জান্নাতের তিনটি বাড়ি যখন আমার হবে

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর, ২০২২ ১২:০০:৫০

জান্নাতের তিনটি বাড়ি যখন আমার হবে

নূরুল আমীন ভূঞা কিশোরগঞ্জঃ কি অবাক হচ্ছেন? এটা আবার কেমন শিরোনাম! যাইহোক আমি অযথাই এ শিরোনাম দিইনি। আল্লাহর রাসূল। এর একটি সহিহ হাদিসের আলোকে এই শিরোনাম। হাদিসের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোই সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। আর দেরি কেন, এবার আপনাদের হাদিসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।

হাদিসটি বিখ্যাত সাহাবী আবূ উমামাহ আল বাহেলি রা.  থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ(সা) বলেছেন যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার; আর যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার। (১)

এবার তিনটি শর্ত পূরণ করে আমি আমার করে নিতে পারি জান্নাতের সাজানো তিনটি বাড়ি যা রাসূল(সা) আমাদের জন্য জামিন ও জিম্মাদার হয়েছেন। প্রত্যেক মুমিনের একান্ত চাওয়া যে পরকালে রবকে খুশি করে চিরস্থায়ী জান্নাতে বসবাসকারী হিসেবে শান্তির ফোয়ারাতে থাকবে।

আলোচনাটি কে হাদিসের আলোকে চারটি ভাগে সাজাতে  চাই। তিনটি শর্ত ও জান্নাতে বর্ণনা। 

জান্নাতের বর্ণনা
জান্নাত এমন জায়গা যা কোন চক্ষু কোনদিন দেখিনি কোন চিন্তা শক্তি কোনদিন চিন্তা করেনি তাহলে কত সুন্দর হতে পারে জান্নাত! দুনিয়ার সৌন্দর্যের দিকে দৃষ্টি দিলে অন্তর লাফিয়ে উঠে আর মন বলে এটা কীভাবে সম্ভব হল! সুবহানাল্লাহ। তাহলে জান্নাত কত সুন্দর?  

ধরনীর সাগরের দিকে দৃষ্টি দিলে তার কোন কুলকিনারা দৃষ্টিতে আসে না, ঢেউয়ের পরে ঢেউ আসছে, শিল্পীর সাজে মনে হচ্ছে কোন শিল্পী তার স্ব-হস্তে ঢেউগুলো সাজিয়ে দিচ্ছেন, কত সুন্দর সাগরের ঢেউয়ের খেলা। স্ব-স্ব গর্জনে বিরামহীন কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সাগর। এই সাগরের বুকে ঘরঘর নৌযান পারি দিচ্ছে হাজার মাইল পথ। সাগরের তলদেশে আছে হাজারো রকম প্রাণী যা আল্লাহ মানুষের জন্য করে দিয়েছেন হালাল। সব মিলিয়ে সাগরের সৌন্দর্য দেখে তার প্রেমের জালে আটকানোটাই স্বাভাবিক। তাহলে বেহেস্ত কতটা সুন্দর হতে পারে একটু ভাবুন।

পাহাড় আর ঝর্ণা এ যেন প্রভুর অপরুপ সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি যা দর্শনে অন্তর জুড়ায় মানবকূলের। সবুজ সারিতে সাজনি পাহাড় তার গায়ে স্বচ্ছ পানির ঝর্ণা, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ পাহাড়গুলোকে পেরেক হিসেবে গেঁথে দিয়েছেন জমিনে। এভাবেই জমিনের কত সুন্দর সুন্দর পরিবেশ দেখছি আমরা, যা চিন্তার রাজ্যে হারিয়ে যেয়েও হিসাব মিলানো দায়।

জান্নাত কত সুন্দর তা আমাদের কল্পনা করাও সম্ভব নয়। জান্নাতের বর্ণনা কোরআনে যেভাবে এসেছে। 

জান্নাতিদেরকে প্রভু নিজের রহমত, সন্তুষ্টি ও এমন জান্নাতের সুখবর দেন, যেখানে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী সুখের সামগ্রী। জান্নাত হবে যার নিম্নদেশ দিয়ে ঝর্ণা ধারা প্রবাহিত হয় এবং তা  থাকবে চিরকাল। আল্লাহ সৎ-কর্মনীতি অবলম্বনকারীদের জন্য এ প্রতিদান দিবেন। আবার একথাও সত্য নিয়ামত ভরা জান্নাত যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত হবে। পাদদেশে প্রবাহিত হতে থাকবে নদী এবং সবকিছুই সেখানে তাদের কামনা অনুযায়ী থাকবে। মুত্তাকীদের জন্যই এসব পুরস্কার যা আল্লাহ নিজ হাতে দিবেন। জান্নাতের বৃক্ষরাজির ছায়া তাদের ওপর ঝুঁকে পড়ে ছায়া দিতে থাকবে। আর তার ফলরাজি সবসময় তাদের নাগালের মধ্যে থাকবে তারা যেভাবে ইচ্ছা চয়ন করতে পারবে)। জান্নাত হবে প্রাচুর্যে ভরা, সবুজ গালিচা ও সূক্ষ্ম পরিমার্জিত অনুপম ফরাশের ওয়ীসাদা(বালিশ) যার ওপর হেলান দিয়ে বসার সুযোগ হবে জান্নাতীদের। (২)

সহিহ হাদিসের ভাষায় জান্নাতের বর্ণনা। হাদিসগুলো আবূ হুরাইরাহ্ রা., আলী রা., আবদুল্লাহ ইবনু ক্বাইস রা. থেকে বর্ণিত।

রাসূলুল্লাহ(সা) বলেছেন জান্নাতে এক বিশাল গাছ আছে, যার ছায়াতলে যে কোন যাত্রি একশত বছর ধরে চলতে থাকবে কিন্তু তা অতিক্রম করে যেতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন জান্নাতের প্রতিটি গাছের কাণ্ডই স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত। জান্নাত তৈরি করা হয়েছে সোনা-রুপার ইট দিয়ে। একটি রুপার ইট, তারপর একটি সোনার ইট, এভাবে গাঁথা হয়েছে। এর গাঁথুনির উপকরণ (চুন-সুরকি-সিমেন্ট) সুগন্ধি মৃগনাভি এবং কঙ্করসমূহ মণি-মুক্তার ও মাটি হলো জাফ্রান। জান্নাতে প্রবেশকারী লোক অত্যন্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দে থাকবে, কোন দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করবে না। সে অনন্তকাল এতে অবস্থান করবে আর মৃত্যুবরণ করবে না, তার পরনের পোশাক পুরাতন হবে না আর না তার যৌবনকাল শেষ হবে (অনন্তযৌবনা হবে)। রাসূলুল্লাহ(সা) বলেছেন জান্নাতের প্রাসাদগুলো এমন হবে যে, এর ভিতর থেকে বাইরের সবকিছু দেখা যাবে এবং বাইরে থেকে ভিতরের সবকিছু দেখা যাবে। নবী করিম(সা) বলেছেন জান্নাতে দু'টি বাগান আছে, যার সকল পাত্রসমূহ ও অন্যান্য সামগ্রী রূপা দিয়ে নির্মিত এবং আরো দু'টি বাগান আছে, যার পাত্রসমূহ ও এতে যা কিছু আছে সবই স্বর্ণ দিয়ে নির্মিত। আর আদন নামক জান্নাতে মানুষ ও তাদের পালনকর্তার সাক্ষাতের মাঝে মহাপরাক্রমশালীর গৌরবের চাদর ছাড়া আর কিছুই অন্তরাল থাকবে না।  একই সনদে বর্ণিত জান্নাতে মণি-মুক্তা দিয়ে নির্মিত একটি তাঁবুর প্রস্থ ষাট মাইল। এর প্রতিটি কোণে এক একজন করে হুর থাকবে। অন্যরা তাকে দেখতে পাবে না। ঈমানদারগণ তাদের (নিজ নিজ হুরের) নিকট যাতায়াত করবে। (৩) 

ঝগড়া বিবাদ পরিহার :- 
ঝগড়াটে স্বভাবের লোককে কেউ পছন্দ করে না তার কাছ থেকে সবাই পালিয়ে বাঁচতে চায়। ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও যদি কোন ব্যক্তি ঝগড়া পরিহার করে রাসূল(সা) তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন মানে নিশ্চয়ই সে জান্নাতে একটি ঘরের মালিক হবে। 

ইসলামে ঝগড়াঝাটি নিষেধ করা হয়েছে, ঝগড়ার মাঝে কোন কল্যাণ নাই। ঝগড়া দ্বীনকে মিটিয়ে দেয়  মানুষ ও সমাজের জন্য অকল্যাণ বয়ে আনে। রাসূলুল্লাহ(সা) বলেছেন: ভীষণ কলহপ্রিয় লোক আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচাইতে ঘৃণ্য। 

কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন দয়াময় (আল্লাহ তায়ালা)-এর বান্দা হচ্ছে তারা, যারা যমীনে নেহায়াত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন জাহেল ব্যক্তিরা (অশালীন ভাষায়) তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা নেহায়াত প্রশান্তভাবে জবাব দেয়।" (৪) মুমিনরা হবে বিনম্র তারা ঝগড়াঝাটি তো করবেই না কেউ ঝগড়া বিবাদ করতে চাইলে তাদের বলবে সালাম। হাদীসে এসেছে কলহ ও বিপর্যয়কর পরিস্থিতি বিরাজমান কালে ইবাদতে লিপ্ত থাকা হিজরতের সমতুল্য। 

ঝগড়া বিবাদের অনেক পর্যায় রয়েছে যেমন পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও মত পার্থক্যের মতো ছোট বড় অনেক বিষয় নিয়ে সমাজে ঝগড়ার উৎপত্তি দেখা যায়। ফলে ছোট ছোট ঝগড়াঝাটিতে নষ্ট হচ্ছে পারিবারিক সম্বন্ধ সামাজিক চলাফেরা। রাষ্ট্রীয় দাঙ্গাবাজদের কবলে নির্যাতিত হচ্ছে নিরীহ জনবল, রাজনৈতিক কলহের দায়ে ঝরছে তাজা প্রাণ।  আর মত পার্থক্যের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটিতে সম্মান নিয়ে টানাটানি হয় অহরহ যা রিতিমত সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলে।

এসব ঝগড়াঝাটি থেকে হেফাজত থাকতে পারলে আল্লাহর রাসূল (সা) আমাদেরকে জান্নাতে একটি ঘর উপহার দেয়ার জামিন হয়েছেন আমরা জান্নাতে মনোরম পরিবেশে একটি বাসস্থান লাভ করব যেখানে আরাম আয়েশ মনোবাঞ্ছা অনুযায়ী বসবাস করার সুযোগ পাব।

মিথ্যা না বলা:-
মিথ্যা সকল পাপের মূল, মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করতে চায় না, তার সঙ্গ পরিত্যাগ করে সকলেই। হরহামেশাই আমরা নানা মিথ্যা বলে ফেলি যা আমরা মিথ্যা বলে বুঝতে পারিনা। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী তামাশার ছলেও মিথ্যা না বললে জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার  হবেন রাসূলে করিম ﷺ। এখানে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে মিথ্যা বলা দূরে থাক তামাশার ছলেও মিথ্যা বলা যাবে না তবেই জান্নাতে ঘরের মালিক হওয়া সম্ভব। 

হরহামেশাই আমরা কী কী মিথ্যা বলি বা সহজে খেলার ছলে আমরা কী মিথ্যা বলি যা আমরা সিরিয়াসলি চিন্তা করি না সেগুলো সামনে নিয়ে আসলে কেমন হয়? আপনিও একটা লিষ্ট তৈরী করে নিন।

বর্তমান অবস্থান নিয়ে আমরা খুব বেখেয়ালি আচরণ করে থাকি। যেখাই আছি তা থেকে কমবেশি করে বলে থাকি হরহামেশাই যাকে মিথ্যা মনেই করি না। যেমন আমরা দশ মিনিটের দূরত্বের জায়গায় আছি বলে ফেলি কারণ যাচ্ছিইতো। এবার চিন্তা করেন আপনার সেই স্থানে পৌঁছানোর সৌভাগ্য নাওতো হতে পারে তাহলে এই বেখেয়ালি মিথ্যা বলার কি'বা প্রয়োজন থাকতে পারে। এ নীতির আচরণ বেশি করে থাকে মটর সাইকেলে চলাচল করা ব্যক্তিগুলো এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

ছোট বাচ্চাদের মিথ্যা বুঝ দিয়ে তাদের শান্ত করতে দেখা যায় ভদ্রলোকদেরও। মিথ্যা আশ্বাস দেখানো হয় বাচ্চাদের কিন্তু তাদের সেই আশ্বাস পূরণ করি কতজনে তা চিন্তার বিষয়।

ক্রয়কৃত পণ্যের দাম কমিয়ে বা বাড়িয়ে বলার অংশটাও কম নয়। পণ্যের গুণগত মান ভাল বুঝতে ক্রয়মূল্য থেকে বেশি বলা এটা আমাদের সাথে খুবই পরিচিত অথচ এটা একটা মিথ্যা কথা আর মিথ্যা সকল পাপের মূল। তেমনি দাম কমিয়ে বলার অভ্যাসও আছে আমাদের। 

খাবার নিয়ে মিথ্যা বলা যেমন পেটে ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও লজ্জায় বলা যে ক্ষুধা নাই। আত্নীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে ফিরার সময় যাতায়াত ভাড়া দিতে চাইলে টাকা না থাকা সত্ত্বেও লজ্জায় টাকা আছে বলে বাহানা করা এগুলো বা এমন হাজারো সহজ সহজ মিথ্যা আমরা বলে অভ্যস্থ হয়ে গেছি যা থেকে আমাদের ফিরে আসা উচিৎ। তবেই জান্নাতে একটি ঘরের জামিন হবেন রাসূলে করিম(সা) আর আমি হব সেখানকার একটি ঘরের মালিক।

উত্তম চরিত্র:- 
আল্লাহ মানুষকে সর্বশ্রেষ্ট জাতী হিসেবে স্ব-স্ব দায়িত্ব দিয়ে  সর্ব উত্তম আকৃতি দিয়ে প্রেরণ করেছেন। মানুষ জ্ঞানের রাজ্যে সবার সেরা এজন্যই মানুষের মর্যাদাও অতি উত্তম। ইনসানের গাইডলাইন হিসেবে আল্লাহ যুগে যুগে নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। আদম আ. থেকে শুরু করে কুরআনের বর্ণিত ২৫ জন ও অসংখ্য নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন মানব জাতীর হেদায়েতের জন্য।

আমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে সর্বশেষ ও সর্বশেষ্ঠ রাসূল নবী করিম(সা)। মুহাম্মদ(সা) এর আগমনের মধ্য দিয়ে নবী আগমনের সমাপ্তি টেনেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। প্রতি যুগেই ইনসানের জন্য প্রেরিত নবী বা রাসূলই ছিল একমাত্র আদর্শ তেমনি আমাদের আদর্শ হযরত মুহাম্মদ(সা) আমাদেরকে তার সকল আদর্শ গ্রহণ করতে হবে তাই আমরা নবী করিম(সা) এর চরিত্র সম্পর্কে অধ্যয়ন করে আমাদের চরিত্রকে সেই আদলে সাজানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। 

নবী করিম(সা) এর চরিত্র কেমন ছিল তা আমরা প্রথমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের থেকেই শুনি "নিঃসন্দেহে তুমি নৈতিকতার অতি উচ্চ মর্যাদায় সমাসীন।" (৫) আমরা এ সমাজে নৈতিকতার যে বুলি আওড়াচ্ছি নবী করিম(সা) সেই নৈতিকতার উচ্চতর সার্টিফিকেট পেয়েছেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের থেকে। 

আমাদের নৈতিকতা কতটুকু আছে তা দেখার জন্য খুব বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নাই। পত্রিকাগুলোতে দৃষ্টি দিলে প্রত্যক্ষ করা যায় যে প্রতিদিন নৈতিকতার কতটা অবক্ষয় হচ্ছে। পিতার কাছে মেয়ে নিরাপদ নয়, নিরাপদ নয় মেয়ে মায়ের কাছে। জৈবিক চাহিদার জন্য সন্তানকে হত্যা করেছে  এমন সংবাদও দেখতে হচ্ছে পত্রিকায়। কোথায় হারিয়ে গেছে আমাদের নৈতিকতা! শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থী নিরাপদ নয় ইউনিভার্সিটিতে সন্তান পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে না মা-বাবা। অমুক কলেজের মেয়েদের বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না পুরুষ সমাজ। তাহলে আমাদের নৈতিকতা কোথায় হারিয়ে ফেলেছি? আমাদের নৈতিকতার জায়গাটা নবী করিম(সা) এর মতো হওয়া চাই যেই সমাজে সানা থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত নির্ভয়ে যুবতী নারী ইজ্জত নিয়ে সফর করতে পারবে নির্ভয়ে ব্যবসায়ি পণ্য নিয়ে যাতায়াত করতে পারবে ব্যবসায়ীরা।

উত্তম বা নম্র স্বভাবের ব্যক্তিকে কে না ভালবাসে! নবী করিম(সা) ছিলের নম্র স্বভাবের অধিকারী ও বিশ্বাসী। তিনি কখনো কারো আমানত ও বিশ্বাসের খেয়ানত করতেন না। আরবের জাহেলি সমাজ নবী করিম(সা) এর আদর্শ গ্রহণ না করলেও তার প্রতি ছিল সবাই মুগ্ধ। নবী করিম(সা) কে তারা আল-আমীন বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। আর মুমিন বান্দার অন্যতম গুণ হল নম্র স্বভাব। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন "রহমানের (আসল) বান্দা তারাই  যারা পৃথিবীর বুকে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং মূর্খরা তাদের সাথে কথা বলতে থাকলে বলে দেয়, তোমাদের সালাম।"  (৬) 

আমাদের একমাত্র আদর্শ যেহেতু নবী করিম(সা) তো আমাদেরকেও নম্র স্বভাবের অধিকারী হওয়া চাই। আমাদের অধস্তন বা অধীনে যারা আছে সবার সাথে উত্তম আচরণের প্রমাণ দিতে হবে অন্যথায় তারা আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারে তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন "তুমি যদি রুক্ষ স্বভাবের বা কঠোর চিত্তের হতে, তাহলে তারা সবাই তোমার চারপাশ থেকে সরে যেতো।" (৭) 

নবী করিম(সা) ছিলেন উত্তম ও নম্র চরিত্রের অধিকারী। তিনি কখনো কারো সাথে বদ আচরণ করতেন না। তার খেদমত সঙ্গী আনাস রা. বলেছেন দশ বছরে রাসূল(সা) কখনো আমার প্রতি বিরক্ত হন নাই। তাকে গালি দিলে তিনি উল্টো ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতেন, তায়েফে নবী করিম(সা) কে রক্তাক্ত করা হলে তিনি ধংসের দু'আ না করে হেদায়েতের দু'আ করলেন। তিনি জন্মভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন আবার মক্কা বিজয় করে সবার থেকে প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমার ঘোষণা দেন যা একজন সৎ, নম্র ও উত্তম চরিত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়। 

আমাদেরকেও এই পাপ পঙ্খিলতার সমাজে নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ রেখে নবী করিম(সা) এর মতো উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে চারিত্রিক প্রভাব দিয়ে নিরব বিপ্লব করতে হবে। হয়তো মুক্তমনা সমাজ আপনাকে গ্রহণ করবে না কিন্তু তারা অন্তরে প্রশান্তি পাবে। আপনার কাছে জমা রাখবে তাদের মূল্যবান সম্পদ যদি রাসূলে করিম(সা) এর আদর্শ গ্রহণ করে প্রভুর দেয়া আদেশ নিষেধ মেনে চলেন।

সবশেষে বলা যায় ঝগড়া বিবাদ পরিহার মিথ্যা না বলা ও চরিত্র সুন্দর করা একজন ভাল মানুষের গুণ সাথে আমলগুলোর জন্য জান্নাতের মধ্যে সুখময় তিনটি ঘরে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রথমে নিজের মধ্যে গুণগুলো স্থাপন করে আদর্শের বীজ বুনতে হবে যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের উপকারে আসে। 

নোট
(১)সুনানে আবু দাউদ  ৪৮০০
(২)অধ্যয়ন করুন:- আনয়াম ৮৫, ইউনুস: ৯, নাহল: ৩১, দাহর ১৪, মাআরিজ ৩৮ ও রহমান ৭৬। 
(৩)অধ্যয়ণ করুণ:-  সহীহ : বুখারী ৩২৫২ ও ৩২৪৩ তিরমিজি, ২৫২৫, ২৫২৬ ও ২৫২৭
(৪)২৫: আল-ফুরকান ৬৩ 
(৫)৬৮ আল-ক্বলম  ৪
(৬)২৫ আল-ফুরকান ৬৩ 
(৭)৩: আলে-ইমরান ১৫৯


প্রজন্মনিউজ২৪/এ কে

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ