রংপুরে উপ-সহকারী পরিদর্শকের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী, ২০২২ ০৩:২১:১৯ || পরিবর্তিত: ২৮ জানুয়ারী, ২০২২ ০৩:২১:১৯

রংপুরে উপ-সহকারী পরিদর্শকের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

নাজমুল হাসান, রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় দিনের পর দিন বাড়ছে মাদক কারবারিদের সংখ্যা। মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রায় ১০৮৭ জন মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয়। 

বিভিন্ন হাটবাজার আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, চোলাই-মদের ব্যবসা বেড়েই চলছে। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, মারামারি, এমনকি খুনের মতো ঘটনা ও ঘটছে। দিনের পর দিন মাদক ব্যবসা বাড়ার কারন কি? এমন অনুসন্ধান করতে গিয়ে, দেখা যায় শষ্যের মধ্যেই ভূত? স্বয়ং যারা মাদকমুক্ত করবে সেই কর্মকর্তারা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মাসিক চাঁদায় চুক্তিবদ্ধ। ছোট বড় মাঝারি সব ধরনের মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে "মাদকদ্রব্য" নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (খ)সার্কেলের এক কর্মকর্তার সখ্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রায় ২০ জন মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কৌশলে কথা হলে, তারা প্রত্যেকে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তাদের ভয় নেই। প্রতি মাসে মাসিক চাঁদা দেওয়ায় অভিযানের আগে উপ-সহকারী পরিদর্শক নুর ইসলাম তাদের অভিযানের বিষয়ে আগাম ফোন দিয়ে জানিয়ে দেন। তিনি ফোন দিতে না পারলেও তার সোর্সরা যেসব মাদক কারবারি চুক্তিবদ্ধ তাদের মাধ্যমে আগাম বার্তা পৌছে দেন। এলাকা-ভিক্তিক চুক্তির বিষয়ে একাধিক কর্মকর্তা জড়িত বলে জানা গেছে।

এতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাজে সহযোগী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট আর পুলিশ সদস্যরা মাফিয়া আর গডফাদারদের ধরতে পারছেনা বরং যেসব নতুন মাদক ব্যবসায়ীরা নুর ইসলামকে চাঁদা দেয়না তাদের চুক্তিবদ্ধ করার কৌশল মাত্র।

কিভাবে মাসিক চাঁদা দেন, এ বিষয়ে জানতে গাঁজা ব্যবসায়ী আমিরন কে কৌশলে ফোনে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন প্রতিমাসের দশ তারিখের মধ্যে নুর ইসলাম ভাইয়ের বিকাশে টাকা দেই, দিতে না পারলে উনি বাড়িতে এসে নিয়ে যান। আরেক গাঁজা ব্যবসায়ী রুপালি বলেন, সে নিজে সহ মন্ডল, মিলি, তার মামাদের টাকা তুলে নুর ইসলামকে দেন? গোলাপ নামে এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ টাকা না দিলে, গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়ে মামলা দেয়, তাই প্রতিমাসে চাঁদা দেন? মোবাইলে মাসিক চাঁদা নেওয়ার কয়েকটি রেকর্ডিং প্রজন্ম নিউজ ২৪ প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে।

মাসিক চাঁদায় শুধু সীমাবদ্ধ নয়, এই মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, এমনকি সে একজন পেশাদার জুয়াড়ী। বাইক রেখে পেশাদার জুয়াড়ী আর গডফাদারদের সঙ্গে রাতের আধারে প্রতিদিন জুয়া খেলায় লিপ্ত থাকেন এই কর্মকর্তা। বিভিন্ন জুয়াড়ি বিষয়টি অবগত করেছেন। পাশাপাশি জুয়া খেলতে যাওয়ার পর বাইক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার বিষয়টি ও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। যার তথ্য প্রজন্ম নিউজ ২৪ প্রতিনিধির হাতে।
 
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উপ-সহকারী পরিদর্শক নুর ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৌশলে স্বীকার করার পর আঁতাত করতে না পেরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে ফোন দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন?

এ বিষয়ে জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুর জেলা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ মাসুদ হোসেন, প্রজন্ম নিউজ ২৪ মুঠোফোনে জানান, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। উনার বিষয়ে আমার জানা নেই।

সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান মৃধা প্রজন্ম নিউজ ২৪ কে জানান, আপনারা বিষয়টি একটু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান। যাঁরা এই অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইননত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রজন্মনিউজ২৪/সুইট

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ