করোনার নতুন ধরন ‘নিওকোভের’ সন্ধান পেলেন গবেষকরা

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী, ২০২২ ১২:২৯:০৭

করোনার নতুন ধরন ‘নিওকোভের’ সন্ধান পেলেন গবেষকরা

দক্ষিন আফ্রিকার বাদুড়ের দেহ থেকে করোনার এই ধরন শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। ছবি: সংগৃহীতদক্ষিন আফ্রিকার বাদুড়ের দেহ থেকে করোনার এই ধরন শনাক্ত করেছেন গবেষকরা।

করোনাভাইরাসের নতুন একটি ধরনের সন্ধান পেয়েছেন চীনের উহানের গবেষকরা। যার বৈজ্ঞানিক নাম পিডিএফ-২১৮০-কোভ, তবে সাধারণভাবে এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিও কোভ’। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিন আফ্রিকার বাদুড়ের দেহ থেকে করোনার এই ধরন শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, মূল করোনাভাইরাস ও সেটির যতগুলো রূপান্তরিত ধরন এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে, সেসবের মধ্যে নিউকোভ সবচেয়ে সংক্রামক ও প্রাণঘাতী। এখনো কোনো মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

মজার বিষয় হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্বের দাবি অনুযায়ী চীনের উহানের সেই ল্যাব থেকেই প্রথম ছড়িয়েছে করোনা। সেই উহানের গবেষকরাই ভাইরাসটির আরও মারাত্মক একটি ধরনের সন্ধান পেলেন। এ বিষয়ে তারা একটি গবেষণা প্রতিবেদনও প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু তা এখনো পিআর রিভিউ হয়নি।

গবেষণায় বলা হয়, কয়েক বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে শনাক্ত হওয়া ভাইরাস মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (মের্স কোভ) ও করোনাভাইরাসের রূপান্তরিত ধরন বিটার সঙ্গে প্রচুর সাদৃশ্য রয়েছে নতুন এই ভাইরাস নিউকোভের।


উহানের গবেষকরা বলেছেন, ধারণা করা হচ্ছে- মের্স কোভ ও বিটার সংমিশ্রণে উদ্ভব ঘটেছে করোনার নতুন ধরন নিওকোভ ভাইরাসটির। এখন পর্যন্ত এটি কেবল বাদুড়ের দেহেই শনাক্ত হয়েছে, তবে কোভিডের মতো যদি বাদুড় থেকে মানবদেহে এই ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটে- সেক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় শুরু হবে।

এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে গবেষণা প্রতিবেদনে তারা বলেন, প্রথমত এই নিওকোভ মূল করোনাভাইরাস ও এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ভাইরাসটির রূপান্তরিত ধরনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সংক্রামক বলে প্রমাণিত হয়েছে।

তাছাড়া এই ভাইরাসটি অনেক বেশি প্রাণঘাতীও। মানবদেহে যদি এটির সংক্রমণ শুরু হয় সেক্ষেত্রে প্রতি ১০০ জন আক্রান্ত রোগীর ৩৫ জনেরই মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, নিওকোভ ভাইরাসটি পাওয়া গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বাদুড়ের দেহে। মানবসভ্যতার জন্য এটি কতোটুকু মারাত্মক তার জন্য প্রয়োজন গবেষণার। করোনাভাইরাসের এই ধরন নিয়ে উহানের গবেষণার বিশয়ে ওয়াকিবহাল আছে ডব্লিউএইচও। তাদের সঙ্গে সংস্থার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে।


প্রজন্মনিউজ২৪/আল-নোমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ