নিয়ম মেনেই ফুটেছে মে বল

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২২ ০৬:২৩:১৩

নিয়ম মেনেই ফুটেছে মে বল

মো: জুনাইদ কবিরঃ করে কেউ দেখলে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকতে হবে। বাগানের অন্যান্য ফুলও হয়তো মে মাসের অতিথির দিকে তাকিয়ে অবাক হয়।


মে মাসে ফুটে বলেই এর নাম মে ফ্লাওয়ার। গোলাকার দেখতে হওয়ায় ফুলটিকে বল লিলিও বলা হয়। একই কারণে বলা হয় লিলি। পাউডার পাফ লিলি, আফ্রিকান ব্লাড লিলি নামেও এটি পরিচিত। তবে মে ফ্লাওয়ার হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

এ ফুলের পাপড়ি অন্যান্য ফুলের মতো হয় না। এমনকি পাপড়ি হয় না বললেও চলে। গড়নের দিক থেকে কদম ফুলের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। তবে কদমের চেয়ে আকারে বড়। হাল্কা লাল রংয়ের ফুল। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে গোলাকার ফুলটি কাঁটায় ঘেরা। অনেকগুলো সুচ মুখ বের করে আছে। হাত বাড়ালেই বিপদ!

আদতে তা নয়। ফুলের গায়ে আঙ্গুল দিয়ে ছুঁয়ে দিলে নরম কোমল একটা অনুভূতি হয়। ফুলটিতে হলুদ রঙের অস্তিত্ব আছে। সেটি চোখে তেমন পড়ে না। তবে হাত দিলে আঙ্গুলে হলুদ রং লেগে যায়। সাদা জামা পরে ফুলের কাছে গেলে হঠাৎই দেখা যাবে, জামায় হলুদের ছিটে ফোঁটা লেগে আছে।

জানা যায়, মে ফ্লাওয়ারের অস্তিত্ব প্রথম আবিষ্কৃত আফ্রিকা মহাদেশে। বর্তমানে পৃথিবীর নানা দেশে হয়। বাংলাদেশেও অনেকদিন ধরে আছে। মে ফ্লাওয়ার গাছ লম্বা ১০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফুল প্রায় ৩ সেমি চওড়া হয়। পাপড়ি ও পুংকেশর অসমান।

মে ফ্লাওয়ার মে মাসের মধ্যেই ফুরিয়ে যায়। কখনো কখনো একটি গাছে একাধিক ফুল হয়ে থাকে। পরিণত ফুল অক্ষত অবস্থায় ঝরে পড়ে না। আস্তে আস্তে ফুলের বিভিন্ন অংশ খসে পড়তে থাকে। এক সময় হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো চুপসে যায়। নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অবশ্য ততদিনে একই গাছে নতুন ফুল ফুটতে শুরু করে।

এভাবে মে মাসের প্রায় পুরোটাজুড়েই দেখা যায় প্রিয় ফুল। সব ফুল ঝরে পড়ার পর লম্বা সবুজ পাতার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। কয়েক মাস এই পাতারা সতেজ থাকে। তারপর পাতা কান্ড কিছুই থাকে না। আবার মে মাসে দেখা দেবার কথা দিয়ে চোখের আড়ালে চলে যায় গাছ ও ফুল। শূন্য টব দেখে মনেই হয় না, এর মাটির নিচে আবার জাগার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমিয়ে আছে কোন তাজা প্রাণ!


প্রজন্মনিউজ২৪/নুরউদ্দিন

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ