অগ্নিপথ : বুমেরাং মোদি সরকারের ড্যামেজ কন্ট্রোল

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২২ ১০:৩৩:৫৪

অগ্নিপথ : বুমেরাং মোদি সরকারের ড্যামেজ কন্ট্রোল

অনলাইন ডেস্কঃ ভারতের সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ‘অগ্নিপথ’কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আগুন নেভাতে এবার চাকরির বৃষ্টি বর্ষণ করছে নরেন্দ্র মোদির সরকার! চার বছরের চুক্তি-সেনা প্রকল্প ঘিরে তিনদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে গোটা ভারতে। তাই মুখরক্ষায় এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অগ্নিবীরদের জন্য চাকরির বাঁধ খুলে দিচ্ছে সরকার। সেই লক্ষ্যপূরণে আবারো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে শনিবার- কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে নতুন সংরক্ষণ। তাতেই ফের ভারতজুড়ে আগুন জ্বলার আশঙ্কা ভয়াবহ রকমের।

ভারতের স্বরাষ্ট্র থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। প্রায় পুরো কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার ঝাঁপিয়ে পড়েছে 'অগ্নিবীরদের' জন্য অন্তহীন চাকরির দরজা খুলতে। কিন্তু ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য সকালের এই ঘোষণা কার্যত বুমেরাং হয়ে উঠেছে বিকেলেই। প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা। নতুন করে ক্ষোভের আশঙ্কা বাড়ছে। কারণ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, সামরিক বাহিনীর চাকরিতে এবার ১০ শতাংশ শূন্যপদ সংরক্ষিত থাকবে অগ্নিবীরদের জন্য। একই পথে হেঁটেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা অগ্নিবীরদের জন্য আধা সামরিক বাহিনীতে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখবে বলে জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেছেন, অগ্নিবীরদের বিশেষ দক্ষতার ভিত্তিতে আবাসন ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় চাকরি দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ও এদের জন্য পরিকল্পনা করছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুরের প্রস্তাব, ‘আমরা ভাবছি কিছু ক্র্যাশ কোর্স করানো হবে অগ্নিবীরদের। দেশের ১৫ লাখ শারীরিকশিক্ষা শিক্ষকের পদে তাদের নেয়া যেতে পারে।’

এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, এই ১৫ লাখ পদ কি শূন্য? এত দিন নিয়োগ হয়নি কেন? জাহাজ মন্ত্রণালয়ের আহ্বান, অন্তত ছয়টি বিভাগে অগ্নিবীরদের মার্চেন্ট নেভিতে চাকরির সুযোগ করে দেয়া হবে। অর্থাৎ, এসব ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে মোদি সরকারের যাবতীয় চাকরির একমাত্র যোগ্যতামান হয়ে দাঁড়াচ্ছে অগ্নিপথ প্রকল্পের চার বছর সমাপ্ত করা। তাহলে সাধারণ কর্মপ্রত্যাশীদের কী হবে? এত সংখ্যক চাকরি দেয়ার সুযোগ থাকলে স্বাভাবিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ কেন? তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা। আগামী দিনে কি এই দুই মন্ত্রণালয়ে জেনারেল ক্যাটিগরিতে চাকরির সুযোগ আরো কমে যাবে? জবাব চাইতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

সরকার বিক্ষোভের আগুনে পানি ঢালতে চাইলেও শনিবার বিহারে সর্বাত্মক বন্ধ হয়েছে। রাজস্থান থেকে পাঞ্জাব অশান্ত থেকেছে। আজ দিল্লির যন্তরমন্তরে সত্যাগ্রহ আন্দোলনে নামছে কংগ্রেস। সোমবার ভারত বন্ধের ডাক দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমস্ত রাজ্যকে চিঠি লিখে আগাম ব্যবস্থা নিতে বলেছে। ভারতের তাবৎ স্টেশনে কড়া নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বলবৎ করতে পৃথকভাবে ৩৬ দফা নির্দেশিকা জারি করেছে আরপিএফ। শনিবারও দেশজুড়ে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ১০টি রাজ্যে নির্বাচন। তার প্রাক্কালে এই ছাত্ররোষে স্পষ্টতই ব্যাকফুটে মোদি সরকার। শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও। সূত্র : বর্তমান


প্রজন্মনিউজ২৪/এসএমএ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ