তেতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

চরফ্যাশনে ভূমি হারানোর আশংকায় হাজারো পরিবার

প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৩:২৯:৪০

চরফ্যাশনে ভূমি হারানোর আশংকায় হাজারো পরিবার

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাশনে বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতাসহ একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। এতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে নদী ভাঙনে ভিটে বাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নজরুল নগর ও মুজিবনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরহাট লঞ্চঘাট সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে দিনের আলোতেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এসব বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত ৭ থেকে ৮টি বিশালাকার ড্রেজার জাহাজ। যা দিয়ে প্রতিনিয়ত নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদী শাসনের জন্য ফেলা কংক্রিট ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

বাবুরহাট ঘাটের ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেন, সমাজকর্মী জাহিদ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তিরা জানান,নজরুলনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। 

এছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ড্রেজার চালক জানান, প্রতিটি ড্রেজার জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়েই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করেন ছাত্রদল নেতা।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হাসানের বড় ভাই ইউপি সদস্য জাহিদুল শিকদার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ করছেন।

এদিকে বাবুরহাট লঞ্চঘাট এলাকার আনিসুর রহমান জুলফিকার বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী শাসনের জন্য ফেলা বড় বড় ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীর গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান মুন্সি বলেন, “ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র হলে নজরুলনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।” তাই এখনই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

এব্যাপারে নজরুলনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে আমি জড়িত নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ্রচার চালাচ্ছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলা-২ এর সহকারী প্রকৌশলী আহসান হাসান বলেন, শুনেছি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেন বলেন, অসাধু চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে মর্মে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে চক্রকে ধরতে কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই চক্রটি পালিয়ে যায়। আরো অভিযান চালাবো।  না পেলে এদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে ।


 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ