সংসদের চলতি অধিবেশনে ইসি গঠনে আইন পাসের প্রচেষ্টা থাকবে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী, ২০২২ ০৫:২৮:১৬

সংসদের চলতি অধিবেশনে ইসি গঠনে আইন পাসের প্রচেষ্টা থাকবে: আইনমন্ত্রী

প্রজন্ম ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদের চলতি ষষ্ঠদশ অধিবেশনেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন পাস হতে চলেছে। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন-২০২২’-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। যা আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত চূড়ান্ত করে চলতি অধিবেশনেই ‘পাস করা হবে’ বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তবে ৫০ বছর পরে প্রণয়নের পথে প্রত্যাশিত আইনটি পাসে তাড়াহুড়ো নিয়ে তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল বুধবার প্রজন্মনিউজকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আইনটি আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে দ্রুত সংসদে উত্থাপন করব। সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ চলতি অধিবেশনে পাস করা হবে ইনশাল্লাহ।

তিনি জানান, সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে ইসি গঠনে একটি নির্দেশনা রয়েছে। সে নির্দেশনা মোতাবেক আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। সেখানে সার্চ কমিটি গঠন এবং তারপরে সার্চ কমিটিতে কারা কারা থাকবেন তার দিকনির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে আছে। মূলকথা এখনকার মতোই ‘সার্চ কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিধান রেখেই আইনটি পাস হবে।

সেক্ষেত্রে এবারো সার্চ কমিটির মাধ্যমে কি ইসি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি? এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, তাই তো হবে। এবারো সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য চার কমিশনার নিয়োগ দেবেন।

যা আছে আইনের খসড়ায় : এদিকে খসড়া আইনটির বিষয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে একটি বিধান আছে। যেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিতে পারেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আইন করা হচ্ছে।

 তিনি জানান, আইনের খসড়ায় আছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ দিতে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে এ অনুসন্ধান কমিটি হবে। 

এ কমিটির দায়িত্ব ও কাজ হবে যোগ্য প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করা। ছয় সদস্যের এ অনুসন্ধান কমিটির প্রধান হিসেবে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। আর সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্টের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিক। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটি যোগ্য প্রার্থীদের নাম সুপারিশের পর সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন। আইনটি চূড়ান্ত করতে বেশি সময় লাগবে না। কারণ, ছোট আইন, তাড়াতাড়িই হয়ে যাবে।

আইনের খসড়ায় শর্তাবলি : ওই পদগুলোতে নিয়োগের জন্য আইনের খসড়ায় যোগ্যতার কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে, প্রথমত যাদের নিয়োগ করা হবে তাদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ন্যূনতম বয়স ৫০ বছর হতে হবে এবং তৃতীয়ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি বা বিচার বিভাগীয় পদে ওই সব ব্যক্তির কমপক্ষে ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এসব যোগ্যতা থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার হতে পারবেন। তবে এ ২০ বছরের মধ্যে কোন পদে কত বছর থাকতে হবে, তার কিছু উল্লেখ নেই খসড়ায়।

আর এসব পদে নিয়োগে অযোগ্যতা হিসেবে বলা হয়েছে, দেউলিয়া ঘোষণা হওয়া, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকা বা আনুগত্য প্রকাশ করা (তবে দ্বৈত নাগরিক হলে হওয়া যাবে), নৈতিক স্খলন হলে এবং ফৌজদারি অপরাধে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত হলে এসব পদে নিয়োগ পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া কেউ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অবসরে গেলে আর সেই পদে নিয়োগ পাবেন না। তবে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অবসরে গেলে শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে।

এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার প্রজন্মনিউজকে জানান, ইসি গঠনে আইনটি নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আমার অনানুষ্ঠানিক কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আইনের খসড়াটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আগামী ২৩ তারিখ সংসদের চলতি অধিবেশন আবার শুরু হচ্ছে। শুরুর দুয়েক দিনের মধ্যে আইনটি মন্ত্রী সংসদে উপস্থাপন করবেন এবং এটি ১-২ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেরত পাঠানোর জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর আবেদন করা হবে। ওই সময়ের মধ্যেই আইনটি চূড়ান্ত করে আমরা সংসদে পাস করার জন্য তুলব। আশা করি, চলতি অধিবেশনেই আইনটি পাস হবে।

এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রত্যাশার ৫০ বছর পরে দেশবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত একটি আইন হতে যাচ্ছে। তাই হুট করে সরকার খুশিমতো সংসদে আইনটি পাস করে নেবে এটা হতে পারে না। এতদিন পরে, ৫০ বছর পরে সরকার কেন এ আইনটি করতে এত তাড়াহুড়ো করবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে? যদি আইনের খসড়াটি প্রকাশ করা হতো তাহলে প্রশ্ন উঠত না। মানুষকে, রাজনৈতিক দলগুলোকে মতামত দেয়ার সুযোগ দিতে হবে। কেন এটা প্রকাশ করা হচ্ছে না, কেন জনগণের পরীবিক্ষণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না?

তিনি বলেন, সার্চ কমিটি কয়েকজন ব্যক্তি কোনো মাপকাটির ওপর নির্ভর করে নিযুক্ত হবেন এবং তারাও বা কোন মাপকাঠির ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নাম তালিকাভুক্ত করবেন তা সুষ্পষ্ট করতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার জন কমিশনার, রাষ্ট্রপতি যাদের নিযুক্ত করবেন তাদের যোগ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইসি গঠনে আইন করা সাংবিধানিকভাবে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটি আরো আগেই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগেই সরকারের একাধিক মন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এবার আইন করার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই। আমাদের পক্ষ থেকে একটি খসড়াও আমরা দিই। এখন নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের এক মাস আগে তড়িঘড়ি করে আইন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনের খসড়ায় কি আছে তা প্রকাশ করা হলো না। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে একটি সত্যিকারের কার্যকর ইসি গঠন করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে। সে হিসেবে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার কমিশনার হিসেবে কারা নিয়োগ পেলেন তা ঘোষণা করতে হবে রাষ্ট্রপতিকে।


প্রজন্মনিউজ২৪/সুইট

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ