ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২২ ০৭:০৩:০৮

ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর

হাসিব বিল্লাহ, পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মাতৃসেবা প্রাইভেট ক্লিনিকে সরকারি রেজিষ্টেশনবিহীন ডাক্তার দিয়ে প্রসব করাতে গিয়ে নাছিমা বেগম নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  শুক্রবার রাত ১ টার দিকে ওই ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘঠে বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে যানা য়ায়, উপজেলার আটঘর নিবাসী মোঃ মহিদুল হাওলাদার এর স্ত্রী নাসিমা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তার স্বামী এবং তার জা হোসনে আরা বেগম দ্রুত ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের সামনে আসলে মাতৃসেবা ক্লিনিকের স্টাপরা তাদেরকে ক্লিনেকে চিকিৎসা করানোর জন্য জোর করেন এবং ভালো ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা হয় বলে তাদেরকে আশ^স্ত করেন। রোগীর জা হোসনে আরা বেগম দেখেন ক্লিনিকে কোন ডাক্তার নেই আছে শুধু ক্লিনিকের প্রধান ডাক্তার আব্দুল মতিন সরদারের সহাকারী ডিএমএফ প্যারামেডিকেল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত রাজীব রায় ও তার সহযোগী ঝর্না আক্তার।

তারা সেখানে ভর্তি না করতে জোর করে রাজীব রায় ও ঝর্ণা আক্তার তাদের রোগীকে ভর্তি করান এবং গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করেন। রোগী যখন বেশি বেদনা শুরু হয় তখন ব্যথানাশক ইনজেকশন করে এবং শরীরে স্যালাইন পুশ করেন। এসম রোগী পানির পিপাসার কথা বললে রোগীকে হোমিওপ্যাথিক বোতলের মত বোতলে কি যেনো ওষুধ মুখে দেয় যা মুখে দেয়ার পরে মুখের এক অংশ কালো হয়ে যায়। পানির মত ওষুধ খাওয়ানোর আগ মুহুর্তে রোগী কথা বলছিলো। কিন্তু পরে কথা বন্ধ হয়ে যায় এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে সাথে সাথে মারা যায়। পরে রাজীব রায় অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মৃত্যু লাশটি পিরোজপুরে পাঠিয়ে দেয়। পরে তারা পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন এখন লাশ নিয়ে আসছেন কেন উনি তো অনেকক্ষণ আগেই মারা গেছেন।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত মাতৃসেবা ক্লিনিকের ডাঃ মতিন সরদারের সহকারী রাজিব রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমাদের এখানে রোগী রাত ১২ টার দিকে নিয়ে আসেন এবং রোগীর নিকট আত্বীয়রা আমাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে আমি দেখতে পাই রোগীর খুব খারাপ অবস্থা। আমরা তখন রোগীকে হার্টসম্যান সেলাইন পুশ করি। জানতে পারি রোগীর এক সপ্তাহ আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিল। যার ফলে রোগী রক্ত স্বল্পতায় ভুগতেছিলো। আমরা রোগীর রক্ত লাগার বেপারে তার পরিবারকে জানাই । পরে আমরা ৩০ মিনিটের মত রেখে আমি ডাঃ মতিন স্যারের সাথে কথা বললে তিনি রোগীকে পিরোজপুর পাঠিয়ে দিতে বলার পরে আমরা সেখানে পাঠিয়ে দেই।

মাতৃসেবা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. মতিন সরদার বলেন, রোগীর বিষয়ে আমাকে পরে জানানো হয়েছে। আমাকে জানানোর পর আমি পিরোজপুর দেশ ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলি। ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এনামুল হক জানান, এ ঘটনার বিষয়ে আমরা এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

প্রজন্মনিউজ২৪/এসএমএ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন