পাথরঘাটায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অবৈধ কয়লার চুল্লি

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২২ ০৯:৫৮:২৬

পাথরঘাটায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অবৈধ কয়লার চুল্লি

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানোর ৩ টি কারখানায় মোট ১১ টি চুল্লি ভেঙে ও বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের ৩নং (বকুলতলা) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনের কারখানার ৮ চুল্লি, রায়হানপুর ইউনিয়নের রায়হানপুর গ্রামের সোহাগের কারখানাযর ২ চুল্লি ও একই ইউনিয়নের মাদারতলী গ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফজলু সরদারের কারখানার ৩ টি চুল্লি ভেঙে বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, "কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি অবৈধ কাজ। এগুলো মানুষ ও পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ তাই বিগত দিনে মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে সতর্ক করা সত্বেও বন্ধ না করায় অবৈধভাবে কয়লা তৈরির চুল্লিগুলি সম্পূর্ণ ভেঙে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।"

বৃহাদাকার মাটির চুলায় দুই থেকে আড়াই ফুট কাঠের টুকরো সারিবদ্ধভাবে গোলাকৃতি চুল্লিতে সাজানো হতো। এরপর কাদা মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিটি কাঠের ফাঁক-ফোঁকর আটকিয়ে আগুন জ্বালানো হতো। ওই মাটির প্রলেপের ভিতর এক একটি চুল্লিতে আটটি ছিদ্র দিয়ে অনবরত বের হয় ধোঁয়া। বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তো গ্রামজুড়ে। আর কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়ায় ওজন স্তর ভারী হয়ে একদিকে যেমন জলবায়ুর উপর বিরুপ প্রভাব পড়ে অন্যদিকে কৃষি নির্ভর উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশে চরম বিপর্যয় ঘটে।

এধরনের চুল্লিতে কাঠ সাজিয়ে ১৫ দিন পর্যন্ত তা পুড়িয়ে তৈরি করা হয় কয়লা। প্রতিটি চুল্লিতে ২৫০ মন করে কাঠ পোড়ানোর পর ২০ কেজি করে কয়লা পাওয়া যেত। বাজারে যা ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় গ্রামবাসিরা জানান, দিন রাত এসব চুলায় কাঠ পুড়ছে। কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। চুল্লির আশপাশের বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টসহ গাছ পালাও বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। অপরদিকে কাঠ পোড়ানোর ফলে এলাকার গাছ পালা উজাড় হচ্ছে।

মাদারতলীর ফজলু সর্দারের মালিকানাধীন অবৈধ কাঠ কয়লা তৈরির চুল্লির শ্রমিক আলামিন জানান, এই চুল্লি দুটিতে প্রতি ১৫ দিন অন্তর ৫০ শত মন কাঠ পোড়ানো হয়। কাঠ পুড়িয়ে কালো কয়লা হলে তা বিক্রি হয় ঢাকায়। এই কয়লা দিয়ে শহরে রান্নার কাজসহ বিভিন্ন কারখানায় জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাথরঘাটায় সর্বমোট ৬টি কয়লা তৈরির কারখানা রয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি বাকি তিনটি কারখানাও খুব শীঘ্রই বন্ধ করা হোক।


প্রজন্মনিউজ২৪/এসএমএ

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ