নবীকে অবমাননার প্রতিবাদে উত্তাল সারাদেশ

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২২ ০৬:৫৯:২০ || পরিবর্তিত: ১০ জুন, ২০২২ ০৬:৫৯:২০

নবীকে অবমাননার প্রতিবাদে উত্তাল সারাদেশ

ভারতে সরকার দলীয় বিজেপি নেতা কর্তৃক মহানবী (সা) ও তার স্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে শুক্রবার (১০ জুন) জুমার নামাজের পর সারাদেশে তৌহিদী জনতা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এসময় মুসল্লিদের পাশাপাশি সাধারণ ছাত্ররাও প্রতিবাদ মিছিল করে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যমতে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর মুসল্লিরা মহানবী (সা) ও তার স্ত্রীকে নিয়ে কু-রুচিকর মন্তব্য করায় ভারতীয় নেতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচী পালন করেছে তারা। সারাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলায় এ বিক্ষোভ মিছিল করে সাধারণ মুসল্লিরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ময়মনসিংহ নটরডেম কলেজ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল পলিটেকনিক্যালসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, বগুড়া, রাজশাহী, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ করে সাধারণ মুসল্লিরা। এসময় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও দিল্লি শাখার গণমাধ্যম প্রধান নবীন কুমার জিন্দালের ফাঁসি দাবি করেন তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দানকারী বক্তারা বলেন, আমরা চাই প্রতিবেশী দেশের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকুক। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ বর্ডারে আমাদের গুলি করে হত্যা করে করে আমরা রাস্তায় নামি না, আমাদের পঁচা পেয়াজ পাঠায় তারপরেও আমরা রাস্তায় নামি না। আমাদের সাথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে বন্যার পানিতে ভাসিয়ে দেয় তবুও আমরা মেনে নেই। তবে নবীর ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা অনেক আগ থেকেই জোর দাবি জানিয়ে আসছি আইন পাশ করে যারা নবীর নামে মিথ্যা কুৎসা রটনা করবে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দেওয়া হোক।

আমরা চাই জাতীয় সংসদে শুধু নিন্দা প্রস্তাব পাশ করা নয় বরং ভারতের রাষ্ট্রদূতকে ঢেকে কৈফিয়ত তলব করা হোক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বরাবর এদেশের ৯০ভাগ মুসলমানের পক্ষ থেকে মেসেজ দেওয়া হোক। যদি এই কুলাঙ্গারদের যথাযথ বিচার না করে তাহলে বাংলাদেশ ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হবে বলেও দাবি জানায় ধর্মীয় নেতারা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৫ তম ব্যাচের  শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন সাগর বলেন, " আমাদের নবীকে নিয়ে কটুক্তি করার জন্য রাষ্ট্রীয় ভাবে ভারত ও বিজেপির ২ নেতাকে প্রকাশ্য ক্ষমা চেতে হবে পাশাপাশি আমরা ভারতীয় পণ্য বয়কট করলাম" 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী বেল্লাল খান বলেন, 'ভারতীয় দুই নেতার এরকম বক্তব্যে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। ধর্মীয় শান্তি বিনষ্টের দায়ে আমরা এই দুই নেতার সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’

দিন দশেক আগে টেলিভিশনের এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে নূপুর শর্মার মন্তব্য ভারতে এবং ভারতের বাইরে বারোটির বেশি মুসলিম দেশে মুসলমানদের চরম ক্ষুব্ধ করেছে।

গত রবিবার বিজেপি নুপুর শর্মাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। নুপুর শর্মার টিভি অনুষ্ঠানে করা ওই আপত্তিকর মন্তব্যের স্ক্রিনশট টুইটারে শেয়ার করার জন্য দলটি দিল্লিতে তাদের মিডিয়া শাখার প্রধান নাভিন কুমার জিন্দালকেও দল থেকে বহিষ্কার করেছে।


প্রজন্মনিউজ২৪/এসএমএ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন