আবদুল গাফফার চৌধুরীর জীবন কাহিনী

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২২ ০৬:৪৩:০৪ || পরিবর্তিত: ২০ মে, ২০২২ ০৬:৪৩:০৪

আবদুল গাফফার চৌধুরীর জীবন কাহিনী

১২ ডিসেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে আবদুল গাফফার চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হাজি ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা মোসাম্মৎ জহুরা খাতুন। তিন ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে বড় ভাই হোসেন রেজা চৌধুরী ও ছোট ভাই আলী রেজা চৌধুরী। বোনেরা হলেন মানিক বিবি, লাইলী খাতুন, সালেহা খাতুন, ফজিলা বেগম ও মাসুমা বেগম। তিনি লন্ডন প্রবাসী ছিলেন।

আবদুল গাফফার চৌধুরী উলানিয়া জুনিয়র মাদরাসায় ক্লাস সিক্স পর্যন্ত লেখাপড়া করে হাইস্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে বিএ অনার্স পাস করেন। ১৯৪৬ সালে তার পিতার মৃত্যুর পর তাকে চলে আসতে হয় বরিশাল শহরে।

ভর্তি হন আসমত আলী খান ইনস্টিটিউটে। সেসময়ে আর্থিক অনটনের শিকার হয়ে উপার্জনের পথ খুঁজতে থাকেন। ১৯৪৭ সালে তিনি কংগ্রেস নেতা দুর্গা মোহন সেন সম্পাদিত 'কংগ্রেস হিতৈষী' পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। বরিশাল শহরে তিনি কিছুদিন একটি মার্কসবাদী দল আরএসপি'র সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছাত্র জীবনেই তার সাহিত্য চর্চা শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে সওগাত পত্রিকায় তার প্রথম গল্প ছাপা হয়। বরিশালের সন্তান শামসুদ্দীন আবুল কালামের লেখা তখন কলকাতার প্রধান পত্রিকাগুলোতে ছাপা হতো।

আবদুল গাফফার চৌধুরী নানা পরিচয়ে বিখ্যাত ছিলেন।বিশিষ্ট সাংবাদিক,কলামিস্ট,গীতিকার ও সাহিত্যিক হিসেবে তিনি নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়।বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলে ও সংকটে তার লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।১৯৫০ সালে গাফফার চৌধুরী দৈনকি ইনসাফ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।পরের বছর দৈনিক সংবাদ প্রকাশ হলে,তিনি সেখানে অনুবাদকের কাজ নেন। 
 
জুনিয়র ট্রান্সলেটর হিসেবে সেখানে কাজ করতেন তিনি।মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের মাসিক সওগাত পত্রিকার ভারপ্রাপ্তসম্পাদক ছিলেন গাফফার চৌধুরী।সম্পদনা করেছেন মাসিক নকীব।আবদুল কাদির সম্পাদিত দিলরুবা পত্রিকার ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। 
 
১৯৬২ সালে তিনি দৈনিক জিহাদের বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।১৯৬৩ সালে সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সম্পাদক হন।১৯৬৪ সালে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় নামেন,এবং অনুপম মুদ্রণ নামে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে দৈনিক আওয়াজ বের করেন।১৯৬৭ সালে আবার তিনি ফেরে যান দৈনিক আজাদ এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে।১৯৬৯ সালে পত্রিকাটির মালিকানা নিয়ে সহিংস বিবাদ শুরু হলে,তিনি আবার রযাগ দেন দৈনিক ইত্তেফাকে।১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক মনির মেয়া মারা গেলে,তিনি আগষ্ট মাসে হামিদুল হক চৌধুরীর অবজারভার গ্রুফের দৈনিক পূর্বদেশ এ যোগ দেন। 
 
১৯৭৪ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করলেও মুক্তিযুদ্ধ,বঙ্গবন্ধু ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার তার কলম সোচ্চার ছিলো বরাবর।প্রবাসে থেকেও ঢাকার পত্রিকাগুলোতে তিনিযেমন রাজনৈতিক ধারাভাষ্য আর সমকালিন বিষয় নিয়ে একের পর এক নিবন্ধ লিখে গেছেন তেমনি লিখেছেন কবিতা,গল্প,উপন্যাস,নাটক,স্মৃতিকথা ও প্রবন্ধ। 


প্রজন্মনিউজ২৪/জাহিদ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ