ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে সেই একই ছবি

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২২ ১০:৪৭:০১

ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে সেই একই ছবি

 

ঘুরেফিরে সেই একই কথা। বাংলাদেশের ব্যাটিং। আসলে বলা ভালো, হতাশার ব্যাটিং। ম্যাচের আগে, মাঝে কিংবা শেষে, ব্যাটারদের ব্যর্থতার গল্পগুলো নিয়ে আলোচনা চলে। ‘সামনের দিকে সব ঠিক হয়ে যাবে’- এমন আশার বাণী শুনিয়ে পরিস্থিতির আপাতকালীন সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলে। কিন্তু বারবার ফিরে আসে একই ছবি- হতাশার, ব্যর্থতার, বিপর্যয়ের...। সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও সেটির পুনরাবৃত্তি!

রবিবার সেন্ট লুসিয়া টেস্টের তৃতীয় দিনে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় হারের শঙ্কা জেগেছে বাংলাদেশ দলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ইনিংসে ৪০৮ রানে অলআউট করে সফরকারীরা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে ১৭৪ রানে পিছিয়ে থেকে। নেমেই পড়ে ক্যারিবিয়ান পেস তোপের মুখে। বারকয়েক বৃষ্টির বাধাতেও পড়ে ইনিংস। শেষবার বৃষ্টি কারণে আগেই শেষ হয়ে যায় দিনের খেলা। দিনশেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৬ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩২ রান। স্বাগতিকদের চেয়ে এখনও পিছিয়ে আছে ৪২ রানে।

ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের পুরনো রোগ, উইকেট বিলিয়ে আসার প্রতিযোগিতা! ম্যাচের পর ম্যাচ, ইনিংসের পর ইনিংস, তবু ভুল ভাঙে না বাংলাদেশের ব্যাটারদের। সেন্ট লুসিয়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে হতাশ করার পরও শেখেননি তামিম ইকবাল-মাহমুদুল হাসান জয়রা। আবারও ব্যর্থতার গাড়িতে চড়ে বিপদে ছেড়ে এসেছেন দলকে।

আরও পড়ুন: খালেদের ৫ উইকেট, উইন্ডিজের ১৭৪ রানের লিড

তামিম প্রথম ইনিংসে চেষ্টা করেছিলেন। ক্রিজে সেটও হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি যেভাবে আউট হয়েছেন, সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে তার কাছে এমনটা কারোরই প্রত্যাশায় থাকার কথা নয়। রোচের ওয়াইড ডেলিভারি, টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটারদের অবশ্যই ছেড়ে দেওয়ার বল, সেটিই তিনি খেলতে গেলেন। অহেতুক শট খেলতে গিয়ে যা হওয়ার তাই হলো। উইকেট বিলিয়ে এলেন বাঁহাতি ওপেনার। বল তার ব্যাটে ছোঁয়া দিলে গেলে উইকেটকিপার জোশুয়া দা সিলভার গ্লাভসে নিতে কোনও অসুবিধা হয়নি। মাত্র ৪ রানে বিদায় নেন তামিম।

তাকে ফিরিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রোচ। তাতে ছাড়িয়ে যান কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিংকে (২৪৯)। ক্যারিবিয়ান এই পেসার এখানেই থামেননি। খানিক পর তুলে নেন জয়ের উইকেট। তার গুড লেংথ বলে বাড়তি বাউন্স থাকায় খেই হারায় ডানহাতি ওপেনার। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে উঠে গেলে স্লিপে ধরা পড়েন জার্মেইন ব্ল্যাকউডের হাতে। ফেরার আগে জয় ২১ বলে করেন ১৩ রান।

রোচের উইকেট ক্ষুধা তবু মেটেনি। তার পরের শিকার এনামুল হক। দীর্ঘদিন পর টেস্টে ফিরে প্রথম ইনিংসে তবু কিছুটা হলেও প্রতিরোধ গড়েছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। রোচের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৪ রান করে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। তার আউটের পরপরই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এর মধ্যেই চা বিরতিতে যায় তৃতীয় দিনের খেলা।

শেষ সেশনে বাংলাদেশের শুরুটা মন্দ ছিল না। লিটন দাসকে নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু লিটন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৯ রান করে জেডেন সেলসের শিকার তিনি। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ না দিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিভিউয়ে তাকে ফিরতে হয়। পরের সময়টা সাকিব আল হাসানকে নিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন শান্ত।

আরও পড়ুন: নতুন রূপে ফেরা খালেদের ‘প্রথম’

সুযোগের পর সুযোগ, কিন্তু প্রত্যাশা মতো রান নেই তার ব্যাটে। যে কারণে সমালোচনার তীরে শান্ত বিদ্ধ হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নিজেকে প্রমাণের লক্ষ্যে সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় পড়ে ছিলেন ক্রিজে। ধৈর্যের পরীক্ষাও দিয়েছেন প্রবলভাবে। কিন্তু শেষে এসে এমন শটে আউট হলেন, তাতে তার ধৈর্য ধারণের পুরোটাই ‘ব্যর্থতায়’ রূপ নিলো!

টপ অর্ডারে সতীর্থরা ব্যর্থতায় মুখ লুকালেও শান্ত ঠাণ্ডা মাথায় ইনিংস মেরামতের কাজে লেগে পড়েন। বাজে বল সীমানা ছাড়া করার পাশাপাশি ভালো বলকে সমীহ করেছেন। একটু একটু করে নিজের রানের সঙ্গে দলের সংগ্রহেও রাখছিলেন ভূমিকা। কিন্তু নিজেকে ধরে রাখার ক্ষমতা হঠাৎই যেন হারিয়ে বসলেন বাঁহাতি ব্যাটার। আলজারি জোসেফের অনেক বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে এলেন শান্ত। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল খেলার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। টেস্ট ক্রিকেট সাধারণত এই সব ডেলিভারি ব্যাটাররা ছেড়ে খেলেন। কিন্তু শান্ত ধৈর্য হারা হয়ে খোঁচা মারলেন। ফলে তার ৯১ বলে খেলা ৪২ রানের ইনিংসটি শেষ হয় চরম হতাশায়।

তার বিদায়ের কিছুক্ষণ পর সাকিব বাজে আউটে দলকে আরও বিপদে ফেলেন। জোসেফের গুড লেংথের বল তার ব্যাটে কানায় লেগে উঠে যায়। জন ক্যাম্পবেল প্রথম চেষ্টায় ধরতে না পারলেও দ্বিতীয়বার ঠিকই হাতে জমান। ফলে ৩২ বলে ১৬ রানে শেষ হয় বাংলাদেশ অধিনায়কের ইনিংস। এরপর বৃষ্টিতে দিন শেষ হওয়ার আগের সময়টা ভালোমতোই সামাল দিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান (১৬*) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (০*)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে সফল বোলার রোচ। এই পেসার ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। জোসেফ ১০ ওভারে ৩১ রান খরচায় পেয়েছেন ২ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

(তৃতীয় দিন শেষে)

বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংসে ৬৪.২ ওভারে ২৩৪ (লিটন ৫৩, তামিম ৪৬, শান্ত ২৬, শরিফুল ২৬, এনামুল ২৩, এবাদত ২১*, জয় ১০, মিরাজ ৯, সাকিব ৮; জোসেফ ১৫-১-৫০-৩, সেলস ১৪.২-৪-৫৩-৩, ফিলিপ ৯-১-৩০-২) ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ ওভারে ১৩২/৬ (শান্ত ৪২, লিটন ১৯, সোহান ১৬*, সাকিব ১৬, জয় ১৩, মিরাজ ০*; রোচ ১০-১-৩২-৩, জোসেফ ১০-২-৩১-২)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: প্রথম ইনিংসে ১২৬.৩ ওভারে ৪০৮ (মায়ার্স ১৪৬, ব্র্যাথওয়েট ৫১, ক্যাম্পবেল ৪৫, ব্ল্যাকউড ৪০, রিফার ২২, জোশুয়া ২৯, রোচ ১৮*; খালেদ ৩১.৩-৩-১০৬-৫, মিরাজ ৩৯-৮-৯১-৩, শরিফুল ১৯-৬-৭৬-২)।



প্রজন্মনিউজ২৪/এম আর এ

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন