কুতুবদিয়া ফেরি'র দাবী দেড় লক্ষাধিক মানুষের

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২২ ০৬:৩১:৪৩

কুতুবদিয়া ফেরি'র দাবী দেড় লক্ষাধিক মানুষের

মুসা বিপ্লব, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া (দ্বীপ) উপজেলার উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ তিন দিকেই বঙ্গোপসাগরের জলরাশি এবং বাঁশখালী, পেকুয়া, মহেশখালী এ তিন উপজেলা এবং কুতুবদিয়া উপজেলার মধ্যকার বঙ্গোপসাগরের অংশ। এদিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর ওই রুটের ২৯টি ফেরি থেকে অন্তত দু-একটি ফেরি পেকুয়া মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়াই ফেরি চালুর দাবি জানিয়েছেন দ্বীপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। 

দরবার এবং বড়ঘোপ ঘাট নৌপথ ব্যবহার করে প্রতিদিন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। এদিকে, কুতুবদিয়া পার হতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মুমূর্ষু রোগী, শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা । এ দুর্ভোগ কখন শেষ হবে এমন প্রশ্ন দ্বীপবাসীর।

কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, ফেরি চালু হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, এখানে গড়ে উঠবে ব্যবসা বাণিজ্য। দুর হবে বেকারত্ব। তাই জরুরি ভিত্তিতে মাগনামাঘাট-কুতুবদিয়া ফেরি চালু করা হোক।

এছাড়া, ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, উপজেলার লোকজনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেক ঝুঁকি নিয়ে মালামাল পার করাতে হয়। মানুষের জানমালের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় ব্যবসায়ীক মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। খরচও পড়ে বেশি। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জ্বালানি আনার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছে। জেলার শিক্ষায় শীর্ষে থাকা এ উপজেলা মৎস্য, লবণ, কৃষি ও পর্যটনে রাজস্ব খাতে ভুমিকা রাখছে। তারপরও যুগযুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে ঘাট পারাপার করতে হচ্ছে দ্বীপে বসবাসকারী মানুষের।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপংকর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দাবি জানালে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি ।

গতকাল জাতীয় সংসদে ১৮ তম অধিবেশনের বাজেটে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক স্থানীয় জনগনের দাবির বিষয়টি জাতীয় সংসদে গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করে বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর ওই রুটের ২৯টি ফেরি থেকে অন্তত দু-একটি ফেরি কক্সবাজার-মহেশখালী ও কক্সবাজার -কুতুবদিয়া রুটে ফেরির চালুর দাবি জানান ।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী-লীগের সভাপতি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ফেরী যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর পূর্বে যেসব যানবাহন আসা যাওয়া করবে এর জন্য সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করতে হবে। যেখানে ডেনিস বোটের জন্য যাত্রীরা দশ মিনিট অপেক্ষা করতে পারে না স্পীডবোট নিয়ে পার হয়ে যায়। সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা কীভাবে অপেক্ষা করবে? আগে রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগি হওয়া প্রয়োজন। তারপরে ফেরীর বিষয়ে আগানো যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে সাবেক সচিব কুতুবদিয়ার কৃতি সন্তান আ,ম,ম নাসির উদ্দিন পারাপারে সী ট্রাক চালুর উদ্যোগ নেন। কিন্তু তাঁর সেই আন্তরিক প্রচেষ্টায় পারাপারে চালু হওয়া সী ট্রাক কয়েকমাস পর অদৃশ্যে কারণে বন্ধ হয়ে যায়।


প্রজন্মনিউজ২৪/মনিরুল

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ