অভিনেত্রী শিমু হত্যার রহস্য উদঘাটন

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী, ২০২২ ০২:৫৯:১৭

অভিনেত্রী শিমু হত্যার রহস্য উদঘাটন

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে থাকা শিমুর স্বামী খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা ইতোমধ্যে যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ওই তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে মামলাটি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সে সব তথ্য প্রকাশ করতে চাইছে না পুলিশ

এ দিকে ময়নাতদন্ত শেষে শিমুর লাশ ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টায় গ্রিন রোডের স্টাফ কোয়ার্টারে নামাজে জানাজা শেষে সাড়ে ৯টার দিকে তাকে দাফন করা হয় বলে জানান তার ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন।

শিমু হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য নতুন দায়িত্ব পাওয়া কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে নোবেল ও ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হয়। এরপর তাদের আলাদাভাবে আবার এক সাথে করে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসব জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামিদের কাছ থেকে বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া যায়। তবে তদন্তের স্বার্থে সেটি এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার গ্রিনরোড এলাকার বাসায় থাকতেন ৪০ বছর বয়সী শিমু। সোমবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের হজরতপুর সেতুর কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশে তার বস্তাবন্দী লাশ পাওয়া যায়। ‘দাম্পত্য কলহের জের ধরে’ নোবেল তার স্ত্রীকে হত্যার পর বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদের সহায়তায় লাশ গুম করে। নোবেল ও ফরহাদকে গ্রেফতারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) হাসপাতালে মঙ্গলবার দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ বলেন, নিহতের গলায় স্পষ্ট কালো দাগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রশি বা কোনো কিছু দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ভিসেরা (অভ্যন্তরীণ কিছু অঙ্গ) সংগ্রহ করা হয়েছে।

শিমুর ভাই খোকন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে রাতে লাশ দাফন করেন।

কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে ১৯৯৮ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে বরগুনার আমতলীর মেয়ে শিমুর। পরের বছরগুলোতে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চাষী নজরুল ইসলাম, শরিফ উদ্দিন খান দিপুসহ আরো বেশ কিছু পরিচালকের প্রায় ২৫ সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায় তাকে। শাকিব খান, অমিত হাসানসহ কয়েকজন তারকার সাথেও কাজ করেছেন।

শিমু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহযোগী সদস্য ছিলেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কয়েকটি টিভি নাটকে অভিনয় এবং প্রযোজনাও করেছেন। সম্প্রতি এনটিভিতে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’-এ অভিনয় করে এই প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও পরিচিতি পেয়েছেন।


প্রজন্মনিউজ২৪/সুইট

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন





ব্রেকিং নিউজ