শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি শিবিরের

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৩:০৪:১৭

শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি শিবিরের

প্রজন্ম ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন, কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু এবং শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধসহ শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা, সাভার, মিরপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের কারণে ঢাকা, গাজীপুর ও আশুলিয়ার অন্তত ৬৭৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরিবর্তে আন্দোলনকে রাজনৈতিক ইন্ধন হিসেবে আখ্যায়িত করে দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে সরকার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। লাখো শ্রমিকের শ্রম ও অবদানে এই খাত দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জোগান দিচ্ছে। অথচ দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০২৩ সাল থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় আটকে রয়েছে। সম্প্রতি মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ একই বাজারব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া পোশাকশ্রমিকদের বেলায় ন্যায্য মজুরির দাবিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বা ‘উসকানি’ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চলছে, যা স্পষ্ট দ্বিচারিতা।

এছাড়াও বলা হয়, তৈরি পোশাকশিল্পকে ঘিরে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি বা বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তি কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র কিংবা নাশকতার চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সংলাপের মাধ্যমে সংকটের যৌক্তিক সমাধান করতে হবে। পোশাকশিল্পের ব্যস্ততম মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশের রপ্তানি আয় ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষায় শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়নগুলোকেও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। 

এ সম্পর্কিত খবর

শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি শিবিরের

মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের পরাজয়ের একটি কারণ ইরান যুদ্ধ, স্বীকার করলেন ট্রাম্প

সাভারে পোষাক শ্রমিকদের তাণ্ডব, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০

পোশাকশ্রমিকদের নতুন কাঠামোয় বেতন দিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ একমত 

এলপিজির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে: জামায়াত

আলোচনা করে অবিলম্বে শ্রমিকদের ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি নাহিদ ইসলামের

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এবার নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

‎জবি শিক্ষার্থীদের অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন না করার আহবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ