রাবিতে 'সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র প্রবণতাতে ‘হাওয়া’র গড়ে ওঠা' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২২ ১০:৪৭:১২

রাবিতে 'সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র প্রবণতাতে ‘হাওয়া’র গড়ে ওঠা' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাবি প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ষাণ্মাসিক পত্রিকা ম্যাজিক লণ্ঠন কর্তৃক আয়োজিত 'ম্যাজিক লণ্ঠন কথামালা ১০' অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহষ্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত এটি। এবারের কথামালার বিষয় ছিলো ‘সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র প্রবণতাতে ‘হাওয়া’র গড়ে ওঠা/নির্মাণ’। কথা উপস্থাপন করেন জনপ্রিয় ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। 

অনুষ্ঠানে মেজবাউর রহমান সুমন তার বক্তব্যে বলেন, হাওয়া সিনেমাটি এমন সময় প্রকাশিত হয়েছিলো, যখন দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতি কিংবা অস্তিরতা চলছিলো, সিনেমা হল গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো একের পর এক, মানুষ সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলো। হলে কোন ভাবেই দর্শককে টেনে নিয়ে আসা যাচ্ছিলোনা। এমন সময় দর্শকরা সিনেমাটি আগ্রহ সহকারে দেখেছিলো, যেটি আমার জন্য খুবই অবাক হওয়ার বিষয় ছিলো।

তিনি আরো বলেন, আমি যখন সিনেমাটির আইডিয়াটা তেরী করছিলাম। সবাই মনে করছিলেন এরকম একটা মিথলজি থেকে একটা সিনেমা বানানো, নাচ গান নেই, একশন নেই, অনেক কিছুই নেই, মানে ফরমুলা ছবিতে আমরা যা যা দেখি। ছবি মানে রোমান্টিক হতে হবে, একশন থাকতে হবে, একটা হিরো থাকতে হবে। কোন কিছুই যখন গল্পের মধ্যে পায়না, তখন সিনেমা তৈরিতে কোন পরিচালক রাজি থাকেননা। সেখান থেকেই আসলে শুরু যেখান থেকে বাধা পাই।

গুণী এই নির্মাতা আরো বলেন, যখন জীবনানন্দের কবিতা গুলো পড়ি, তখন কবিতা কিভাবে লিখেছিলেন? কি চিন্তা করে লিখেছিলেন? এটা আমি বুঝতে পারি না। আমি আমার মত করে বোঝার চেষ্টা করি কবিতাটা। আমি নিশ্চিত পাঠক যার যার মত করে কবিতা পাঠ করেন, গল্প পড়েন, সিনেমা দেখেন। আমরা তো ইউরোপের কোথাও না যেখানে একদিনে বা তাদের সিনেমা দেখার চিন্তাভাবনা বা অভ্যস্ততা ভেঙে যাবে। এ অঞ্চলের যে অবস্থা ফরমাল ছবির প্রতি আমি হাওয়া সিনেমার মাধ্যমে সেটা পরিবর্তন করতে চেয়েছিলাম।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও নিরিখ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ড. সফিকুন্নবী সামাদী, গবেষক ও তাত্ত্বিক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কথা সাহিত্যক মামুন হুসাইন। অনুষ্ঠানের শেষাংশে দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দেন মেজবাউর রহমান সুমন।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ ‘ম্যাজিক লণ্ঠন কথামালা ৯’-এ চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার কথা উপস্থাপন করেন, ‘চলচ্চিত্রে অমীমাংসিত নারী’ বিষয়ে। মাঝে করোনাভাইরাসের কারণে ২০২১ সালে ম্যাজিক লণ্ঠন কথামালা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এর আগে, ম্যাজিক লণ্ঠনের নিয়মিত আয়োজন ‘ম্যাজিক লণ্ঠন কথামালা’য় অংশ নিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন চলচ্চিত্রনির্মাতা নুরুল আলম আতিক, আবু সাইয়ীদ, গোলাম রাব্বনী বিপ্লব, অভিনয়শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, চলচ্চিত্রনির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী কাজী হায়াৎ, অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচী, চলচ্চিত্রনির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী, অভিনয়শিল্পী রাইসুল ইসলাম আসাদ ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার।

ম্যাজিক লণ্ঠন নামে পত্রিকা ও সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে। জানুয়ারি ও জুলাই মাসে নিয়মিত এ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লেখা চলচ্চিত্র, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, নিউজমিডিয়া বিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়, যেগুলো পত্রিকার পাশাপাশি নিয়মিত প্রকাশ হয় ম্যাজিক লণ্ঠনের ওয়েবসাইটেও।

এছাড়া ম্যাজিক লণ্ঠনের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে প্রতি রবিবারে চলচ্চিত্র বিষয়ে ও বুধবারে সাধারণ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। শুধু তা-ই নয়, ম্যাজিক লণ্ঠন-এর প্রযোজনায় সংগঠনটির সদস্যরা নিয়মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও নির্মাণ করে থাকে। এ ছাড়া সংগঠনটি সপ্তাহে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনও করে আসছে।



রাবিতে 'সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র প্রবণতাতে ‘হাওয়া’র গড়ে ওঠা' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ষাণ্মাসিক পত্রিকা ম্যাজিক লণ্ঠন কর্তৃক আয়োজিত 'ম্যাজিক লণ্ঠন কথামালা ১০' অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহষ্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত এটি। এবারের কথামালার বিষয় ছিলো ‘সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র প্রবণতাতে ‘হাওয়া’র গড়ে ওঠা/নির্মাণ’। কথা উপস্থাপন করেন জনপ্রিয় ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। 

অনুষ্ঠানে মেজবাউর রহমান সুমন তার বক্তব্যে বলেন, হাওয়া সিনেমাটি এমন সময় প্রকাশিত হয়েছিলো, যখন দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতি কিংবা অস্তিরতা চলছিলো, সিনেমা হল গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো একের পর এক, মানুষ সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলো। হলে কোন ভাবেই দর্শককে টেনে নিয়ে আসা যাচ্ছিলোনা। এমন সময় দর্শকরা সিনেমাটি আগ্রহ সহকারে দেখেছিলো, যেটি আমার জন্য খুবই অবাক হওয়ার বিষয় ছিলো।

তিনি আরো বলেন, আমি যখন সিনেমাটির আইডিয়াটা তেরী করছিলাম। সবাই মনে করছিলেন এরকম একটা মিথলজি থেকে একটা সিনেমা বানানো, নাচ গান নেই, একশন নেই, অনেক কিছুই নেই, মানে ফরমুলা ছবিতে আমরা যা যা দেখি। ছবি মানে রোমান্টিক হতে হবে, একশন থাকতে হবে, একটা হিরো থাকতে হবে। কোন কিছুই যখন গল্পের মধ্যে পায়না, তখন সিনেমা তৈরিতে কোন পরিচালক রাজি থাকেননা। সেখান থেকেই আসলে শুরু যেখান থেকে বাধা পাই।

গুণী এই নির্মাতা আরো বলেন, যখন জীবনানন্দের কবিতা গুলো পড়ি, তখন কবিতা কিভাবে লিখেছিলেন? কি চিন্তা করে লিখেছিলেন? এটা আমি বুঝতে পারি না। আমি আমার মত করে বোঝার চেষ্টা করি কবিতাটা। আমি নিশ্চিত পাঠক যার যার মত করে কবিতা পাঠ করেন, গল্প পড়েন, সিনেমা দেখেন। আমরা তো ইউরোপের কোথাও না যেখানে একদিনে বা তাদের সিনেমা দেখার চিন্তাভাবনা বা অভ্যস্ততা ভেঙে যাবে। এ অঞ্চলের যে অবস্থা ফরমাল ছবির প্রতি আমি হাওয়া সিনেমার মাধ্যমে সেটা পরিবর্তন করতে চেয়েছিলাম।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও নিরিখ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ড. সফিকুন্নবী সামাদী, গবেষক ও তাত্ত্বিক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কথা সাহিত্যক মামুন হুসাইন। অনুষ্ঠানের শেষাংশে দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দেন মেজবাউর রহমান সুমন।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ ‘ম্যাজিক লণ্ঠন কথামালা ৯’-এ চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার কথা উপস্থাপন করেন, ‘চলচ্চিত্রে অমীমাংসিত নারী’ বিষয়ে। মাঝে করোনাভাইরাসের কারণে ২০২১ সালে ম্যাজিক লণ্ঠন কথামালা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এর আগে, ম্যাজিক লণ্ঠনের নিয়মিত আয়োজন ‘ম্যাজিক লণ্ঠন কথামালা’য় অংশ নিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন চলচ্চিত্রনির্মাতা নুরুল আলম আতিক, আবু সাইয়ীদ, গোলাম রাব্বনী বিপ্লব, অভিনয়শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, চলচ্চিত্রনির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী কাজী হায়াৎ, অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচী, চলচ্চিত্রনির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী, অভিনয়শিল্পী রাইসুল ইসলাম আসাদ ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার।

ম্যাজিক লণ্ঠন নামে পত্রিকা ও সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে। জানুয়ারি ও জুলাই মাসে নিয়মিত এ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লেখা চলচ্চিত্র, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, নিউজমিডিয়া বিষয়ক প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়, যেগুলো পত্রিকার পাশাপাশি নিয়মিত প্রকাশ হয় ম্যাজিক লণ্ঠনের ওয়েবসাইটেও।

এছাড়া ম্যাজিক লণ্ঠনের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে প্রতি রবিবারে চলচ্চিত্র বিষয়ে ও বুধবারে সাধারণ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। শুধু তা-ই নয়, ম্যাজিক লণ্ঠন-এর প্রযোজনায় সংগঠনটির সদস্যরা নিয়মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও নির্মাণ করে থাকে। এ ছাড়া সংগঠনটি সপ্তাহে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনও করে আসছে।


প্রজন্মনিউজ২৪/এ আর 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ