পঁচিশ হাজার মানুষের ভরসা একটি ভাঙ্গা সাঁকো

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২২ ০৭:০০:৩৮ || পরিবর্তিত: ২৭ জুন, ২০২২ ০৭:০০:৩৮

পঁচিশ হাজার মানুষের ভরসা একটি ভাঙ্গা সাঁকো

জুনাইদ কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের নদী পারাবারের একমাত্র ভরসা ভাঙ্গা বাঁশের সাঁকো। বর্ষাকালে নদী পারাপারে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে এই সাঁকো। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া, রোগী নিয়ে পারাপার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও একটি ব্রিজ নিমার্ণ হয়নি নদীর উপর। তবুও থেকে নেই ঝুঁকি পারাপারের প্রতিযোগিতা, যেকোনো সময় হতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবত এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও বর্ষা মৌসুমে সাঁকো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এর খুঁটি থেকে শুরু করে সবকিছুই নষ্ট হয়ে যায় সেই সাথে নদীতে পানি বাড়ে। এই সাঁকোটি পার হয়েই ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা স্কুলে যায়। যেকোনো সময় এটি ভেঙ্গে পড়তে পারে। হাজার হাজার মানুষে এই সাঁকো ব্যবহার করলেও এখন পর্যন্ত নদীর উপরে কোনো ব্রিজ করার উদ্যোগ কোনো জনপ্রতিনিধি ও সরকারি আমলারাও নেয়নি। ইদানিং সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে এলাকাবাসীরা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে নদীর তীরবর্তী দু‘পারের বাসিন্দারা।

প্রতি বছর সাঁকোটি মেরামত করা হয়। আর এই মেরামতের অর্থও আসে গ্রামবাসীদের যৌথ উদ্যোগে চাঁদা উত্তোলণের মাধ্যমে। সেই চাঁদার টাকা দিয়েই বাঁশ, রশি ইত্যাদি ক্রয় করে তাদের সেচ্ছাশ্রমেই মেরামত বা পুণঃনির্মাণ করা হয় সাঁকোটি। কিন্তু এবার সাঁকোটি পুরোপুারিভাবে ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। তাদের দাবি অতিসত্ত্বর এই নদীর উপর দিয়ে একটা ব্রিজ স্থাপন করা হোক। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও অপর গ্রামগুলোর সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখার্থে নদীর উপরে ব্রিজ নিমার্ণ তাদের অন্তরের দাবি বলছেন গ্রামবাসীরা।

কলেজ শিক্ষার্থী খুকুমণি জানায়, বর্ষাকাল আসলে আমাদের কলেজে উপস্থিতি কমে যায়। কারণ, এসময় নদীতে পানি বাড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে যায়। এমনকি নদীর পানিতে কখনো কখনো তলিয়ে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে যায়। ফলে আমরা আর কলেজে যেতে পারি না। একটি ব্রিজ থাকলে খুব সহজেই নদী পার করে কলেজ, কোচিংয়ে যাওয়া যেতো।

বেলাল হোসেন বলেন, এই গ্রামে বসবাসকারী বাসিন্দারা সবাই দিনমজুন। একদিন বাড়ি থেকে বের হতে না পারলে সেদিন অনাহারে, অর্ধাহারে কাটাতে হয়। প্রতি বছর চাঁদা তুলে গ্রামবাসী নিজেরাই এই সাঁকোটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগি করে তুলে। এবার পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান বারবার ব্রিজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও ব্রিজ তৈরির ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আমাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা ব্রিজ করা হোক।

নাদিম নামের এক স্কুলশিক্ষার্থী জানায়, আমরা বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যাই। পার হওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। আর নদীতে যখন পানি বেড়ে যায় তখন তো আরো ভয় লাগে। আমরা স্কুল যাওয়ার জন্য হলেও একটা ব্রিজ চাই।

এ ব্যাপারে রহমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, ব্রিজের জন্য কয়েক দফায় আবেদন করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দেখা যাক, কবে এ সমস্যার সমাধান হয়।


প্রজন্মনিউজ২৪/এসএমএ

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন