খরা নয় তবুও দুর্ভিক্ষ

কাঁঠাল বিচিতে ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা শিশু জুইঁয়ের

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২২ ০৫:২১:২৮ || পরিবর্তিত: ২৩ জুন, ২০২২ ০৫:২১:২৮

কাঁঠাল বিচিতে ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা শিশু জুইঁয়ের

মাছুম বখ্স মাহী, মৌলভীবাজারঃ উত্তরের ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যায় তলিয়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। ঠাঁই নেওয়ার মতো তিল পরিমাণ শুকনো জায়গা নেই। নেই শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা সেবা, না আছে বিদ্যুৎ, না আছে পরিধানের মতো শুকনো বসন। আছে শুধু পানি আর পানি। যেদিকেই দু‘চোখ যায় সাগরের ন্যায় বিশাল জলরাশিই দৃষ্টিগোচর হয়।

এর আগে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেনি এই জনপদের মানুষ। বন্যার প্রার্দুভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পেটে নিদারুণ ক্ষুধা নিয়ে দিনাতিপাত করছে চার বছরের অবুঝ শিশু জুইঁ। পেটের ক্ষুধা নিবারণের আর অন্য কোনো উপায় না পেয়ে কাঁঠাল বিচিই খাচ্ছে জীবন বাঁচানোর তাগিদে। কারণ বন্যায় চারপাশ তলিয়ে শুকনো কাঠ-খড়ি যা ছিল তাও ভিজে একাকার। এমনকি বসতভিটাও তলিয়ে গেছে বন্যার অথৈ জলে।

সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গায় আপাতত ঠাঁই হয়েছে জুইঁদের। পেটের রাক্ষসী জ্বালা সইতে না পেরে দুই বছরের স্নেহা ও জুইঁ মা সালেহা বানুর সাথে কাঁঠাল বিচি পরিষ্কার করতে ব্যস্ত। এই কাঁঠাল বিচি খেয়েই জীবন বাঁচাতে হবে তাদের। বেঁচে থাকার শেষ সম্বল এখন কাঁঠাল বিচিই। ঘরে রান্না করার মতো কোনো কিছুই নেই, আয় রোজগারের কোনো উপায় নেই। নেই চুলা জ্বালানোর মতো শুকনো খড়ি, ঘরে চাল নেই, নেই সরকারি কিংবা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা শুধু আছে পানি।

সালেহা বানু বলেন, আজ পাঁচ দিন যাবৎ এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বন্দি আছি, এই পাঁচ দিনে শুধুমাত্র মেম্বারের কাছ থেকে ইউনিয়ন থেকে বরাদ্দ করা কিছু সাহায্য পেয়েছি এছাড়া আমাদের ভাগ্যে আর কিছুই জুটেনি। চারটি সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেয়া আমার জন্য এখন অনেক কষ্ট। আমার এই শিশু সন্তানরা জানে না ঘরে খাবার মত কিছুই নেই, তাই বাধ্য হয়ে কাঁঠাল বিচি ভেজে তাদের খাবার জোগানোর চেষ্টা করছি বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সালেহা বানু।

রাজনগর উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে জুইঁরা বাস করে। সালেহা বানু জানান, কুশিয়ারা নদীর তীরে বাড়ি হওয়ায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ভিটেমাটি। ঘরের চালা অবধি তলিয়েছে পানিতে। কোনো মতে চার সন্তানকে নিয়ে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গায় এসে ঠাঁই নিয়েছেন তারা।

উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা (অস্থায়ী) বাবুল সূত্রধর বলেন, আমরা সাধ্য মতো চেষ্টা করছি রাজনগর উপজেলার সকল বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করার।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান জানান, আমরা চেষ্টা করছি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মেরামত করার। তবে এবিষয়ে স্থায়ী সমাধানের কথা বললে তিনি কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।


প্রজন্মনিউজ২৪/এসএমএ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ