শেষ দিনের স্মৃতি

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৪ ০২:৩৮:০৫

শেষ দিনের স্মৃতি

নাফিজ আহমেদ: শহরে সারাদিনের ব্যস্ততা শেষ করে নিজ বাসায় ফিরছি ৷ পথিমধ্যে হঠাৎ আমার নজর পরে এক অচেনা ব্যাক্তির দিকে। আমি উপলব্ধি করতে পারি অচেনা লোকটি নিরব পরিবেশে একাকী একটা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কি যেন গভীর চিন্তায় বিভোর হয়ে গেছে। আমি তার পাশে যাওয়াতে সে বুঝতে পেরে একটু স্বাভাবিক হয়ে উঠল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম কি ভাই শহরে নতুন নাকি? সে কোন জবাব দিল না। আমি তাকে অবহিত করলাম সমস্যা নেই ভাই আমাকে নিজের বন্ধু ভাবতে পারেন। লক্ষ্য করলাম লোকটি কোন একটা বিষয় নিয়ে খুব গভীর ভাবে শোকাহত। তারপরও নিজে কাছে থাকা পানির বতল দিয়ে বললাম নিন, একটু পানি পান করে আমাকে আপনার ভিতরে জমে থাকা কথাগুলো বলুন। দেখবেন আপনার মনটা অনেক হালকা হয়ে যাবে। কিছুক্ষণ পরে অবলোকন করলাম যে, লোকটার চোখের কোনা দিয়ে দুঃখের জলস্রোত অঝরে দাঁড়ি বয়ে প্রবাহ নদীর ন্যায় বইছে। আমি তাকে শান্তনা দিলাম।

পরিশেষে সে তার সাথে ঘটে যাওয়া কথাগুলো আমাকে অবহিত করতে থাকল। লোকটি বলল, আজ থেকে পাঁচ বছর আগে আমি একজন সাধারণ মানুষের মতো সবার সাথে আমার গ্রামে বসবাস করতাম। আমার গ্রামটা ছিল আমার কাছে অনেক প্রিয়। গ্রামের প্রতিটা স্তরের মানুষের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। অবসর সময়ে আমি আমার ছোট বোনকে নিয়ে ঘুরতে বাহির হতাম। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য সারাদিন অনেক পরিশ্রম করতাম। এইজন্য তাদের সাথে খুব একটা সময় দিতে পারতাম না। ছোট্ট একটা পরিবার তারপরও পরিবারের হাল ধরার মতো কেউ নেই। বাবা, আমি  ছোট্ট থাকতেই কোন এক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পরলোকগমন করছে। সেই থেকে লেখাপড়া আর করিনি। নিজের মধ্যে অনেক স্বপ্ন এঁকে ছোট বোনকে লেখাপড়া করাতাম। আমার ছোট বোন ছিল খুবই মেধাবী ছাত্রী। গ্রামেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে। এরপর ওকে শহরে আসতে হয় উচ্চশিক্ষার জন্য। এইজন্য পরিবারের সকলকে ভালোভাবে বুঝিয়ে আমি ওকে নিয়ে এই শহরে চলে আসি। দুই ভাই-বোনের মনে অনেক আশা স্বপ্ন নিয়ে পা রাখি এই শহরে। আমি এখানেই কাজ করতাম আর বাড়িতে টাকা পাঠাতাম। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে ওর লেখাপড়ার খরচ চালাতাম। সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু সকলের কপালে কি আর সুখ সহ্য হয়! হঠাৎ এক আধার ভরা রাত্রিতে আমি ওকে নিয়ে আমাদের বাসায় ফিরছিলাম। পথিমধ্যে কয়েকজন লোক আমাদের বাসের সামনে আসতেই, বাস চালক তাদেরকে তুলে নেয়। বিষয়টা আমরা স্বাভাবিক ভাবে নিই। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে উপলব্ধি করি বাস চালক আমাদের বাড়ির দিকে না গিয়ে অন্য দিকে যাচ্ছে। বিষয়টা আমার সন্দেহ জনক লাগলে আমি তাদের কে জিজ্ঞাসা করি আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? এটাতো আমাদের বাড়ির রাস্তা নয়। হঠাৎ
পিছন থেকে একজন আমার মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাত দিলে আমি অচেতন হয়ে পরে যাই। যখন আমার জ্ঞান আসে আমি খেয়াল করি আমাকে কে যেন হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। আমি তাদেরকে বলি আমার বোন কোথায়? তারা আমাকে লাশঘরে এনে আমার বোনকে দেখায়। আমি অঝোরে কাঁদতে থাকি। আর আমাদের দুইজনের স্বপ্নগুলো ভাবতে থাাকি। আমার পরিবারকে জানানো হয়। তারা সকলে এখানে চলে আসে। সকলে একত্রিত হয়ে আমার বোনকে এখানেই দাফন করা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর আমি এই দিনে এই কবরের কাছে আসি। আর পিছনের কথাগুলো ভাবতে থাকি। হঠাৎ এক নামহীন ঝড় আমাদের জীবনে এসে সবকিছু তচনচ করে চলে গেল।

লোকটার কথাগুলো শুনে আমি খুব শোকাহত হই এবং তাকে একটু মিত শান্তনা দিয়ে চলতে শুরু করি বাড়ির দিকে,আর মনে মনে ভাবতে থাকি তার শেষ দিনের স্মৃতি।


প্রজন্মনিউজ২৪/ ই মি

এ সম্পর্কিত খবর

তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

সিলেটে অস্ত্রের মুখে চিনি লুট, ছাত্রলীগ নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাইসির মৃত্যু উদযাপন, ২ শতাধিক মামলা

চামড়া মৌসুমী ব্যবসায়ীদের আমরা সতর্ক করতে চাই

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ

যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রক্রিয়া ‘শেষ’ করতে চাওয়ার ঘোষণার মধ্যে মারাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি ভূখন্ড কাঁপছে

বিশ্বব্যাপী রেকর্ড ১২ কোটি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত

প্রেসিডেন্টের সাথে নবনিযুক্ত বিমান বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পুলিশ জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের থেকে একধাপ এগিয়ে : আইজিপি

এমপি আনার হত্যা মামলায় ৮ দিনের রিমান্ডে মিন্টু

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ