স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে কোথায় যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা ? 

প্রকাশিত: ০৫ অগাস্ট, ২০২২ ০৫:১৮:৩৪

স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে কোথায় যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা ? 

নগরীর স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে ঘুরাঘুরি করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে। উঠতি বয়সের এসব শিক্ষার্থীরা স্কুল ফাঁকি দিয়ে ঘুরছেন নারী সহপাঠী, কিংবা বন্ধুদের নিয়ে। কখনো দল বেঁধে তো কখনো জোড়ায় জোড়ায়। নগরীর, ডিসি হল, বিপ্লব উদ্যান, জামালখান, চকবাজার, বালি আর্কেড, নেভাল, শিশুপার্ক, কাজির দেউরি, জামালখান সহ একাধিক জায়গায় স্কুল কিংবা কলেজের ড্রেস পরিহিত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের দেখা যায়।

বেলা ১১ টা কিংবা ১০ টা নাগাদ শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়  এসব শিক্ষার্থীদের। সাধারনত এ সময়ে স্কুল কার্যক্রম চলমান থাকে। কিন্তু স্কুল চললেও ছাত্র ছাত্রীদের দেখা যায় নানান স্পটে। কলেজ বা স্কুল ফাঁকি দিয়ে তারা সময় কাটান একা, কিংবা দল বেধে, কিংবা জোড়ায় জোড়ায়। বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় কাউকে হৈ হুল্লোড় করতে। কেউবা পছন্দের মানুষের সাথে সময় কাটান। কেউবা এমনি খোলা পরিবেশে বসবেন বলে আসেন স্কুল পালিয়ে। সাধারনত পার্ক, রেস্টুরেন্ট শপিং মল কিংবা যেখানে কিছুটা সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে এমন স্থানেই যান এসব শিক্ষার্থীরা।

নগরীর বালি আর্কেডের ওপেনিং হয় বেলা এগারোটায় কিন্তু এরও প্রায় ঘন্টা খানেক আগে ভীড় দেখা যায় স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের। অথচ এসময় পুরোদমে চলছে ক্লাস। চলছে পাঠদান। খানিক দুরেই কেয়ারি ইলিশিয়াম মার্কেট। একই সময় সেখানেও চার তলায় থাকা ফুচকার দোকানগুলোতে স্কুল কলেজ ছাত্রছাত্রীদের দেখা যায়। এভাবে স্কুল ফাঁকি দেয়াকে তাদের ভাষায় "বাংক" দেয়া বলা হয়।

সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো এসব শিক্ষার্থীদেরকে একদম নিরাপদে গোপনে কিছুটা সময় পার করার জন্য ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে প্রায় ডজন খানেক ডার্ক রেস্টুরেন্ট। কি হয় এসব রেস্টুরেন্টে? শ'খানেক টাকার বদলে, একাকী নির্জনে যে কাউকে নিয়ে সময় কাটানো যায়। কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরাই এসব রেস্টুরেন্টের গ্রাহক। প্রতিদিন এখানে নানাবিধ অসামাজিক কর্মকাণ্ড ঘটে। চলে স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের অবাধ মেলামেশা যেন দেখার কেউই নেই। প্রতিদিন অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী আসছেন এখানে। বিষয়টা কেউ জানেন না এমন না, সবাইই সব কিছু জানেন কিন্তু কোনো এক অজানা কারনে কেউ প্রতিবাদ টুকুও করছে না। তাই অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশার এক স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে নগরীর শিক্ষাপাড়া। 

এ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরাও, আমেনা খাতুন নামে এক অভিভাবক প্রজন্ম নিউজকে জানিয়েছেন তার  উদ্বেগ এর কথা, তিনি বলেন - "আমাদের ছেলে মেয়েরা এখন অনেক আপডেটে আমরা তো বিশ্বাস করে পাঠাচ্ছি তাদেরকে কলেজ কিংবা স্কুলে, কিন্তু তারা তাদের প্রেমিক প্রেমিকা, নিয়ে শপিং মল পার্ক এসব জায়গায় ঘুরে বেড়ায় তারা আসলে জানেও না যে তারা আসলে তাদের বাবা মার স্বপ্ন নিয়ে খেলছে। তারা খেলছে আমাদের বিশ্বাস নিয়ে " 

তবে সবাই হারিয়ে যায়নি, এখনো অনেক ছাত্র ছাত্রী এসব থেকে নিজেদের নিবৃত্ত রেখেছেন। সহপাঠী বন্ধু কিংবা বান্ধবীদের অধঃপতন দেখে তারাও ভীষন হতাশ। মহসিন কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জানান, " আসলে এটা ধর্মীয় অনুশাসনের বিষয় কোনো ধর্মই অশ্লীলতা, অবাধ মেলামেশা সমর্থন করে না এই বিষয়গুলা ছাত্রছাত্রীদের মাঝে না থাকায় মুলত এত এত সমস্যার সৃস্টি হচ্ছে। 

উল্লেখ্য ২০১৩ সালের শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান বুরো ( ব্যানবেইস) এর তথ্য মতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ২৯ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩৪ জন। যা মোট শিক্ষার্থীর ৪৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।


প্রজন্মনিউজ২৪/জাহিদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Undefined index: category

Filename: blog/details.php

Line Number: 417

Backtrace:

File: /home/projonmonews24/public_html/application/views/blog/details.php
Line: 417
Function: _error_handler

File: /home/projonmonews24/public_html/application/views/template.php
Line: 199
Function: view

File: /home/projonmonews24/public_html/application/controllers/Article.php
Line: 87
Function: view

File: /home/projonmonews24/public_html/index.php
Line: 315
Function: require_once

বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরো সংবাদ