মায়ার্সের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের হতাশার দিন

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২২ ১০:৩৮:০৫

মায়ার্সের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের হতাশার দিন


প্রজন্মনিউজ ডেস্ক: প্রথম সেশনের ওই ১৫ মিনিট হঠাৎ কী হয়েছিল সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে? প্রশ্নটা এই কারণে আসছে ওই সময়ে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটারদের নাকানিচুবানি খাওয়ার অবস্থা। ১ রান তুলতে হারায় ৩ উইকেট। কিন্তু লাঞ্চের পর হঠাৎ আবার কী হলো, উইকেট হয়ে উঠলো সোনার হরিণ! যেখানে কেবলই ক্যারিবিয়ানদের রাজত্ব। সবচেয়ে বেশি শাসন করলেন কাইল মায়ার্স। এই ব্যাটারের সেঞ্চুরিতে লেখা হলো বাংলাদেশের আরেকটি হতাশার দিন।

শুক্রবার সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে চালকের আসনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনশেষে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ১০৬ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৪০ রান। প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের চেয়ে এরই মধ্যে এগিয়ে গেছে ১০৬ রানে। বিপদের সময় দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূরণ করে মায়ার্স অপরাজিত ১২৬ রানে। তার সঙ্গে তৃতীয় দিন শুরু করবেন ২৬ রানে অপরাজিত থাকা জোশুয়া দা সিলভা।

এতদিন মায়ার্সের টেস্ট ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি ছিল একটি। সেঞ্চুরি নয় আসলে, ডাবল সেঞ্চুরি। গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষেই খেলেছিলেন অসাধারণ এক ইনিংস, যাতে জন্ম দিয়েছিলেন অবিশ্বাস্য এক ঘটনার। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের ৩৯৫ রানের লক্ষ্যও ওয়েস্ট ইন্ডিজ টপকে গিয়েছিল মায়ার্সের অপরাজিত ২১০ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংসে। সেই মায়ার্স আবারও তিন অঙ্কের দেখা পেলেন ওই বাংলাদেশের বিপক্ষেই।

দলের বিপদের সময় জার্মেইন ব্ল্যাকউডের সঙ্গে জুটি বেঁধে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এরপর উইকেটকিপার ব্যাটার জোশুয়ার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন থেকে ক্যারিবিয়ানদের লিড বাড়িয়ে নিচ্ছেন। দ্রুত উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে ব্ল্যাকউডের সঙ্গে ১১৬ রানের জুটি গড়েন মায়ার্স। ব্ল্যাকউডকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১২১ বলে ৪০ রান করেন এই ব্যাটার। লাঞ্চের পর এই একটিই সাফল্য বাংলাদেশের। বাকি সময়টা শুধু ক্যারিবিয়ানদের। দিন শেষে মায়ার্স ও জোশুয়া অবিচ্ছিন্ন ৯২ রানের জুটিতে। মায়ার্স ১৮০ বলে ১৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ১২৬ রানে। আর জোশুয়া ১০৬ বলে ৩ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ২৬ রানে।

যদিও দিনের শুরুর চিত্র এমন ছিল না। একঝলকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ! ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং বিপর্যয়ে খুশির ঝরনাধারা সফরকারী ক্যাম্পে। কী তৃপ্তিতেই না মধ্যাহ্নভোগ সেরেছেন সাকিব আল হাসানরা। কিন্তু লাঞ্চ থেকে ঘুরে দেখতে হলো মুদ্রার উল্টোপিঠ। প্রথম সেশনে ৪ উইকেট পাওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেশনে নেই কোনও সাফল্য! প্রতিরোধ গড়া ক্যারিবিয়ানরা লিড নিয়ে যায় চা বিরতিতে।

অথচ প্রথম সেশনের দৃশ্যপট ছিল পুরো ভিন্ন। ক্যারিবিয়ানদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে খালেদ-শরিফুলরা আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে যদিও দাপট ছিল স্বাগতিকদের। তবে গলার কাঁটা হয়ে থাকা দুই ওপেনার ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট ও জন ক্যাম্পবেলকে খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। এরপর ওয়ান ডাউনে নামা রেমন রিফারের পর এনক্রুমা বনারকেও ছেঁটে ফেলে। বলার অপেক্ষা রাখে না দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে।

প্রথম দিন মোটেও সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। গোটা দিন নিয়ন্ত্রণে ছিল ক্যারিবিয়ানদের। প্রথমে বোলিংয়ের পর শেষ বিকালে ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। ব্যাকফুটে থাকা বাংলাদেশের দ্বিতীয় দিনে ভালো শুরু প্রয়োজন ছিল। যদিও দুই ওপেনার ক্যাম্পবেল ও ব্র্যাথওয়েট মিলে অস্বস্তি বাড়িয়েই যাচ্ছিলেন। অবশেষে বাংলাদেশ ক্যাম্পে স্বস্তি ফেরান শরিফুল ইসলাম।

মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পেয়ে এই বাঁহাতি ব্যাটার এনে দেন প্রথম উইকেট। তার বলে ফিরে যান ক্যাম্পবেল। উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে ধরা পড়ার আগে এই ওপেনার করেন ৪৫ রান। ৭৯ বলের ইনিংসটি সাজান ৬ বাউন্ডারিতে।

যেখানে ১০০ রানে বাংলাদেশ পায় প্রথম উইকেট, সেখানে পরের ৩ উইকেট পেয়েছে মাত্র ১ রানে! মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ব্র্যাথওয়েট ফেরার পরই খালেদ আহমেদের জোড়া আঘাত। একই ওভারে এই পেসার আউট করেন রিফার ও বনারকে। যে উইকেট উৎসবের শুরুটা হয়েছিল ব্র্যাথওয়েটকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে।

ক্যাম্পবেলের বিদায়ের পর রিফারকে সঙ্গে নিয়ে স্কোর বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন ব্র্যাথওয়েট। এর মধ্যে হাফসেঞ্চুরিও তুলে নেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। তবে মাইলফলক স্পর্শ করার পরপরই ফিরে যান। মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ৫১ রানে আউট ব্র্যাথওয়েট। ১০৭ বলের ইনিংসটিতে মারের ৭ বাউন্ডারি।

তার বিদায়ের পর ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের টপ অর্ডার। খালেদের তোপে সব এলোমেলো। এই পেসার ৩৯তম ওভারের প্রথম বলে বোল্ড করেন ২২ রান করা রিফারকে। ষষ্ঠ বলে আবারও উইকেট। ওই একইভাবে (বোল্ড) বনারকে সাজঘরে ফেরার রানের খাতা খুলতে না দিয়ে। তাতে ১৩২ রানে ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দিন শেষে সেই স্কোর ৫ উইকেটে ৩৪০। প্রথম সেশনে বোলাররা জ্বলে উঠলেও দিনের পরের দিকে সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার মিরাজ। এই স্পিনার ৩১ ওভারে ৬৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। এক ওভারে ২ উইকেট নেওয়া খালেদ ২১ ওভারে খরচ করেছেন ৭৭ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

(দ্বিতীয় দিন শেষে)

বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংসে ৬৪.২ ওভারে ২৩৪ (লিটন ৫৩, তামিম ৪৬, শান্ত ২৬, শরিফুল ২৬, এনামুল ২৩, এবাদত ২১*, জয় ১০, মিরাজ ৯, সাকিব ৮; জোসেফ ১৫-১-৫০-৩, সেলস ১৪.২-৪-৫৩-৩, ফিলিপ ৯-১-৩০-২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: প্রথম ইনিংসে ১০৬ ওভারে ৩৪০/৫ (মায়ার্স ১২৬*, ব্র্যাথওয়েট ৫১, ক্যাম্পবেল ৪৫, ব্ল্যাকউড ৪০, রিফার ২২, জোশুয়া ২৬*; মিরাজ ৩১-৮-৬৮-২, খালেদ ২১-১-৭৭-২, শরিফুল ১৭-৬-৬৭-১)।


প্রজন্মনিউজ২৪/এম আর এ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন