বিএনপি-জামায়াত জনগণের প্রতিপক্ষ: রাবি উপাচার্য

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২২ ০৫:০৩:১২

বিএনপি-জামায়াত জনগণের প্রতিপক্ষ: রাবি উপাচার্য

মোঃ সোহাগ আলী, রাবি প্রতিনিধিঃ সারা বাংলাদেশে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, আওয়ামী লীগ সরকার কতটা জনপ্রিয়। আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিপক্ষ নেই। বিএনপি-জামায়াত জনগনের প্রতিপক্ষ। আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন, আওয়ামী লীগ মানে ক্ষমতা আকড়ে থাকা না। ক্ষমতা আকড়ে থাকা উদ্দেশ্য হলে শেখ হাসিনার তাহাজ্জুদ নামাজ পড়াসহ এতো পরিশ্রম করা লাগতো না। রাবি প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কর্তৃক স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা' শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার এসব কথা বলেন।

শনিবার (২৫ জুন) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় সভাটি।

এসময় উপাচার্য আরো বলেন, পদ্মা সেতু আধুনিক প্রযুক্তির অনন্য উদাহরণ। প্রমত্তা পদ্মার বুকে এমন সেতু তৈরী করা একটা বড় বিষয়। আরেকটা বিষয় হলো এটা শেখ হাসিনার মানবিক প্রজ্ঞা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বহুজাতিক জ্ঞানের সমন্বয়েই তৈরী করা হয়েছে। এটা শুধু সেতু না। পঞ্চাশটি দেশের এখানে অংশগ্রহণ আছে তাদের জনগনের মেধা, শ্রম ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে। তবে মূল প্রজ্ঞা, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এই সেতু নির্মিত হয়েছে। বাঙালি জাতির একটা আকাঙ্ক্ষার দারিদ্র্যতা আছে, সেই দারিদ্র্যতাকে ভেঙে দিয়েছে পদ্মা সেতু।

তিনি আরো বলেন, সমগ্র মানবজাতির অগ্রগতিতে পদ্মা সেতু টেক্সটবুক হিসেবে বিবেচিত হবে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা সেই সোনার বাংলার কাছে চলে এসেছেন বা শুরু করে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ২০৪১ সালের বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে।

আলোচনা সভার মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটা দর্শন ছিলো, সেটা হলো জাতিকে স্বাধীন করা ও সফল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা। বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্খা পূরণকল্পে দেশী ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বঙ্গবন্ধু কন্যা পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করেছেন।

পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ধরন কেমন তা জানিয়ে তিনি বলেন, একটা যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশকে বঙ্গবন্ধু যখন পূণর্গঠনের চেষ্টা করছিলেন, তখন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যারা রাজাকার, একদম সোজাসুজি বললে আমেরিকা, তারা কিন্তু ওই পূণর্বাসনকে মেনে নিতে পারেনি। আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক বঙ্গবন্ধুকে শর্ত দিয়েছিলো তিনি তাজউদ্দীন আহমদকে সরালে, তারা সাহায্য করবে। বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীনকে সরিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু এটাতো ছিলো ষড়যন্ত্র, তারা কিন্তু আর সাহায্য করেনি।

১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের জন্য আমেরিকা দায়ী, এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আমেরিকা কোনো সময়ই তার নীতিকে উপেক্ষা করেছে এমন তৃতীয় বিশ্বের কোনো নেতাকে তিন থেকে চার বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে দেয়নি। আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার বহুদেশে এরকম ঘটনা ঘটেছে। এরকমই একটা ঘটনা হলো পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন রাবির উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো জাকারিয়া ও কোষাধ্যক্ষ (অবঃ) অধ্যাপক অবাইদুর রহমান প্রামানিক। আলোচক হিসেবে ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মো. ইলিয়াস হোসেন, রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, অধ্যাপক এম. খলিলুর রহমান খান এবং অধ্যাপক এম. হুমায়ুন কবির।

এছাড়া, এসময় অন্যদের মধ্যে প্রক্টর অধ্যাপক মো. আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডেসহ অনুষদ অধিকর্তা, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, রাবি প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে দশটায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দ র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এসে শেষ হয়। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পদ্মাসেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠানটি প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হয়।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে বলে জানা গেছে।


প্রজন্মনিউজ২৪/এসএমএ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ