মির্জাগঞ্জে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২২ ০৩:২৫:২৮ || পরিবর্তিত: ২৪ মে, ২০২২ ০৩:২৫:২৮

মির্জাগঞ্জে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য তিন মাসের আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ শেষে ১২ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও ভাতা না দিয়ে উল্টো প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি বিভিন্ন ফি বাবদ ৩৫০ টাকা আদায় করেছে বলে প্রশিক্ষাণার্থীদের দাবি।

মহিলা বিষয়ক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত তিন মাস মেয়াদে ২ ট্রেডে (ফ্যাশন ডিজাইন ও ক্রিস্টাল সোপিচ) প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। মাসে ২০ দিন করে তিন মাসে মোট ৬০ দিন এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এ জন্য প্রতিটি ব্যাচে ২৫ জন ফ্যাশন ডিজাইন এবং ২৫ জন ক্রিস্টাল সোপিচ বিষয়ে মোট ৫০ জনকে নির্বাচিত করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এসব নারী প্রশিক্ষণার্থীদের  দৈনিক যাতায়াত ভাতা হিসেবে ২০০ টাকা করে মোট ১২ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধের কথা বলা আছে নীতিমালায়। প্রশিক্ষণার্থী কয়েকজন নারীর অভিযোগ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা প্রশিক্ষণার্থী ৫০ নারীর কাছ থেকে ভর্তি ফরম বাবদ ৫০ টাকা, ভর্তি ফি বাবদ ১০০ টাকা, সার্টিফিকেট বাবদ ১২০ টাকা ও নিজ বাসার আয়া বাবদ ৮০ টাকাসহ মোট ৩৫০ টাকা করে আদায় করেন।

২০ দিন আগে গত মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) ভাতার ১২ হাজার টাকার মাস্টাররোলের কাগজে স্বাক্ষর নিলেও আজও ভাতা মেলেনি কারোর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন নারী অভিযোগ করেন, ট্রেনিং শেষে আমরা আপাকে (শিরিন সুলতানা) ফেয়ারুয়েল দিয়ে উপহারও দিয়েছি। অথচ সে গত ২৬ এপ্রিল মুঠোফোনে কল দিয়ে ডেকে বিভিন্ন ফি বাবদ ৩৫০ টাকা রেখে দেয়। ভাতা কবে পাবো জানতে চাইলে অশ্রাব্য ভাষায় গলিগালাজও করে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের উপজেলার সদস্য সচিব ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ভর্তি ফি বাবদ আমার দপ্তর কেন টাকা নিবে? যে বলছে তাকে সামনে নিয়ে আসেন। আমার দপ্তরে ভর্তি ফি বাবদ কোন টাকা নেওয়া হয় না। আপনার কি মনে হয়, আমি ভিক্ষুক? আমি কেন টাকা নেব, এ রকমের ফালতু কথা বলবেন না। এখানে বোর্ডে ইউএনও থাকে। কোনো শালায়ও বলতে পারবে না আমি টাকা নিছি। আপনি কেমন সাংবাদিক হইছেন? সামনে আইসেন। যাতায়াত খরচ এর কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনি ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখেন ওয়েবসাইট সবার জন্য ওপেন আছে। তাদের ভাতা চেকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। আপনি পটুয়াখালী জেলার যে কোন উপজেলায় খোঁজ নেন কোন ভাতা দিয়েছে কিনা। এখন পর্যন্ত বাজেট হয়নি।

এ বিষয়ে প্রকল্পের উপজেলার সভাপতি ও ইউএনও তানিয়া ফেরদৌস বলেন, আপনাদের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানতে পেরেছি। ঘটনার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রজন্মনিউজ২৪/এসএমএ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ