দ্রব্য মূলের ঊর্ধ্বগতির চাপে  ইউরোপ

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর, ২০২২ ০৩:৫৩:৩২

দ্রব্য মূলের ঊর্ধ্বগতির চাপে  ইউরোপ

অনলাইন ডেস্ক:দ্রব্য মূলের ঊর্ধ্বগতির চাপে  ইউরোপ।মহাদেশটির প্রায় সবখানেই ইউক্রেন যুদ্ধের হল্কা। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি আর ইউক্রেন যুদ্ধের তহবিল জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর এই ব্লক। 

এরই মধ্যে ৪১ বছরের ইতিহাস ভেঙে মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ স্থানে ব্রিটেন। দামের এই ঊর্ধ্বগতির চাপে বাধ্য হয়ে ধর্মঘটে প্যারিস, মালদোভা, জার্মানি, ব্রিটেন, বুলগেরিয়ার সাধারণ মানুষ।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয়দের দৌড়ঝাঁপ দিনে দিনে এক প্রকার হারিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতির বেহাল ঝড়ে। ইউরোপিয়ান কমিশন এরই মধ্যে জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৮ পেরিয়ে এখন ৯ দশমিক ৩-এর ঘরে। বছরের শেষ প্রান্তিকে মন্দার কষাঘাতে ধুঁকতে থাকবে পুরো ইউরোপ।

৪১ বছরের ইতিহাস ভেঙে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ১১ ছাড়িয়েছে। যা প্রায় ১৪ ছাড়িয়ে যাবে যদি সরকার থেকে সহায়তা তহবিল না পাওয়া যায়। এ নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। তবে এর মাঝেও ইউক্রেনকে অর্থ সহায়তা দিতে ভুলছে না লন্ডন। ফলাফল বাড়ছে অসন্তোষ।

ইতোমধ্যে প্যারিসে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নেমেছে পরিবহন শ্রমিকরা। নার্স, পাইলট, ডাক বিভাগের কর্মী, রেলওয়ে কর্মীরা কর্মবিরতিতে। মূল্যস্ফীতির বেড়ে যাওয়ায় বেতন সমন্বয়ের জন্য তারা চালাচ্ছেন আন্দোলন। আন্দোলন চলছে গ্রীস ও বেলজিয়ামেও। ইউক্রন যুদ্ধের প্রতি দেশগুলোর সমর্থন ফুঁসিয়ে তুলছে সাধারণ মানুষকে।

সেখানে আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, সরকারি পরিবহন সংস্থা বেতন বাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সবকিছুর যখন দাম বাড়ছে, তখন বেতন কেন বাড়বে না?

এক নারী আন্দোলনকারী বলেন, ডিম, রুটি, মাংস কেনার সামর্থ হারিয়ে ফেলছে সাধারণ মানুষ। অর্থনীতিতে ফ্রান্স কিভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের দাবি করে?

পুরো ইউরোপজুড়ে এ আন্দোলন থামার যেন লক্ষণই নেই। বরং, ছড়িয়ে পড়ছে দেশে দেশে। রাশিয়ার জ্বালানি বন্ধ করে দেয়ার ফলটা যেন বদলে দিচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। শ্রমিক সংগঠনগুলো সরকারের কাছে দাবি আদায়ে অনড়।

আর সরকারগুলো অনড় ইউক্রেনকে সাহায্যে। সরকারগুলোর উল্টো রথের এ যাত্রায় জ্বালানি তো মিলছেই না, বরং শীতের সময় পুরোপুরি খাদ্য সংকট দুর্ভিক্ষের আভাস দেখতে পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট লেবার ইউনিয়নের নেতা ও অর্থনীতি বিশ্লেষক লুবসক্লব গোস্তভ বলেন, বেতন ৪৩০ ইউরো হওয়া উচিত। ২০২৩ সালে এ ধরনের আয়ে কোনো রকমে টিকে থাকবে সাধারণ মানুষ। এরপর ইউরো জোনে ৫০০ ইউরো যদি মজুরির আন্দোলন হয়, তাহলে অবাক হবো না। সরকারগুলো যদি এখনই যুদ্ধের পক্ষ থেকে না সরে আসে, তাহলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হবে।

যুদ্ধের দামামায় প্রথমে তাল মেলালেও ধনী দেশগুলোর এই মহাদেশে টিকে থাকার লড়াইয়ে জিতবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।


প্রজন্মনিউজ24/সাঈদ 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ