর দিয়েছেন। মনোযোগ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের পরীক্ষাতেও তারা তুলনামূলক ধীর ছিলেন।
শুধু সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদেও প্রভাব
এটি শুধু কয়েক ঘণ্টার সমস্যাই নয়। ২০২৪ সালে চীনের ৫৩ হাজারের বেশি মানুষের ওপর আট বছর ধরে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যেসব এলাকায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিন বেশি, সেখানে মানুষের জ্ঞানীয় সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমার প্রবণতা দেখা যায়।
গবেষকদের হিসাবে, ৩২ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়লে গড় জ্ঞানীয় সক্ষমতা প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে, শতাব্দীর শেষ নাগাদ মানুষের গড় জ্ঞানীয় সক্ষমতা ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলেও গবেষণাটির পূর্বাভাস।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক ব্যক্তি, যাদের দেহের ওজন তুলনামূলক বেশি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে গরমের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা বেশি হতে পারে।
এছাড়া একটানা তাপপ্রবাহ শেষ হওয়ার পরও কয়েক দিন পর্যন্ত চিন্তা ও মনোযোগে প্রভাব থাকতে পারে।
গরমের দিনে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমের দিনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকা উচিত।
সম্ভব হলে বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা জটিল পরিকল্পনা কিছুটা ঠান্ডা পরিবেশে কিংবা গরম কমার পর করা ভালো।
পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ভালো ঘুম এবং শীতল পরিবেশে কিছু সময় কাটানো মস্তিষ্কের ওপর গরমের প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
শেষ কথা
গরমকে আমরা সাধারণত শুধু শারীরিক অস্বস্তির কারণ হিসেবে দেখি। কিন্তু গবেষণা বলছে, এর প্রভাব আমাদের চিন্তা, বিচার-বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপরও পড়তে পারে।
তাই প্রচণ্ড গরমের দিনে যদি মনে হয় মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না, সেটি শুধু আপনার অনুভূতি নাও হতে পারে। অনেক সময় এর পেছনে কাজ করে তাপমাত্রারই নীরব প্রভাব।
যদি ভালো কিছু অর্জন হয়ে থাকে— এটি বাংলাদেশের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী
কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে বাচ্চা রেখে চলে গেল বিদেশি পরিবার
‘আয়োজকরা চায় আমরা বাদ পড়ি’ — ইরান অধিনায়ক
বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ সব চুক্তি সংসদে উত্থাপনের আহ্বান
শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা প্রয়োজন: সেনাপ্রধান
গরমে কি মানুষের বুদ্ধি কমে ? গবেষণা যা বলে
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ