‘সবচেয়ে’ সুন্দর গ্রাম

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০৬:৩৮:০৫

‘সবচেয়ে’ সুন্দর গ্রাম

নদী মাতৃক দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশে আছে ছোট বড় অসংখ্য নদী। সবুজ শ্যামল এই দেশটিকে অপরুপ সুন্দর করে তুলেছে অসংখ্য নদী। নদী ভ্রমণ বাঙালিদের অনেক প্রিয়। আর আমরা যারা শহরে থাকি তাদের কাছে তো ‘হারিয়ে যাওয়া ঘোড়া খুঁজে পাওয়ার মত’। আর সে ভ্রমণ যাদি হয় দেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামের পথে তাহলে তো কথায় নেই। আর সেই সুন্দর গ্রাম “পানতুমাই” ঘুরে এসে প্রতিবেদন করেছেন শেখ সুজন

 

পানতুমাই থেকে বিছানাকান্দি প্রায় ৩০ কিলোমিটার। বিছানাকান্দি ভ্রমণ শেষে আমরা ঐ নৌকাতেই চললাম পানতুমাই। পাহাড় ঘেষা আঁকাবাঁকা নদীপথে চলেছি। মাঝে মাঝেই দেখা যায় কিছু পর্যটকের নৌকা, স্কুলগামী ছেলেমেয়েরাও চলেছে নৌকাতেই। প্রতিটি বাড়িই যেন একেকটি দ্বীপ। বাড়িগুলোর পাশ দিয়েই নদী, তাই আনুসাঙ্গিক কাজকর্মই নদীতেই সারতে হয় এখানকর অধিবাসীদের। এখানকার শিশু কিশোররাও প্রয়োজনে একাই নৌকা অথবা ভেলা চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। 

 

আমাদের বহনকারী নৌকা চলছে পনতুমাইয়ের পথে। দু’পাশের সবুজ বনানী ও পাখির ডাক আর দূরন্ত কিশোর কিশোরীদের নদীতে ঝাঁপ দেয়ার দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন যে পানতুমাই পৌঁছলাম বুঝতেই পারলাম না।

 

পানতুমাই চোখ জুড়ানো একটি গ্রাম! সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার একটি গ্রাম এই পানতুমাই। পানতুমাই গ্রামকে বলা হয় বাংলাদেশ-এর সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম। অনেকে একে “পাংথুমাই”-ও বলেন, আবার কেউ বলেন এটি “পানতুমাই”।

 

মেঘালয় রাজ্যের সারি সারি পাহাড়, ঝর্না, ঝর্না থেকে বয়ে আসা পানির স্রোতধারা, আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ আর সবুজ এই গ্রামটি। এই গ্রাম থেকে খুব কাছে দাঁড়িয়ে দেখা যায় ভারতের বড়হিল ঝর্ণা। 

 

বাংলাদেশের কোল ঘেঁসে প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয়ের গহীন অরণ্যের মাঝ থেকে বাংলাদেশের দিকে নেমে এসেছে এই অপরূপা ঝর্নাধারা! ঝর্নাটির স্থানীয় নাম ফাটাছড়ি ঝর্না, আবার কেউ কেউ বলেন বড়হিল ঝর্না।

 

এটি ভারতের মধ্যে পড়লেও পিয়াইন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে খুব কাছে থেকে দেখা যায়। তাই সব সৌন্দর্য্য উজার করে দিয়েছে আমাদের বাংলাদেশকেই। এর শুভ্র পানির স্রোতধারা এসে মিশে গেছে আমাদের পিয়াইন নদীতে। পিয়াইন তাই সব সময়েই ভরাযৌবনা। 

 

পাশেই বিএসএফের ক্যাম্প। কয়েকটা বড়ই গাছ দেখলাম, ওখানেই বাংলাদেশের শেষ সীমানা। এখানে বিজিবির কোনো ক্যাম্প বা কোন চৌকি নেই। তাই সীমানার কাছাকাছি যাওয়া বিপদজনক। আমরা কিছুটা সীমানা অতিক্রম করেছিলাম।

 

বিএসএফ-এর টহল নৌকা দেখে ওখান থেকেই ফিরেছি। কয়েক জন কিশোর ছোট ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে বসেছিল বাংলাদেশের সীমানায়। ওরাই নিয়ে গেল আমাদের ভারতের সীমানার কিছুটা ভিতরে। বলল, “যাওয়া যাবে। আসেন ভয় নাই।” নৌকাগুলো এতোই ছোট, দু’জনের বেশী তিনজন ওঠা যাবে না।

 

স্থানীয়রা জানান, অনেক আগে ঝর্নার কাছে যাওয়া যেত। বিএসএফ এর ক্যাম্প ছিল না। কিন্তু বাঙালী আর খাষিয়া মারামারি হওয়ার কারণে এখন যাওয়া নিষেধ। আমরা নিরাপদ দূরত্ব রেখে এর অপরূপ সৌন্দর্য্য শুধু দেখলাম আর মনের গহীনে গেঁথে নিলাম!

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined index: category

Filename: blog/details.php

Line Number: 417

Backtrace:

File: /home/projonmonews24/public_html/application/views/blog/details.php
Line: 417
Function: _error_handler

File: /home/projonmonews24/public_html/application/views/template.php
Line: 199
Function: view

File: /home/projonmonews24/public_html/application/controllers/Article.php
Line: 87
Function: view

File: /home/projonmonews24/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

বিভাগের সর্বাধিক পঠিত