কালের বিবর্তনে হাড়িয়ে গেছে চিঠি,  নেই আর ডাকপিয়নের ডাকাডাকি 

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী, ২০২২ ১২:৪১:২৪

কালের বিবর্তনে হাড়িয়ে গেছে চিঠি,  নেই আর ডাকপিয়নের ডাকাডাকি 

মনিরুল ইসলাম, চৌগাছা ( যশোর) প্রতিনিধি: এক সময় মানুষ চিঠির ওপর নির্ভরশীল ছিলো,ডাকপিয়ন ছিল মানুষের একমাত্র তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম। কিন্তু  কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। নেই আর ডাকপিয়নের ডাকাডাকি। ১৫ বছর আগেও ডাক বিভাগ ছাড়া চিঠি আদান-প্রদান অসম্ভব ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে হারিয়ে গেছে প্রেমপত্র আর ডাকপিয়নের ডাকাডাকি। 

এখন কম্পিউটার আর মোবাইলের যুগ। মানুষ যন্ত্রের মাধ্যমে সেকেন্ডের মধ্যে তার প্রিয়জনকে পত্র লিখে পাঠাতে পারছে। সকল  ধরনের সরকারি - বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও কম্পিউটার ও মোবাইলের মাধ্যমে করে থাকেন। পৃথিবীর এখন হাতের মুঠোয়।

দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চিঠি পৌঁছাতে ৩ থেকে ৪ দিন কিংবা এক সপ্তাহ সময় লেগে যেত। মানুষ প্রিয়জনদের খবর পেতে ডাকপিয়নের অপেক্ষায় বসে থাকতো। একজন ডাক পিয়নের দায়িত্ব ছিল অনেক। মানুষের অপেক্ষার অবসান ঘটাতেন তারা। সকাল হলে চিঠির বস্তা কাঁধে নিয়ে ছুটে যেতেন দ্বারে দ্বারে। প্রতিটি মানুষ তাদের পোস্ট অফিসের পিয়নের নাম জানতেন এবং যেখানেই তাদের সাথে দেখা হত, জিজ্ঞাসা করতেন, তার নামে কোনো চিঠিপত্র আছে কিনা।
একসময় পোস্ট অফিসগুলোতে ছিল মানুষের সমাগম। স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সবাই ছিল পোস্ট অফিসমুখী। 

যশোরের  ৬০ বছর বয়সী প্রবাসী আক্কাস আলী বলেন, আমি সৌদি আরবে দীর্ঘ দিন ছিলাম, ২০০০ সালে একেবারে দেশে চলে আসি। তিন থেকে পাঁচ বছর পর পর দেশে ছুটিতে আসতাম। স্ত্রী সন্তান আর বাবা-মার সাথে কথা বলার জন্য বুকটা ছটফট করতো। কথা বলার কোনো উপায় ছিল না। চিঠির মাধ্যমেই কুশল বিনিময় হতো, তাও আবার একটা চিঠি আসা-যাওয়া করতে সময় লাগতো ১৫ থেকে ২০ দিন। 

শহরতলীর  এলাকাসর আক্তার হোসেন, বলেন, তখনকার সময় আমাদের যশোর  জিপিও পোস্ট অফিসের অতিপরিচিত এবং চিরচেনা ডাকপিয়ন আব্দুল সালাম ভাই। শহরে  এমন কেউ নেই যে তাকে চেনেন না। সবাই তাকে সালাম ভাই বলে ডাকতেন। তিনিও এই শহরের অলিগলি এবং প্রতিটি মানুষ ও তার নাম জানতেন। 
সাংবাদিক আঃ রহিম বলেন, এখন আধুুনিক যুগ, প্রযুক্তি ব্যবহার করে গণমাধ্যমকর্মীরা সহজেই সংবাদের কাজ করতে পারছেন। মোবাইলের মাধ্যমে অল্প সময়ে সংবাদ লিখে নিজ অফিসে পাঠাচ্ছেন। কিন্তু এমন একসময় আমরা অতিবাহিত করেছি, তখন আধুুনিক কোনো প্রযুক্তি ছিল না। হাতে সংবাদ লিখে তা ডাকের মাধ্যমে অফিসে পাঠাতে হতো। তা আবার প্রকাশ হয়ে ডাকের মাধ্যমে আসতো। এখন মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারে নিজের হাতের লেখাটাও ভুলে গেছে। 


প্রজন্মনিউজ২৪/আল-নোমান

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ