বিশ্বে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্বর্ণের চাহিদা

প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২২ ০৯:০৪:৪৩ || পরিবর্তিত: ০৬ মে, ২০২২ ০৯:০৪:৪৩

বিশ্বে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্বর্ণের চাহিদা

স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা বেড়ে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে সর্বাধিক অবদান রেখেছে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডস (ইটিএফএস)। তবে সাধারণ গ্রাহক, স্বর্ণালংকার, বার ও কয়েনে চাহিদা কমেছে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার প্রভাব ধাতুটির দাম রেকর্ড সর্বোচ্চের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকেই হুমকির মুখে বিশ্ব অর্থনীতি। ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের খাত স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে লক্ষণীয় মাত্রায়। 

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মূল্যবান ধাতুটির বৈশ্বিক চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউজিসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই প্রান্তিকে স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফএসে ব্যাপক বিনিয়োগ এসেছে। এতে চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা ১ হাজার ২৩৪ টনে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের এটিই সর্বোচ্চ চাহিদা।

গত পাঁচ বছরের প্রান্তিকভিত্তিক স্বর্ণের গড় বৈশ্বিক চাহিদার পরিমাণ ১ হাজার ৩৯ টন। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের চাহিদা এর চেয়েও বেশি। 

ডব্লিউজিসি বলছে, সেভ হ্যাভেন খ্যাত ধাতুটির চাহিদার কারণে স্বর্ণের ইটিএফএসে প্রান্তিকভিত্তিক বিনিয়োগ প্রবাহ ছিল অনেক শক্তিশালী।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে লম্বা সময় ধরে যুদ্ধ চলতে থাকায় সংকট ও মূল্যস্ফীতি—দুইই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে গত মাসে ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৬৯ ডলার ৮৯ সেন্টে উঠে আসে। ২০২০ সালে ধাতুটির দাম রেকর্ড উচ্চতা পৌঁছেছিল। মার্চে বাজারদর রেকর্ড পর্যায়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল।

তথ্য বলছে, ৬ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখিতায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক শেষ করেছে স্বর্ণ। তবে গত বুধবার ধাতুটির দাম দুই মাসের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল। কারণ আগ্রাসীভাবে মার্কিন মুদ্রানীতি সংকোচনের প্রত্যাশায় এদিন ডলারের দাম বেড়ে যায়।

ডব্লিউজিসি জানায়, বছরের প্রথম তিন মাসে স্বর্ণের ছোট বার ও কয়েন কেনার হার ২০ শতাংশ কমেছে। মূলত চীনে নতুন করে লকডাউন আরোপ এবং তুরস্কে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের এ খাতে চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এদিকে, বিশ্বজুড়ে স্বর্ণালংকার কেনার পরিমাণও কমছে। ৭ শতাংশ কমেছে চাহিদা। বিশেষ করে শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীন ও ভারতে চাহিদায় মন্দা দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সরকারি গোল্ড রিজার্ভে ৮৪ টন স্বর্ণ যুক্ত করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৯ শতাংশ কম। তবে গত বছরের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ঠিক কবে নাগাদ ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফলে স্বর্ণের বাজার নিয়ে কোনো রূপরেখাই চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। তবে ডব্লিউজিসি জানায়, সংস্থাটির প্রত্যাশা পুরো বছরেই স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ছে। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহারকারীরা স্বর্ণ কেনা কমিয়ে দিতে পারেন।

প্রজন্ম নিউজ/নূর

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ