বগুড়া ডাকঘরে ডাকাতি ও প্রহরী হত্যার হোতা গ্রেপ্তার 

প্রকাশিত: ০৫ মে, ২০২৩ ০১:৫২:০২ || পরিবর্তিত: ০৫ মে, ২০২৩ ০১:৫২:০২

বগুড়া ডাকঘরে ডাকাতি ও প্রহরী হত্যার হোতা গ্রেপ্তার 

সামিদুল ইসলাম, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার প্রধান ডাকঘরে ডাকাতি ও প্রহরীর দায়িত্বে থাকা প্রশান্ত আচার্য নামে এক অফিস সহায়ককে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

ডাকঘরের ভল্ট কাটার জন্য ব্যবহৃত হ্যান্ডড্রিল মেশিনের প্যাকেটের গায়ে লেখা কোডের সূত্র ধরে এবং ডিজিটাল ফুট প্রিন্টের ভিত্তিতে আসামিকে শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৪ মে) দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী তার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

গ্রেপ্তার শফিকুল ইসলাম (৪০) পেশাদারভাবে ডাকাতি, ছিনতাই, চুরির সঙ্গে জড়িত। তিনি সাপাহারের পশ্চিম করমডাঙ্গার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। বগুড়া সদর থানা এবং ডিবি পুলিশ গতকাল সন্ধ্যায় সাপাহারের ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে নওগাঁ, ডিএমপি, আরএমপি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

গত ২৪ এপ্রিল রাতে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় অবস্থিত প্রধান ডাকঘরের ভল্ট কেটে ডাকাতির সময় ডাকঘরের প্রহরীর দায়িত্বে থাকা অফিস সহায়ক প্রশান্ত আচার্যকে হত্যা করে ৮ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। নিহত প্রশান্ত আচার্য বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া হিন্দুপাড়ার প্রাণকৃষ্ণ আচার্যের ছেলে। ঘটনার দিনই পোস্টঅফিস পরিদর্শক মো. মাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শফিকুল জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাটে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিলেন। গত মার্চের ১২ তারিখে তিনি শার্ট বানানোর জন্য নওগাঁ থেকে বগুড়ায় আসে এবং পোস্ট অফিসের সামনে মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখার সময় দেখতে পান লোকজন পোস্ট অফিস থেকে টাকা তুলে বের হচ্ছেন। তখন তার মাথায় পোস্ট অফিসের ভল্ট কেটে টাকা লুট করার পরিকল্পনা আসে। এরপর তিনি পোস্ট অফিসের ভেতরে যান এবং ভোল্ট রুম ও সিসি ক্যামেরার অবস্থানসহ সমস্ত জায়গায় রেকি করে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে নেন। এরপর ১৫ মার্চ আবারও বগুড়া এসে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্রয় করেন। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ এপ্রিল আনুমানিক রাত ১০টায় বগুড়ায় আসেন। সারারাত ঘোরাফেরা করে ২১ তারিখ রাত ২/৩টার দিকে পোস্ট অফিসের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর পোস্ট অফিসের মসজিদ ও গ্যারেজের পিছনে এক কোণায় অপেক্ষা করতে থাকে। পরে সকালে পোস্ট অফিসের গার্ড প্রস্রাব করতে গেলে তিনি যন্ত্রপাতির ব্যাগসহ কেঁচিগেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। দুপুরে ভোল্ট রুমের দিকে যান এবং জানালার গ্রিল ভেঙে ভোল্ট রুমে প্রবেশ করেন। ভোল্ট রুমে প্রবেশ করে ভোল্ট রুমের সিসি টিভি ক্যামেরার লাইন কেটে দেন এবং ভোল্ট কাটেন কিন্তু টাকার বাক্স দুরে থাকায় টাকা নিতে পারেননি। পরে সবকিছু ওইখানে রেখে সন্ধ্যা ৬/৭ টার দিকে মূলগেট টপকে বাইরে বের হয়ে তার নওগাঁর ভাড়া বাসায় চলে যায়। একদিন নওগাঁর ভাড়া বাসায় অবস্থান করে রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। 

পুলিশ সুপার বলেন, এরপর রাত সাড়ে ৯টায় বগুড়ার উদ্দেশে রওনা করে বগুড়ায় পৌছার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওয়াল টপকে পোস্ট অফিসের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে পোস্ট অফিসের বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে সোজা ভোল্ট রুমে চলে যায়। ভোল্ট রুমের টাকার বাক্স কাছে নিয়ে আসার কিছু না থাকায় সে অন্য ২/৩টা রুমের তালা কেটে ভেতর থেকে একটি লম্বা রড নিয়ে আসে। রুমের তালা কাটার শব্দে কর্তব্যরত গার্ড জেগে যায় এবং গার্ডের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরবর্তীতে তার কাছে থাকা এসএস পাইপ দিয়ে গার্ডের মাথায় আঘাত করে ও গলা চেপে ধরে থাকে এতে ঘটনাস্থলেই গার্ড মারা যায়। তিনি পুনরায় ভোল্ট রুমে গিয়ে ওই রড দিয়ে ভল্ট রুমে থাকা র‌্যাকটি কাছে নিয়ে এসে র‌্যাকে রক্ষিত ৮ লাখ টাকা তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে নিয়ে সকাল ৭টায় মৃত গার্ডের পকেটে থাকা কেঁচিগেটের চাবি বের করে নিয়ে ভিতরের গেট এবং মূল গেটের তালা খুলে বাহিরে বের হয়ে বাহির থেকে মূলগেট তালা দিয়ে নওগাঁ চলে যান। 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামি একজন পেশাদার চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে ডিএমপি বনানী থানা এলাকায় জনতা ব্যাংকের ভল্ট কেটে টাকা লুন্ঠন করার সময় গ্রেপ্তার হন। এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় দোকানঘরে চুরি, বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি, ছিনতাইসহ ভারতেও ডাকাতি ও ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে কারাভোগ করেছে।

পুলিশ সুপার সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, আজকে তাকে আদালতে নেওয়া হবে। সেখানে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার, শরাফত ইসলাম, সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দীকী, জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ সাইহান ওলিউল্লাহ, সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহিনুজ্জামানসহ একাধিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রজন্মনিউজ২৪/এসএস

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ