শাবিপ্রবির সাবেক দুই ছাত্রকে তুলে নিলো কারা

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী, ২০২২ ০৫:৪৯:৪৩

শাবিপ্রবির সাবেক দুই ছাত্রকে তুলে নিলো কারা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাবেক দুই ছাত্রকে রাজধানী উত্তরা থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক ছাত্র শাহ রাজী সিদ্দিকী।

যে দুজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তারা হলেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র হাবিবুর রহমান (স্বপন)। তিনি বর্তমানে একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। অপরজন- স্থাপত্য বিভাগের ছাত্র রেজা নূর মুঈন। তিনি রেজা দেশের একটি খ্যাতনামা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে স্থপতি হিসেবে কাজ করছেন।

মঙ্গলবার সকালে শাহ রাজী সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, হাবিবুর রহমান তার সঙ্গে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে তাদের বাসায় থাকেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি ও তার পরিবার ঢাকায় হাবিবের স্থানীয় অভিভাবক। সোমবার বেলা তিনটার দিকে পুলিশ পরিচয়ে তিনজন হাবিবকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

রাজী গতকাল রাত নয়টার দিকে জানতে পারেন, হাবিবকে বহনকারী মাইক্রোবাসটি উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে আছে। তিনি তার (রাজী) মাকে নিয়ে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে গিয়ে মাইক্রোবাসের বাইরে হাবিব ও রেজাকে দেখতে পান। রেজা তার স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে রাজউক-উত্তরা আবাসিক এলাকায় থাকেন।

সেখানে পৌঁছে পুলিশ পরিচয়দানকারীদের কাছে রাজী জানতে চান, এই দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না। কেন তাদের উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? জবাবে বলেন, তারা সাইবার পুলিশের সদস্য। গ্রেপ্তারে তাদের কোনো পরোয়ানা লাগে না। ওই পুলিশ সদস্যরা জানান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিকাশে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন এই দুজন। সে জন্যই তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

যাওয়ার সময় ওই পুলিশ সদস্যরা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক কর্মকর্তার কার্ড দিয়ে যান। আজ শাহ রাজী সিদ্দিকী কার্ডে থাকা নম্বর ধরে এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি কেন ওই দুই প্রাক্তনীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শাহ রাজী সিদ্দিকী বলেন, তারা অসমর্থিত সূত্র থেকে খবর পেয়েছেন, ওই দুজনকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জালালাবাদ থানায় এর আগে যে ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।

শাহ রাজী সিদ্দিকী বলেন, হাবিবের পারিবারিক অবস্থা ভালো নয়। মা-বাবা টাঙ্গাইলে থাকেন। গতকালই জার্মানিতে যাওয়ার ভিসা হয়েছে। সেখানকার একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি হয়েছে হাবিবের। অন্যদিকে, রেজার সন্তান খুবই ছোট। তাদের এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বলেছেন, সিআইডি কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সিআইডির অপর একটি সূত্র বলেছে, সিলেটে ওই দুই প্রকৌশলীকে নেওয়া হতে পারে। তবে সিলেটের জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু খালেদ মামুন বলেন, এই নামে তারা কোনো আসামি গ্রেপ্তার করেননি। এখন পর্যন্ত ওই দুই প্রকৌশলীর নামে কোনো মামলার খবরও তাদের কাছে নেই।


প্রজন্মনিউজ২৪/সুইট

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন



আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ