আমন ধানের বীজ তলা তৈরিতে কৃষক দিশেহারা 

প্রকাশিত: ০১ অগাস্ট, ২০২২ ১২:৫২:৫৩ || পরিবর্তিত: ০১ অগাস্ট, ২০২২ ১২:৫২:৫৩

আমন ধানের বীজ তলা তৈরিতে কৃষক দিশেহারা 

আল-আমীন বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটা উপজেলা ৭ ইউনিয়ন ও ৬৩ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই উপজেলার ৯৫ ভাগ জমিতে কৃষকরা আমন ধান চাষ করে থাকেন। সমগ্র উপজেলা মিলে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। কিন্তু বৃষ্টি কম হওয়ায় এখনও পর্যন্ত শতভাগ কৃষক বীজতলা তৈরি করতে পারেনি।

অন্যদিকে বৃষ্টির আশায় গত ২৯ জুলাই শুক্রবার জুম্মাবাদ বারোআড়িয়া জামে মসজিদসহ উপজেলার বেশির ভাগ মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। শুধু বৃষ্টির অভাবে বীজতলা তৈরি করতে কৃষক দিশেহারা। 

আমন ধানের বাম্পার ফলন ও জমিতে ধান রোপনের জন্য ১ হাজার হেক্টর জমিতে বীজ তলা তৈরি করতে হয়। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষক এই বীজ তলা তৈরিতে হিমশিম খাচ্ছে। ভালো ফলন উৎপাদন নিয়ে তারা রিতি মতো চিন্তিত। অনেক কৃষকের মন্তব্য প্রতি বছর এমন সময় শতভাগ কৃষকের বীজতলা তৈরি হয়ে থাকে কিন্তু এবছর শুধু বৃষ্টির কারণে ১০ ভাগ কৃষকও বীজতলা তৈরি করতে পারেনি। এই এলাকায় ইরি ১০,ইরি ২৩,কাচড়া, বাইশমতি,বেনাপোল, হোগলাসহ বিভিন্ন প্রকার হাইব্রিড ধানের চাষ করে থাকেন স্হানীয় কৃষকরা।

যে সকল কৃষক বীজতলা তৈরি করেছে তারা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে সেচের মাধ্যম বীজতলা তৈরি করেছে। অনেকে বলছে আষাঢ় মাসের শেষে বা শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহে প্রতি বছর সকল কৃষক বীজতলা তৈরি করেন অথচ আজ শ্রাবণের ১৫ তারিখ হলেও বেশির ভাগ কৃষক বীজতলা তৈরি করতে পারেনি শুধু বৃষ্টির কারণে। যদিও হাতে গোনা কিছু কৃষক বীজতলা তৈরি করেছেন, তারা কৃষি দপ্তরের পরামর্শ নিয়ে সেচের মাধ্যম তৈরি করেছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক কৃষকে বীজতলা খরার কারণে নষ্ট হতে চলছে। 

কৃষক হায়দার শেখ,হাফিজুর গাজী, আমজাদ শেখ, মনিমোহন, আশিষ গোলদার, নিয়ারব হোসেন, মিহির বিশ্বাস, সিদ্ধার্থ মন্ডল ও সমিরন জোয়ার্দার পৃথক পৃথক ভাবে বলেন,আমাদের এলাকায় দায়িত্ব প্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার সরদার আব্দুল মান্নান, জীবনানন্দ রায় ও দিপন কুমার হালদার এর পরামর্শে যেহেতু বৃষ্টি কম সে কারণে সেচের মাধ্যম বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় তাদের পরামর্শে বিভিন্ন লীজ ঘেরের আইলে অফসিজনের তরমুজ চাষ করেছি। তারা সব সময় আমাদের পাশে এসে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

শুধু তাই নয় আমাদের কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম স্যার তার কাছে কোন বিষয় পরামর্শ নিতে গেলে তিনি হাসিমুখে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তার পরামর্শ বটিয়াঘাটায় ব্যাপক তরমুজ চাষ হয়েছিলো এবং ফলনও হয়েছি অনেক। তিনি সব সময় কৃষকের কথা ভাবেন। 

সার্বিক বিষয় বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন,আমন ধান আবাদের লক্ষমাত্রা ১৭হাজার হেক্টর। বীজতলা লক্ষমাত্রা ১ হ্জার হেক্টর। সম্ভাব্য উৎপাদন  হবে ৭৬ হাজার ৫শ টন। আজ পর্যন্ত বীজতলা হয়েছে ৬৮০ হেক্টর জমিতে। বৃষ্টিপাতের অভাবে বীজতলা তৈরীতে একটু দেরি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে বীজতলার লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে।

এছাড়া স্লুইস গেটের মাধ্যমে নদীর পানি খালে ঢুকিয়ে উক্ত পানি সেচ দিয়ে কৃষকদের বীজতলা তৈরীতে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। আমার উপসহকারী কৃষি অফিসারদেরকে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে বীজতলা তৈরীতে কৃষকদের পরামর্শ প্রদানের জন্য। আশাকরা যায় কয়েক দিনের মধ্যে বীজতলার লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।


প্রজন্মনিউজ২৪/খতিব

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ